স্বামীকে একই সাথে ভালোবাসি এবং ঘৃণা করি…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী লিখেছেন 

আমি এর আগেও আমার একটা ব্যাক্তিগত সমস্যা লিখছিলাম, তবে আজ একটা মানসিক সমস্যার কথা লিখব। যতটুকু পারেন সাহায্য করবেন। এর আগে লিখছিলাম ৫ বছর আগে আমি আম্মুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিয়ে করি, কিন্ত বিয়ের পর মানুষটাকে অনেক ভালোবেসে ফেলি, এতটাই যে নিজের থেকে ওর অস্তিত্বই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জানি না ও আমাকে কতটুকু ভালবাসে, বা বাসত।কিন্ত কেয়ার করত এতটুকু বুঝতাম। কিন্ত ওর সমস্যা একটাই ওর জীবনে, পরিবারে যে সমস্যা হবে তার জন্য আমাকেই দায়ী করে। তখন খুব কষ্ট হয়। ওকে ছাড়ার চিন্তা আমি কখনো করি না। কিন্তু আমার প্রেগন্যান্সির সময় ও আমাকে এমন কিছু কষ্ট দেয়,যার ফলে ওর উপর আমার অভিমান বাড়তে থাকে,যা সময়ের সাথে ঘৃনায় পরিনত হয়।

আমি এমন সময় এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যে একটা মানুষ কে একই সাথে ঘৃণা করি, আবার সমান ভাবে ভালোবাসি। ওকে আমি কখনোই ছাড়তে পারব না। আবার মনে হয় ওর সাথে থাকতেও পারব না। আমার বিপি কখনোই ১৫০/৯০ এর নিচে থাকে না। এর আগে বিপি ২৮০/১৮০ হয়ে হাসপাতালে ছিলাম ১ মাস। আমি আমার কষ্ট কারো সাথেই শেয়ার করতে পারি না,দিন দিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এত ঘৃণা নিয়ে বাকি জীবন কীভাবে কাটাব, আবার দুরে সরেও আসতে পারব না। কারণ আমার মা, আর ওকে আমি ভালোও তো বাসি।

আমি কী করব,আমি কি পাগল হয়ে যাব? আমি যে শহরে থাকি সেখানে কোন সায়ক্রিয়েটিস্ট নেই। মেয়ে আছে ৩ বছর এর একটা, আমার কী করা উচিত।

 

পরামর্শ  :

দেখুন আপু, আপনার এই মানসিক অবস্থার জন্য আপনি নিজেই দায়ী। আপনি জীবনে সবকিছু একসাথে চাইছেন, যা আসলে কখনো পাওয়া সম্ভব না। আপনি এই স্বামীকে চাইছেন, আবার তাঁর সাথে সুখীও হতে চাইছেন, আবার চাইছেন যে ডাক্তার না দেখিয়েই মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে। এতকিছু তো একসাথে পাওয়া সম্ভব না। জীবনে অনেক কিছুই আছে যা কখনোই একসাথে পাওয়া সম্ভব না। কেউ পায়নি, কেউ পাবেও না। কিছু পাওয়ার জন্য কিছু ছাড়তেই হবে।

আমার মনে হয় আপনার সবচাইতে বড় প্রতিবন্ধকতা আপনি নিজেই। আপনার আগের চিঠির কথা আমার মনে আছে। আপনি নিজেই নিজেকে নানান রকম এটা সেটা দিয়ে আটকে রেখেছেন। আপনার কাছে সবই “পারব না”, “হবে না”, “সম্ভব নয়”। এমন একটা শহরে থাকেন যেখানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই, এটা কোনই কথা হলো না। ছোট শহরে না থাকলে জেলা শহরে আছে। সেখানে না থাকলে বিভাগীয় শহরে অতি অবশ্যই আছে। আর ঢাকাতে তো আছেই। চিকিৎসা প্রয়োজন হলে সেটা নেবেন না?

স্বামীকে নিয়ে, নিজের জীবনকে নিয়ে আপনার অভিযোগের শেষ নেই আপু। কিন্তু যেহেতু এই জীবনেই থাকতে চান, সেহেতু অভিযোগ বাদ দিয়ে মেনে নিতে শিখুন। আর হ্যাঁ, আপনার যা অবস্থা তাতে আমার সিরিয়সলি মনে হচ্ছে আপনার ডাক্তারের সাহায্য প্রয়োজন। নতুবা আপনার কারণে আপনার বাচ্চাটিও ক্ষতি গ্রস্থ হবে।

একটা জিনিস মনে রাখবেন, জীবনে সামনে যাওয়ার জন্য পেছনে যা হয়েছে তা ভুলে যাওয়া খুব জরুরী। তবে ভুলে যাওয়ার আগে শিক্ষা অবশ্যই গ্রহণ করতে হয়।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top