হবু স্বামীর অনুপস্থিতিতে বয়স্ক একজনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি জানিনা যে কথাগুলো আজ আমি বলতে যাচ্ছি এসব শুনে আমাকে কে কী ভাববে। তবুও আজ আমি বলতে চাই। কারো কাছে বলতে না পেরে আমি ভেতরে ভেতরে অশান্তিতে ভুগছি। আমার আর আমার স্বামীর ভালোবাসার বিয়ে। ৪ বছরের সম্পর্ক আর দেড় বছর হল বিয়ে হয়েছে। আমরা বেশ সুখে আছি কিন্তু আমার অতীত আমাকে মানসিক ভাবে অশান্তিতে রেখেছে। ধরে নিন আমার স্বামীর নাম নীল আর প্রেমিকের নাম মেঘ।

যখন আমি একাদশ শ্রেনীতে পড়ি তখন ওর সাথে মানে নীলের সাথে আমার পরিচয় হয়। আমাদের বয়সের তফাৎ ৬ বছর। আমাদের সম্পর্ক খুব বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলো এবং একসময় আমাদের গভীর সম্পর্ক হয়। ঠিক সে সময় আমার পরিচয় হয় মেঘ নামের আরেকজনের সাথে। সে আমার চেয়ে ১৪ বছরের বড়। মেঘের সাথে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়। আমরা প্রায় ই ফেসবুকে চ্যাট করতাম তবে তাকে আমি সিনিয়র বন্ধু ছাড়া অন্য কিছু ভাবিনি। একটা সময় নীলের সাথে আমার দেখা করার হার কমে যেতে লাগলো, একটা দূরত্ব তৈরী হল। আমি ঠিক করলাম ব্রেকআপ করে ফেলবো। তখন মেঘ আমাকে বলল যে হ্যাঁ, নীল আমাকে ডিসার্ভ করেনা। এর মাঝে একদিন নীল এসে আমাকে বলল, যে সে মাদকাসক্ত হয়ে গেছে আর একটা বড় অন্যায় করেছে। তা হল নেশার ঘোরে বন্ধুদের সাথে একটা মেয়ের সাথে রাত কাটিয়েছে।

নীল আমাকে অনেক বিশ্বাস করতো, এমন কি এখনও করে। কারণ আমার তেমন কোন বন্ধু ছিলোনা বললেই চলে। যে কোন কারণেই হোক তখন আমাদের ব্রেকআপ টা আর হয়নি। তবে ওর সেই ভুলের জন্য আমি কখনই ওকে মন থেকে ক্ষমা করতে পারি নাই। পরে নীল ঢাকায় চলে যায় জব করতে আর আমরাও বাসা বদলে ফেলি। আমরা দোতালায় থাকি আর সৌভাগ্যক্রমে মেঘ সে বাসার তিনতলায় ভাড়া নেয়। আমাদের প্রতিদিন দেখা হত, কথা হত। আমাদের বন্ধুত্ব আগে চেয়ে আরো বেশি ভালো হয়ে গেল। এর মাঝে নীলের সাথে একদিন আমার খুব ঝগড়া হয়। উল্লেখ্য আমরা প্রতিদিন ছাদে দেখা করতাম, সন্ধ্যার আড্ডা দিতাম। আমি মেঘকে, নীলের সাথে ঝগড়ার কথা বলি। মেঘ আমাকে জড়িয়ে ধরে আর আমি খুব কাঁদি। সেদিন থেকেই আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্ব থেকে আরো গভীর হয়ে গেল।

আমি মেঘের প্রতি ভীষণ দুর্বল হয়ে গেলাম। একদিনও উনাকে না দেখে, উনার সাথে কথা না বলে থাকতে পারতাম না। একটা সময় দেখা করতে করতে আমাদের মাঝে একটা বাজে সম্পর্ক হয়ে যায়। জানিনা কেন নিজেকে সামলাতে পারিনি। সেদিন অনেক কেঁদেছি এই ভেবে যে আমি নীলের সাথে অন্যায় করলাম। অন্যায়বোধ কাজ করায় আমি মেঘের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেই। এর মাঝেই আমার আর নীলের পরিবার থেকে আমাদের বিয়ে ঠিক করা হয়।

সবই ঠিক ছিলো কিন্তু যখন বিয়ের দিন এগিয়ে আসলো তখন আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম। মেঘকে বলার পরও উনার কোন প্রতিক্রিয়া দেখলাম না। আমি এক সময় উনাকে বললাম যে আমি নীলকে বিয়ে করতে পারবোনা কারণ আমি উনাকে মন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি। উনি কেবল এটাই বলেছিলো যে তুই বিয়েতে রাজী না হলেই হয়। কিন্তু ফ্যামিলিকে বাঁধা দেয়ার মত কোন কারণ আমার কাছে ছিলোনা। তারপর মেঘ আমাকে বলল, “বিয়ে কর নীলকে। আমি আছি তোর পাশে আজীবন”। আমি আমার ভুল বুঝতে পারলাম। যেদিন আমার গায়ে হলুদ সেদিন আমি নীলকে সব বললাম যা যা হয়েছে। কেবল মেঘের নাম টা বললাম না। নীল আমাকে এতটাই বিশ্বাস করতো যে এসব বলার পরও ও কিছুই বিশ্বাস করেনি। ও ভাবলো ওর ভুলের জন্য আমি কষ্ট পেয়েছি বলে বিয়ে না করার অজুহাত খুঁজছি।

বিয়ের দিনও আমি নীলকে বলি চলেন পালায় যাই কারণ আমি নীলের সাথে সুখী হবনা। যেখানে আমার আপনার সাথে সব হয়েছে সেখানে আমি কীভাবে নীলকে মেনে নিবো? উনি কিছুই বলেনা। কেবল বলে তুই কবুল বলবি না। দেখতে দেখতে আমার বিয়ে হয়ে যায়। প্রথম রাতে নীল আমাকে বলে ওর সেই ভুল ভুলে গিয়ে নতুন করে সব শুরু করতে আর ততদিনে নীলও সব ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে যায়। বিয়ের পর আমরা সুখেই আছি কিন্তু ঐ অপরাধবোধ আমাকে মানসিকভাবে খুব কষ্ট দিচ্ছে। বিয়ের পর মেঘ অনেকবার আমার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছে কিন্তু আমি করি নাই। উনাকে কোনভাবেই আমার কাছে আসতে দেইনি। আগে কল দিয়ে কেমন আছে? কি করছে এসব জানতাম কিন্তু বিয়ের দুই মাস পর উনি আমাকে বলে নীলকে ডিভোর্স দিতে। তারপর থেকে আর তেমন কথা বলিনা। গত ৩ মাস হল উনি বিয়ে করেছেন এবং উনার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট।

এসব জানার পরও কি উনার সাথে আমার কথা বলা উচিত? নীল আমাকে খুব ভালোবাসে কিন্তু উনাকে আমি কিছুতেই ভুলতে পারছিনা। এমনকি নীল কাছে এলে আমি উনাকে ফিল করি। ঐ সময়গুলোর কথা মনে পড়ে। শরীর নীলের কাছে থাকলেও মন উনার কাছে থাকে। কিছুতেই উনাকে ভুলতে পারছিনা। সম্ভবত আমি এখনও সেই সময়গুলোতে আটকে আছি। আমি উনাকে ভুলতে চাই। নীলকে নিয়ে সুখী হতে চাই। কী করবো?”

পরামর্শ:

আপু, আপনি নিজের জীবনে এমন একটা অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে সামান্য একটু ভুল আপনার জীবনটাই নষ্ট করে দেবে। আপনার সকল সুখের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেবে। আর তাই, যা করবেন খুব বুঝেশুনে করবেন।

প্রথমেই বলে রাখি, মেঘ নামের সেই লোকটি আপনাকে মোটেও ভালোবাসে না। এক বিন্দুও না। সে কেবল আপনাকে ইউজ করেছে, আপনার সাথে সময় কাটিয়েছে। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, নিজের গর্ভবতী বউকে ফেলে যে পুরুষ আরেকটি মেয়েকে উসকানি মূলক কথাবার্তা বলে, সে কি আসলে ভালো মানুষ? আপনার স্বামী এমন করলে কেমন লাগত আপনার? আরও বড় কথা, সে আপনাকে ভালবাসলে আরেকজনকে বিয়ে করতে বলত না, কখনোই না। বিষয়টি এমন যে এখন আপনি আপনার স্বামীর সাথে ভালো আছেন, এটা তার সহ্য হচ্ছে না। আপনার শান্তি নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। শুধু তাই না, তিনি যদি আপনাকে ভালোই বাসতেন, তাহলে চাইতেন স্বামীর সাথে আপনি ভালো থাকেন। ডিভোর্স দিতে বলতেন না। অন্তত আমার সেটাই মনে হয়।

আপু, আপনি যেটায় আটকে গিয়েছেন, সেটা মোহ। ভালোবাসা না। শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যাবার ব্যাপারটিকে আপনি অনেক বড় ভাবে নিচ্ছেন। এভাবে ভেবে দেখুন, আপনার স্বামী একটা ভুল করে ফেলেছেন আর আপনিও করে ফেলেছেন। হিসাব সমান সমান। আরেকটা জিনিস কি জানেন, যে জিনিস আমরা পাই না, সেটার প্রতি আগ্রহটা সর্বদাই বেশী থাকে। এই মোহ থেকে নিজেই নিজেকে বাঁচাতে হবে।

আপনি যেহেতু স্বামীর সাথে সুখী হতে চান, সেহেতু মেঘ নামের লোকটার সাথে সম সম্পর্ক ভেঙে ফেলুন। ফোন বদলে ফেলুন, মায়ের বাড়িতে যাবেন না খুব একটা যেন দেখা না হয়, ফেসবুক আইডি বদলে ফেলুন বা তাঁকে ব্লক করুন। সোজা কথা, তিনি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এমন সব সুযোগ বন্ধ করে দিন। এবং স্বামীর সাথে বেশি বেশী সময় কাটান। নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে সময় যেতে দিন, আস্তে আস্তে কষ্ট কম হয়ে যাবে আপু।

আরেকটা কথা, সকলের মনেই একান্ত গোপন কিছু কষ্ট থাকে। সেগুলো নিয়ে বেশী জোরাজুরি না করাই ভালো। বরং মনের এক কোণে চাপা দিয়ে রাখুন। অ লোকের স্ত্রী অ সন্তান আছে, নিশাপ সেই শিশুটির কথা ভেবে হলেও নিজেকে ওই লোক থেকে দূরে রাখুন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top