ননদ ৩ নম্বর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছে আর স্বামী-শাশুড়ি মিলে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার বিয়ে হয় সম্পূর্ণ পারিবারিক ভাবে চার বছর আগে।আমার শাশুড়ি অত্যন্ত সুকৌশলী। তিনি কখনো চাননি আমি সংসারের কোন ব্যাপারে কথা বলি, এমন কি কোন কাজে বা জিনিসে হাত দেওয়াও তার পছন্দ না।

মামনি বলে ডাকত আর সুন্দর ব্যবহার করত সবার সামনে। শুধু আমার সামনে তার স্বরূপ প্রকাশ পেত। স্বামীর সাথে আমার কোন দ্বন্দ্ব ছিলনা প্রথম দিকে। কিন্তু আমার মেয়ের জন্মের পর থেকে আমার শাশুড়ি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমার স্বামী মায়ের অন্ধভক্ত।আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে স্বামীর সাথে আমার সম্পর্কটা তিক্ত করে দেয়।

আস্তে আস্তে স্বামী আমার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করা শুরু করে এবং গায়ে হাত তোলে। উল্লেখ্য আমার ননদের প্রথম পক্ষের মেয়ে আমাদের সাথে থাকে। ননদ চরম স্বেচ্ছাচারী। তিন নং স্বামীকে ত্যাগ করে এখন কী করছে জানিনা। তারই বারো তের বছরের মেয়েকে আমার স্বামী-শাশুড়ি পরম আদরে চরম উশৃঙ্খল ভাবে বড় করছে। স্বামীকে অনেক বুঝিয়েছি ভাগ্নিকে একটু শাসন করতে, নইলে মায়ের পথে যাবে। আমাদের মেয়ের উপর প্রভাব পড়বে। কোন লাভ হয় নি। বরং হিতেবিপরীত হয়েছে।

যাহোক একটা সময় আমি বাধ্য হই নয় মাসের মেয়ে কে নিয়ে ঘর ছাড়তে। মেয়ের বয়স এখন প্রায় দু বছর। আমি মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারে। মায়ের কাছে আছি। আমার স্বামীর কথা তার মায়ের মন মত চলতে হবে আমাকে।

আপু, আমার সন্তানের প্রতি ওর এমন অবহেলা আমি কিছুতেই মানতে পারছি না। একই এলাকাই আমরা থাকি, অথচ আমার মেয়ে তার বাবাকে চেনেনা। বাবারও কোন মাথা ব্যথা নেই। যদিও আমার সন্তানকে আমি একটা সুস্থ, ভালবাসা পূন্য পরিবেশে বড় করছি, কিন্তু বাবার অভাব? আমার স্বামীকে আমি খুব ভালবাসি। ওর দোষের পাশাপাশি অনেক গুনও আছে। ডিভোর্স এর কথা আমি ভাবতেই পারিনা। আবার মেয়ের প্রতি ওর আচরণ আমাকে প্রচন্ড কষ্ট দেয়।

আমার এখন কী করা উচিৎ আপু বলেন প্লিজ।”

পরামর্শ:

আমাকে একটা কথা বলেন আপু, কেউ যদি আপনার সাথে থাকতে না চায়, আপনি তাঁর সাথে কীভাবে থাকবেন? কেউ যদি আপনাকে ভালবাসতে না চায়, আপনি তাঁর ভালোবাসা কীভাবে পাবেন? নিজেই বলছেন “আমার মেয়ে”, আবার নিজেই বলছেন মেয়ের প্রতি তাঁর অবহেলা আপনি মানতে পারছেন না। এটা তো স্পষ্ট যে নিজের মেয়ের প্রতি স্বামীর কোন টান বা আগ্রহ কিছুই নেই। ব্যাপারটি মনে হয় পারিবারিক, কারণ আপনার ননদও তো একই রকম। সে যাই হোক, আমার কাছে অন্তত মনে হচ্ছে যে আপনার স্বামীর আপনার বা সন্তানের প্রতি কোন আগ্রহ নেই। আরেকটা কথা আপু, একটা মানুষের যতই গুণ থাকুক, সে কানকথা শুনে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে, এর চাইতে বড় দোষ আর হতে পারে না। স্ত্রী যত বড় অপরাধই করুক, তাঁর গায়ে হাত তোলা যায় না। স্বামী অপরাধ করলে কি আপনি স্বামীর গায়ে হাত তোলেন? তাহলে স্বামী কেন আপনার গায়ে হাত তুলবেন? আমি বুঝতে পারছি না একজন শিক্ষিত নারী হয়ে আপনি কীভাবে এই ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে পারেন।

যেহেতু ডিভোর্সের কথা ভাবতে পারেন না, সেহেতু একটাই উপায় আছে। সেটা হলো স্বামী যা বলে মেনে নেয়া। স্বামীর যদি আপনার প্রতি আগ্রহ থাকত, তাহলে শর্ত দিতে পারতেন। যেহেতু সেটা নেই, স্বামী আপনাকে নিজ থেকে নিতেও চায় না, সেহেতু আপনাকেই আগ বাড়িয়ে সব মেনে নিতেই হবে। ননদ বা তাঁর মেয়ের ব্যাপারে কিছু বলবেন না। শাশুড়িকেও ঘাঁটাবেন না। চুপচাপ নিজের মত থাকবেন। পারলে চাকরি বাকরীতে ঢুকে যাবেন। ব্যস্ত থাকলে সমস্যাও কম হবে। যদিও আমি বুঝতে পারছি না এভাবে জোড়াতালি দিয়ে আসলেই সুখী হতে পারবেন কিনা। মা বোনকে নিয়ে কিছু না বললে হয়তো স্বামীর ভালোবাসাও ফিরে পাবেন। তবে নিজের মেয়েটার খেয়াল রাখবেন, সে যেন বেয়াড়া হয়ে যেতে না পারে।

ভালো থাকুন আপু, শুভকামনা।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top