নিজের বোনের ফিগার নিয়েই স্বামী নোংরা কথা বলে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি এখন জব খুজছি। পড়াশোনায় আমি একটু উদাসীন। তবে আগে এমন ছিলাম না। আমার স্বামী যথেষ্ট ভালো করে, আমারও এমন লক্ষ্য। ফেসবুকে, এক মেয়ের মাধ্যমে ওর সাথে পরিচয় হয়। ও পাত্রী খুজছিলো আর আমার বয়স হয়ে গিয়েছিলো, তাই আর মানা করিনি। প্রথম দেখাতেই সে আমাকে প্রথম দিকে একটু ইগনোর করে। পরে যখন আমার ব্যবহার দেখতে পায় তখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাগল হয়ে যায়। এটা বুঝতে পারি তার ঐদিনে আংটি পরানোর অতিরিক্ত ইচ্ছা দেখে। ওর বন্ধুদের তখনই আমার ছবি তুলে ম্যাসেজ করে, আমি বাস্তবে দেখতে কেমন তা দেখানোর জন্য। সবাই দেখে পছন্দ করে।

ও আর আমি একই ইন্সটিটিউট থেকে পড়েছি। শুধু দুজনের জেলার দূরত্ব একটু বেশি ছাড়া আর কোন সমস্যাই ছিলোনা। ও অস্বচ্ছল আর অনেক ভাই বোন (১১জন সদস্যের পরিবার) এর মাঝে মানুষ হয় আর আমি ৪ জনের ছোট পরিবারে  মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। আমাকে কখন টিউশনিও করাতে হয়নি আর ও অভাবের সাথে যুদ্ধ করে আজ প্রতিষ্ঠিত। আসলে এমন ছেলেদের আমি পছন্দ করি। ওদের বাড়িতে আজও মাটির ঘরে থাকে। এখন ওর জবের বদৌলতে ৪ তলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি উঠছে।

আসল কথায় আসি। প্রথম দেখাতে একটা ব্যাপার নিয়ে সে আমাকে চরম আঘাত করে, সেটা হল তার প্রাক্তন প্রেমিকা। সে তার প্রাক্তন প্রেমিকার কথা জানায় এভাবে- “আমি আমার কথা বলে রাখছি, আমার প্রেম ছিলো। মেয়েটি হিন্দু ছিলো ইত্যাদি।” মেয়েটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কিছু বলেনি। আমার মামা চাচা কে কী করেন জানতে চায় এবং আমি জানাই তখন পাত্তা না দেওয়ার ভাব করে হাহা করে হেসে বলে- “আমার প্রাক্তন প্রেমিকার মামা কানাডা থাকতো, এক চাচা আমেরিকা হ্যান ত্যান।” বিয়ের তিন চারদিন আগে বলল- “আমি যদি আমার প্রেমিকার বাড়ি মাঝে মাঝে যাই। ওর পরিবার আমাকে ছেলের মত দেখে।”  আমি ঠাট্টা ভেবে উড়িয়ে দেই। ও তখন বলে- “আমি তোমার জায়গায় হলে তো তোমাকে মেরেই ফেলতাম”।

বিয়ের পরদিন থেকেই লক্ষ করি একটা ছেলে তাকে অনেকবার কল দেয়। কোন সময়সীমা নেই, সারাদিনে অনেকবার কল দেয়। আর ও আমার সামনে কখনোই কল রিসিভ করতো না। বিয়েতে ৩টা সোনার রিং ছাড়া ও কোন সোনার গয়না দেয়নি। শখ করে ওকে বলেছিলাম একটা ডায়মন্ডের সেটের শখ আমার। ও একটু পরে কাকে যেন কল করে ভীষণ রাগের স্বরে, তিক্ততার সাথে বলল- “আজ সে বলছে তার ডায়মন্ডের সেটের শখ”। বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় জানতে পারলাম ঐ কল সে তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে করেছিলো। বিয়ের ৭/৮ দিনের মাথায় সে আমাকে বলেছিলো- “তুমি কি দেখতে সুন্দর নাকি!”

এমনকি মাঝে মঝেই বলত, “কে কইসে তুই দেখতে সুন্দর”। আসলে ওর প্রাক্তন প্রেমিকা ফেসবুকে আমার ছবি দেখে বলেছিলো, “এটাকে কোত্থেকে ধইরা আনসো, চেহারা সুরুত নাই”। ও ইচ্ছে করে আমার বাজে বাজে ছবি আপলোড করতো। তার কারণ বুঝলাম। আমাকে অনেকে বলেছে, হয় ওকে মেনে নাও না হয় তো এখনই ডিভোর্স এর চিন্তা কর। শুধু তাই নয়। ভালোবাসা দিবসে, হরতাল অবরোধের কারণে আমি আসতে পারিনি। সেদিন তাই এক আত্মীয়ের একাদশ শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ের সাথে নোংরা ফোনালাপ করে। জবাব দেয়, “একটা মেয়েকে হাত করতে হলে তো এসব বলতেই হয়”। আমি মুখের ঝাল মেটাই। আর বিয়ের ১ সপ্তাহ পর থেকে ওর মোবাইল অনেক ব্যস্ত পাই। জানতে এবং বুঝতে পারলাম কিছু রেকর্ড শুনে। রাতের ১২টার পর সে তার প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে ফোনালাপ করে।

আমি এখনো ওর বাড়ি যাইনি, আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। একদিন আমি রাগ করে আমার বাড়ি চলে যাই, ও একটা কল পর্যন্ত দেয়নি। অথচ যে মেয়েটার সাথে সে চরম খারাপ ব্যবহার করেছে, তাকে সে বিয়ের পরও দেখা করার অনুরোধ করেছে আমাকে ছোট করে। আমার সন্তান নেওয়ার ইচ্ছে বিন্দুমাত্র নেই আমার এই ভরা যৌবনে।  নিজের পছন্দ করে বিয়ে করে যে এমন কথা আর কাজ করতে পারে। আমি সব আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। আমি জব খুজছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি জব করার আগে সন্তান নেওয়ার কথা ভাববো না। আমি জব করলে পোস্টিং আলাদা অবশ্যই হবে। ওর জবের পোস্টিঙের ঠিক নেই। কোথাও একমাস আবার কোথাও দুই বছর। এই জবের মানুষ চাইলেও পরিবারের সাথে থাকতে পারেনা। আমি সাথে থাকতেই সে এমন করে তো তখন কি করবে! আমার বড় আপু বলে তোমার ওর থেকে দূরে থাকা উচিৎ নয়, তাই আমি এক বছর একাডেমিক পড়া আর জব বিসর্জন দিয়েছি। ওর পরিবার আমার কাছ থেকে অনেক ভালো জব আশা করে যেহেতু ভালো জায়গায় চান্স পেয়েছি আর স্নাতক শেষ করেছি। ওর মা আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে একটা কথা বলে, “পুরুষ মানুষ ভ্রমর জাতি, নানা ফুলে করে গতি”। এই পরিবারে সে কি শিখেছে বুঝতে পেরেছি। আমার শ্বশুর শাশুড়ি অনেক নামাজী এবং ভীষণ ধার্মিক। “ঐ হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করলে, একজন হিন্দুকে মুসলিন বানানোর পুন্য আমার স্বামীর হত”- উনি শাশুড়ি হয়ে একথা আমাকে সরাসরি বলেন! হিন্দু মেয়েটার বিয়ে হলে আমার স্বামী তাকে ৫০বার কল দেয়ার পরও সে পাত্তা না দিলে, আমার স্বামীর বড় বোন সে নতুন বিবাহিত হিন্দু মেয়েকে কল করে অনুরোধ করে তার ভাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য! এখানে এক একজনের ব্যাক্তিত্ব আমি বুঝতে পেরেছি।

ওর পিঠাপিঠি বড় বোনের একটি ছেলে হবার পর ডিভোর্স হয়। তারপর পরেরবার আবার নিজের পছন্দে এক ইয়ারমেটকে বিয়ে করে, তাও ফ্যামিলি জানে ১৫ দিন পর। আমার স্বামী তার নিজের  বোনের ফিগার নিয়ে নোংরা কথা বলে, সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সামনেই। তাই নয়, বোন বিয়ের পর আসলে তাঁর রূপ দেখতে বলত। শারীরিকভাবে বোনকে এঞ্জয় করার কথা বলত। আর বলতো শারীরিকভাবে যা খুশি বলবো। বলুন, আমি আমার ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে এখানে কি ভাববো? আমার বাচ্চাকাচ্চা কি মানুষ হবে? বিয়ের আগে ও আমাকে ওর বোনের বাসায় নিয়ে যায়। তারপর পারিবারিকভাবে এঙ্গেজড। ওর বোন দুলাভাই আমাদের এক ঘরে শুতে দেয়। সে কেবল একজন এস্টাবলিশড স্ত্রী পাবার আশায় বিয়ে করেছে। শিক্ষাগত দিক থেকে ওর আগের প্রেমিকা এবং যেসকল মেয়েদের চ্যাট হিস্টোরি দেখতে পেলাম (একবার ডিভোর্স হওয়া মেয়ে, বয়সে বড় গ্রামের স্কুলে পড়া দুর্বল ছাত্রী, এসএসসি, প্রথম বর্ষ… এসব মেয়েরা আগে ওকে পাত্তা দিতোনা কিন্তু জব হবার পর ওর সাথে কথা বলে এমনকি বিয়ের পরও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ) ওর প্রাক্তন প্রেমিকা ডিগ্রীতে পড়তো। পড়াশোনা এবং জবে যে পজিশন, এই সব মেয়ে সে বিয়ে করলে আরো সাথে পরিচয় করতে পারতোনা। ওর জব মিটিং এবং অনেক জায়গায় আমাকে নিয়ে যায়। এমনকি সে আশা করে আমি ওর চেয়ে বড় পজিশনের জব পাবো। ও অসুস্থ থাকলে হয়ত কোন মিটিং এ আমাকে কথা বলতে হবে।

ও শারীরিকভাবেও যে অসুস্থ তা ও সে আমার কাছে গোপন করেছে। ওর সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক অন্যদের মত সাধারণ নয়। ওর শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে একজন প্রতিবেশি বলেছে, এটা হয়ত কেউ করিয়েছে যেন তার স্ত্রী চলে যায় এবং তখন সে এই ছেলেকে বিয়ে করবে। আমি অন্য সবদিকে সুখী কিন্তু কয়েকটা কাটা আমাকে রক্তাক্ত করে দেয়। সে যে অন্য মেয়েদের সাথে ফোনালাপ করে এটাও সে বলেছে, তুই থাকতে তোর স্বামী অন্য মেয়ের কাছে যায় কেন? তোর ব্যার্থতা। এগুলো বলে শেষ করা যাবেনা। ওর উচ্চতা অন্যান্য পুরুষের তুলনায় কম, যথেষ্ট কম। জানেন তো আমাদের সমাজে মেয়েরা যোগ্যতায় ছাড় দেয় কিন্তু উচ্চতায় নয়। আমার এক বান্ধবীকে দেখেছি সে ৫” নিচে, কিন্তু ৫”৫” এর ছেলেকে পছন্দ করেনা/ আমার আর আমার স্বামীর উচ্চতা একই। ১ সেমি কম বেশি হতে পারে। আমি এখন আমার স্বামীকে সহ্য করতে পারিনা। ও ভালো ব্যবহার করলেও কাটার মত লাগে। কারণ ওর হাসিখুশির আড়ালে ছিলো ওগুলো। ”

পরামর্শ:
আপনি লিখেছেন “অন্য সব দিক দিয়ে আমি সুখী”। আমি বুঝলাম না আপু, আপনি কোন সুখের কথা লিখেছেন। আপনার এই লেখার মাঝে আমি কোন সুখ খুঁজে পেলাম না। তবে একটা জিনিস বুঝতে পারছি যে এইসব নিয়ে আপনি অনেক মানুষের সাথেই আলোচনা করেছেন, যা করাটা উচিত হয়নি। আপনি আলোচনা করলে প্রতিবেশী কীভাবে স্বামীর শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে মন্তব্য করে? নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় জনে জনে বলে বেড়াতে নেই।

আপনার প্রেমের বিয়ে নয় ঠিকই, কিন্তু নিজে দেখেই বিয়ে করেছেন। তাই মানুষটির উচ্চতা কম, সেটা নিয়ে এখন অভিযোগ না করাই ভালো। তাছাড়া উচ্চতা কম একজন মানুষের অযোগ্যতা হতে পারে না। বা স্বামী আপনাকে ডায়মন্ড সেট কিনে দিতে পারছে না, সেটাও তাঁর অযোগ্যতা নয়। এদেশে কয়জন পুরুষ সেটা পারে? তবে হ্যাঁ, আপনি স্বামীর চারিত্রিক সমস্যা সম্পর্কে যা যা লিখেছেন, তাঁর দশ ভাগের একভাগও যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে অবস্থা ভয়াবহ। আমি বুঝতে পারছি না আপনি এখনো ডিভোর্স না দিয়ে কেন তাঁর সাথেই বাস করছেন। এটি যখন সমস্যা, ডিভোর্স দিচ্ছেন না কেন?

আরেকটি কথা, আপনার চিঠিতে এটা স্পষ্ট যে স্বামীকে আপনি মোটেও পছন্দ করেন না। পছন্দ করেন না বলেই অনেক কিছুই হয়তো বাপ্নার চোখে অন্যরকম ঠেকছে, যা বাস্তবে নয়। যদি পছন্দ নাই করে থাকেন, তাহলে ডিভোর্স দেয়াটাই উত্তম। আপনাদের এই সম্পর্কের কোন ভবিষ্যৎ আমি অন্তত দেখতে পাচ্ছি না। আর “এই ভরা যৌবনে মা হতে চাই না” এই ধরণের কথা বলবেন না আপু, লোকে আপনার সম্পর্কে মন্দ ধারণা করবে। সন্তান সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। আর খুব বেশী বয়স হয়ে গেলে সন্তান ধারণে নানান সমস্যা দেখা দেয়। তবে যে পুরুষকে ভালোবাসেন না, তাঁর সন্তান গর্ভে ধরার কোন মানে নেই। যদি স্বামীকে সহ্যই না করতে পারেন, ডিভোর্সের কথাই ভাবুন।

 

আরেকটি কথা, স্বামী আপনার ব্যবহার দেখে পাগল হয়ে বিয়ে করেছে, এই ধারণা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আর যে লোক নিজের হবু স্ত্রীর ছবি তুলে বন্ধুদের মাঝে বিতরন করে দেখতে সুন্দর কিনা দেখার জন্য, তাঁকে বিয়ে করা আপনার প্রথম অবস্থাতেই ঠিক হয়নি।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top