আমার মেয়েটা অন্য মেয়েদের মত সুস্থও নয়…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“ডিভোর্স দেয়াটা ভালো কোনো সিদ্ধান্ত হবে কি না বুঝতে পারছি না। ছোটবেলায় আমি মাকে হারাই। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বাবার সাথে সম্পর্কে একটা ফাঁকা স্থান সৃষ্টি হয় কারণ তিনি নতুন পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমার বেশিরভাগ সময় কাটে নানাবাড়িতে। তিন ভাই বোনের মাঝে আমি একা বোন এবং সবার ছোট। আমার বড় ভাইয়েরা বিদেশ থাকে, আমাকেও নেওয়ার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু আমি বিয়ে করে ফেলায় তা আর হয়নি।

আমি আমার পছন্দে এবং পালিয়ে বিয়ে করি।
বিয়ের পর আমার পরিবারের সাথে সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যায়। ২০০৪ সালে যখন আমার বিয়ে হয় তখন আমার স্বামী পড়াশোনা করত কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায় ঢুকে পড়েন। অপরদিকে, বিয়ের পর আমি স্নাতক শেষ করি এবং জব করি। ২০১০ সালে আমি মা হই। ধীরে ধীরে আমার স্বামী আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে, আমাকে মারধর করে এবং সন্দেহ করা শুরু করে। তার ব্যবসাও আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। আমি বেশ কয়েকবার নিজের বাসায় চলে আসি এবং ডিভোর্স দিবো ভাবি। কিন্তু সে প্রতিবার পায়ে ধরে মাফ চায় আর আমিও আবেগপ্রবণ হয়ে চলে আসি। তার কাছে বারবার ফিরে আসার আরেকটা কারণ আমার পরিবার আমাকে অনেক কথা শুনাতো এবং তারা আমার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। তাছাড়া আমার মেয়েটা অন্য বাচ্চাদের মত শারীরিকভাবে সুস্থও নয়।

বর্তমানে আমি আমার শ্বশুর শাশুড়ির সাথে আছি। তারা আমার এবং সন্তানের দুজনেরই যত্ন নেন বা আমাদের ভালোবাসেন। কিন্তু টাকার বেশ সমস্যা হয়। আমি জব করে পুরো সংসার চালাই। শ্বশুর কিছু টাকা দেন। কিন্তু আমার স্বামী কোন কাজই করে না। টাকা না থাকায় নেশাও বন্ধ তবুও সুযোগ পেলেই মাঝে মঝে ড্রাগ নেয়। আমি স্বামীর সাথে মোটেও সুখী নই। কিন্তু ডিভোর্স দেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে কিনা বুঝতে পারছিনা। কারণ ডিভোর্স দিলে ওরা আমার বাচ্চার খরচ দিবে না। আর যেহেতু সে স্পেশাল চাইল্ড, তাই ওর স্পেশাল কেয়ারের জন্য বেশ খরচ লাগে। এমতাবস্থায় আমি করবো বা কি করা উচিত কিছুই বুঝতে পারছিনা।”

পরামর্শ:

আপু, ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্তটা মন শক্ত করে নিয়েই ফেলা যেত, যদি আপনার বাচ্চাটি স্পেশাল চাইল্ড না হতো। আপনি যেহেতু নিজে উপার্জন করে সংসার চালান, সেহেতু টাকার অসুবিধা আপনার হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আপু, যেহেতু আপনার বাচ্চাটি স্পেশাল চাইল্ড, আপনার একার পক্ষে চাকরি ও বাচ্চা দুটি একসাথে সামাল দেয়া খুবই কঠিন। যেহেতু নিজের পরিবার থেকে আপনি বিচ্ছিন্ন, সেহেতু এক্ষেত্রে শ্বশুর শাশুড়ি একটা বড় সাপোর্ট। তাছাড়া তাঁরা আপনাকে ও মেয়েকে ভালোবাসেন, এটাও অনেক বড় একটা ব্যাপার।

অন্যদিকে এটাও সত্যি যে একটাই জীবন। সেই জীবনে অসুখী হয়ে বেঁচে থাকার কোন মানে নেই। আমার মনে হয় আপু আপনি শেষ একটা চেষ্টা করুন। আপনার স্বামীকে ভালো করে চিকিৎসা করিয়ে আসক্তি দূর করার চেষ্টা করুন। তাঁর পরিবারের সাথে কথা বলেও স্বামীর একটা কর্মসংস্থান করা যায় কিনা দেখুন। সংসারে অর্থ কষ্ট অনেক বড় বিষয়। আর স্বামী বেকার হলে সম্পর্কটাও আস্তে আস্তে নষ্ট হতে থাকে।

শেষ একটা চেষ্টা করে দেখুন আপু। তারপরও যদি কিছুই না হয়, তাহলে ডিভোর্সের সিদ্ধান্তটা নিতে পারেন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top