ওরা বলেছিল ২ দিনের মাঝে টাকা না দিলে স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করাবে..

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আপু , আমি একজন ছাত্রী । আমার বয়স ২২বছর ।আমার বিয়ে হয়েছে ১৫.০৯.২০১০ তারিখে। আমার ৩ বছরের একটা মেয়ে আছে । মূলত আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছি। দুইপরিবারের সম্মতিতে  বিয়েটা আনুষ্ঠানিক ভাবে হয়।

যাই হোক,বিয়ের পর থেকেই ওর পরিবারের লোকজন আমার সাথে কেমন যেন র্দুব্যবহার শুরু করে দিলো। আমার একটাই ননাস। সে তার দুইমেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে আমার শশুড় বাড়িতে থাকতো । মানে ঘর জামাই হয়ে । একদিন আমার স্বামী বললো সে বিদেশ যাবে। তার টাকা লাগবে।তখন আমার নন্দাই আমার স্বামীকে বললো তোর বউকে বল,তোর শ্বশুরের কাছে থেকে ৫ লক্ষ টাকা আনতে । আমার স্বামী আমাকে বললো তুমি তোমার মা বাবাকে বলো আমাকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে আমি বিদেশ যাবো। আমার বাবা চায়ের দোকান করে, অত টাকা কোথায় পাবে ? তাও আমার মা বাবা আমার সুখের কথা ভেবে  ধার দেনা করে ওকে ৩ লক্ষ টাকা দিলো । তখন আমার মেয়েটা আমার গর্ভে ছিলো । ও দুবাই চলে গেলো ।

ও যাবার কিছু দিন পরেই আমার শশুড় বাড়ির লোকজন আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে ।আমার স্বামী আমার মা বাবাকে বলে যে আমাকে আমার মা বাবার বাসায় নিয়ে আসতে। আমার মা বাবা তাই করলো । কিন্তু ও কেমন যেন হয়ে গেছে ।আমার সাথে তেমন কথা বলে না । এর মাঝে সিজার করে আমার মেয়েটা হলো । ও আমাদের খরচ দেয়া বন্ধ করে দিলো। আমার আর আমার মেয়ের খরচ আমার মা বাবা বহন করতো।

২বছর পর ও যখন বিদেশ থেকে আসে । আমাদের খোঁজ খবর নেয় নি ।তখন আমি আমার মেয়েকে নিয়ে আমার শ্বশুর বাড়িতে যাই । আমার শশুড় বাড়ি আর বাবার বাড়ি একই এলাকা। কিছুদিন খুব ভালো গেলো । আমার স্বামী বলে সে আর বিদেশ যাবে না, এখানে ব্যবসা করবে । আমার বাবার বাড়ি থেকে তাকে ৫ লক্ষ টাকা এনে দিতে । আমি না বলাতে,ওরা সবাই মিলে আমাকে মেরে ঘর থেকে বের করে দিলো আর বললো যে দুই দিনের মধ্যে টাকা না আনতে পারলে আমরা ওকে আবার বিয়ে করাবো ।

যেই কথা সেই কাজ ।আমি টাকা দিতে ব্যর্থ হই ।আর তারা সবাই মিলে আমার স্বামীকে আবার বিয়ে করিয়েছে ।আমি জানতে পেরে ওই মেয়ের ঠিকানা যোগাড় করে তাদের বাসায় যাই । কিন্তু তারা আমাকে যা-তা বলে অপমান করে । আমি বাধ্য হয়ে মামলা করি, মামলায় ওদের ওয়ারেন্টও হয় । ওরা এখন জামিনে আছে ।কিন্তু আমাদের এলাকার কিছু দলীয় লোক জোর করে আমার থেকে  তালাক নিতে চাচ্ছে । আমার বাবাকেও খুব মারধর করেছে, মায়ের হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে ফেলেছে । রাত নাই দিন নাই খুব হুমকি ধমকি দিচ্ছে, এখন আর নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নাই। যদি পারেন আমাকে একটু সাহায্য করেন ।”

পরামর্শ:
আপু, খুব খারাপ লাগল আপনার চিঠি পড়ে। তারপরও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে এত অল্প বয়সে দুদিনের প্রেমে বিয়ে করে আপনি মারাত্মক ভুল করেছেন। আরও বড় ভুল করেছে বিয়ের পরপরই বাচ্চা নিয়ে। মানুষ চিনতে ভুল করে একটা বাজে লোককে নিজের জীবনসঙ্গী বানিয়েছেন, সেই ভুলের মাসুল আপনাকে আজীবন দিতে হবে। তবে সবচাইতে বড় ভুলটি করেছে স্বামীর যৌতুকের দাবী মেটাতে গিয়ে মা বাবার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে। আপনার দরিদ্র মা বাবার সাথে এই অন্যায় আপনার করা উচিত হয়নি। একবার টাকা পেয়ে আপনার শ্বশুরবাড়ির লোভ হয়ে গেছে। তারা তো দেখেছে যে চাইলেই টাকা পাওয়া যায়। তখনই যদি টাকাটা না দিতেন, এবং ওরা নির্যাতন করলে বাপের বাড়ি চলে আসতেন সাহস করে, আপনার জীবনে আজ এই বিপর্যয়টা হতো না।

যাই হোক, আমি বুঝতে পারছি না যে স্বামীকে আপনি তালাক দিতে চাইছেন না কেন। সে আপনাকে ভালোবাসে না, নির্যাতন করে, যৌতুকের দাবী করে… এমন একজন লোকের সাথে আপনি থাকতে চাইছেন কেন? আপনার দেনমোহর কত টাকা আপনি লেখেন নি। তবে মনে হচ্ছে দেনমোহর যেন দিতে না হয়, এমনই কিছু একটা করার চেষ্টা চলছে। যাই হোক, আপনি আইনের সহায়তা নিয়ে ভালো করেছেন। আপনার এই মুহূর্তে কেবল আইনি সহায়তা নয়, নারী সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। আপনি সিক্ষিতা মেয়ে, পড়ছেন। নিশ্চয়ই জানেন যে বেশ কিছু সংস্থা আছে, যারা নির্যাতিতা মেয়েদের জন্য সবরকম সহায়তার ব্যবস্থা করে থাকে। আপনি এমন কোন সংস্থার সাথে যোগাযোগ করুন। মহিলা পরিসদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন। এই সংস্থাগুলোতে দক্ষ আইনজীবীরা আছেন, যারা আপনার করণীয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারবে। আপনি আসলে কী চাইছেন, স্বামীর সাথে সংসার চাইছেন নাকি খোরপোষ আদায় করতে চাইছেন, সেটা আমি চিঠি পড়ে বুঝতে পারছি না। তবে যেটাই হোক, একজন ভালো আইনজীবীর সাথে অবশ্যই আলোচনা করুন।

তবে আপু, আমার মনে হয় আপনার উচিত হবে না মা বাবার কষ্ট আরও বাড়ানো। তারা ইতিমধ্যেই ভীষণ ঝামেলায় জড়িয়ে গেছেন। আপনি খোরপোষের জন্য আইনি লড়াই করুন, কিন্তু এই স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দিন। আপনি শিক্ষিতা নারী। লেখাপড়া শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ান। নিশ্চয়ই আপনার জীবন থমকে থাকবে না। এই লোকে সাথে থাকলে জীবনেও সুখী হতে পারবেন না আপু।

 

একই সাথে এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আহবান করছি পাঠক বৃন্দকে, যদি আপনারা কেউ কোন নারী বা আইনি সংস্থার সাথে জড়িত থেকে থাকেন আর মেয়েটিকে সহায়তা করার ক্ষমতা রাখেন, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করবেন আমাদের ফেসবুক পেজে। মেয়েটির কাছে এই সাহায্যটি পৌঁছে দেব আমরা।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top