বান্ধবী আমাকে বিয়ের জন্য একটি ছেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়.

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার একজন বান্ধবী  বিয়ের জন্য একজনের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়। আমি একজন স্কুল শিক্ষক। সে খুব বড় চাকরি করে। গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আমি। পরিচয় এবং কথা বলার এক পর্যায়ে আমি তাকে খুব বেশি মিস করতে থাকি। সে তা বুঝতে পারে এবং আমি তার দিক থেকে অনেক আকর্ষণ অনুভব করি।

খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টা ভালোবাসায় রূপ নেয়। আমি তাকে খুব ভালোবেসে ফেলি। সেও বলে ভালোবাসে। আমি তাকে আমার মন থেকে বিশ্বাস করি। তার বলা প্রতিটা কথা আমি অন্ধের মত বিশ্বাস করি। কিন্তু সে আমাকে তিল পরিমান বিশ্বাস করে না। আমার বলা সত্য কথা নিয়েও সে সন্দেহ করে। আমাকে বাজে মন্তব্য করে। সে আমার পরিবারকে অপছন্দ করে। আমি পরিবারের জন্য কিছু করি তা তার পছন্দ নয়। সে আমার চাকরিটাও পছন্দ করে না। বলত চাকরি পরিবর্তন করতে বা ছেড়ে দিতে। ভালোবাসার টানে আমি চাকরি ছাড়ার কথাও ভাবি। আমি তাকে রাত ১:০০ সময়ও ফোনে কথা বলতে দেখলে বলত কাজের কথা ছিল, আমি তাই বিশ্বাস করতাম। কিন্তু আমাকে মাসে একমিনিট ফোনে কথা বলতে পেলেও সে খুব রাগ করত, বকাবকি করত। অতিরিক্ত ভালোবাসা ভেবে আমি আমার সহপাঠী,সহকর্মী, এমন কি পরিবারের যে সদস্য দূরে আছে সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। কিন্তু তাতেও তার সন্দেহ কমে না। আমাদের পরিচয় মোবাইলে এবং আমাদের সরাসরি দেখা না হওযায় আমি দেখা করতে চাইতাম এবং সে এড়িয়ে যেত। দেখা করার কথা বললে সে আমাকে তার কাছে যেতে বলত যা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

যাই হোক অবশেষে তার সাথে আমার ঘন্টা দুয়েকের জন্য দেখা হয়। আমরা একটা রেস্টুরেন্টে গল্প করি। সে বলে আমি ছাড়া কোন মেয়ের সঙ্গে সে কথা বলে না, ফেসবুকে চ্যাট করে না। কিন্তু একথাগুলো আমি মিথ্যা প্রমাণ করি। ফেসবুকে একদিনের পরিচয়েই সে সব মেয়েকেই ফোন নম্বর দেয়। আমাকে বলে ক্লান্ত কিন্তু সারারাত ফেসবুকে অন্যের সাথে ভালোবাসার চ্যাটিং  করে। আমার MBS পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে আমি সম্পর্ক ভাঙতে বাধ্য হই। সে আমাকে যাচ্ছেতাই ভাষায় অপমান করে। আমি অনেকটা পাগলের মত হয়ে যাই। পরীক্ষা ছেড়ে দেব ভাবছিলাম। কোন ভাবেই পড়া করতে পারছিলাম না। দু একজন বন্ধু যারা বিষয়টি জানত তাদের অনুপ্রেরণায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি।

কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমি মাঝেমাঝে তাকে ফোন দেই সে খুব বাজে ব্যবহার করে। আমি জানি সে কখনো আমাকে বিন্দুমাত্র ভালোবাসেনি। সে আমার সাথে অভিনয় করেছে। কিন্তু আমি যে কোন ভাবেই নিজেকে সামলাতে পারছি না। কী করব আমি?”

পরামর্শ:
আপু, আপনি একদম ঠিক কাজ করেছেন। আপনি একজন শিক্ষিকা হয়ে এমন প্রতারক ও চরিত্রহীন একটা ছেলের কাছে কেন বারবার ছোট হবেন? আপনি কী একবারও ভেবে দেখেছেন যে ছেলেটি আপনার ব্যাপারী কী ভাবে? সে মনে করে সে অনেক বড় চাকরি করে আর আপনি মধ্যবিত্ত একজন শিক্ষিকা বলেই তাঁর পেছনে পাগল হয়েছেন। এই জন্যই সে এত তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে আপনাকে।

সম্পর্ক আপনি ভেঙেছেন, মাথা উঁচু আপনারই থাকা উচিত। আপনি যে কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাঁকে ফোন দিচ্ছেন, একবারও কি ভাবছেন যে সে তো আপনার জন্য কষ্ট পাচ্ছে না। সে ভাবছে আপনি তাঁর অর্থের লোভে তাঁকে যোগাযোগ করছেন। একবার ভেবেছেন কত ছোট ভাবছে সে আপনাকে? সে যদি আপনার কষ্ট কমই করতে পারত, তাহলে কি তাঁর সাথে সম্পক টিকে থাকত না আপনার?

আপনি নতুন বন্ধু তৈরি করুন, তাঁদের সাথে গল্প গুজব করে সময় কাটান। বাড়তি কোন কাজে নিজেকে যুক্ত করুন। মানসিক অবস্থা খুব এলোমেলো মনে হলে চিকিৎসকের সাহায্য নিন। নিজের ক্যারিয়ার মজবুত করে ভালো একটি চাকরির জন্য তৈরি হন। জীবনে সফলতা পেলে কোন কষ্টই আর কষ্ট মনে হবে না। আর ওই ছেলেটির নম্বর ডিলিট করুন ও ব্লক করে দিন। যেন চাইলেও আপনি তাঁকে আর কল দিতে না পারেন।

 

নিজেকে সময় দিন আপু। সময়ের সাথে সব কষ্টই ফিকে হয়ে যায়। তাছাড়া প্রতারকের জন্য কীসের কষ্ট!

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top