আমি বুঝতে পারছি না ওই আংকেল আমার কাছে কী চায়…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“নাম জানাতে অনিচ্ছুক। আপু, আমার একটা আংকেল আছে। মূলত উনি আমার মামির বড় ভাই। উনার সঙ্গে আমার একবারই দেখা হয়। আমার একটি প্রবলেম-এর জন্য তাকে বলা হয়। আমিও তাঁকে অনেক সম্মান করি। কিছুদিন আগে আমার বাবার কাছে থেকে তিনি আমার ফোন নাম্বার নেন। মূলত আমার সমস্যা নিয়ে বাবাই ঊনার সাথে কথা বলেন। তো হঠাৎ উনি আমাকে ফোন দিলেন কথা বললেন।

ঐদিন উনি আমার সমস্যা গুলো নিয়েই আলোচনা করলেন। তারপর দুইদিন পর ফোন দিলেন।ঐদিন প্রায় ১ঘন্টা কথা বলেন। তাঁর জীবনের কথাগুলো বললেন। আমি আগেই মামির কাছে তাঁর জীবনের অনেক কথা শুনেছি। তাঁর বিয়ের পর বিয়েটা টেকেনি। তো কীভাবে কী হয়েছে তাই বললেন। রাতে আবার কল করলেন। তখনও ঐসব নিয়েই কথা বললেন। আর আমাকে বললেন আমার সাথে সব বলে নাকি উনি নিজেকে হালকা মনে করেন।আমাকে বলেন আমি নাকি তার খুব কাছের একজন।  আমাকে যথেষ্ট ভালবাসেন, স্নেহ করেন। আর আমাকে বললেন আমি কি সবসময় তার পাশে থাকবো? তার প্রয়োজনে তাকে আশ্রয় দেব? আমি বললাম, জি থাকবো। কারণ তিনি আমার সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। আর তার সময় থাকাটা আমারও উচিত। আর আমি উনাকে নিজের মামার মতোই ভাবি।

তারপর উনি প্রায় প্রতিদিনই দিনে ৩/ ৪বার কল দেন। আমার ফোনে কথা বলতে বেশি ভালো লাগেনা। তবুও তিনি বড় বলে কথা বলি। মূলত উনি বলেন আমি শুনি। এক দিন উনি বললেন আমার চিন্তার কারণ নেই। উনি নাকি আমার দায়িত্ব নিবেন। এর আগেও এমন কিছু কথা বলেছেন কিন্তু আমি কিছু মনে করিনি। কিন্তু এক সময় মনে হল যে এতবার কেন ফোন দেয়। আমার প্রতি তার এত আগ্রহ কেন? একদিন আমি উনার কল রিসিভ করিনি। পরের দিন কথা বললাম। আমাকে বললেন আমি কেন কথা বলিনি। উনার কাছে নাকি একদিন হাজার দিন মনে হয়েছে। আমি ঐদিন কারণ বলে মাফ চাইলাম। তখন আমার কেমন অদ্ভুত মনে হল। কিন্তু নিজেদের মধ্যে, তাই কিছু বলার সাহস পেলামনা।

হঠাৎ কোনো এক কথায় উনি বললেন উনি নাকি বিয়ে করবেননা। আমি বললাম কেন?  সবার জীবনে সমস্যা থাকেই। তাই বলে থেমে থাকবেন কেন? উনি বললেন, আমি যদি থাকি তার কাউকে লাগবেনা। আমার বললাম আমি আর সে তো এক না। তখন বললেন, তিনি আমাকে পারমানেন্টলি নিয়ে যাবেন। আমি তখন ফোন কেটে বন্ধ করে রাখলাম। তারপর মনে হল, আমি যা ভাবছি আসলেই তাই। আম্মুকে সব বললাম। আম্মু বলল তাঁরও তাই মনে হচ্ছে। আমরা ভাবলাম যে মামাকে সব খুলে বলি। কিন্তু বললে মামা তুফান তুলবে। তাই কিছু বলতেও পারছিনা। ঐদিনের পরদিন ফোন অন করলাম। আবারও কল। ধরলাম। বললেন যে ফোন অফ রাখছিলাম কেন। আমি বললাম প্রবলেম ছিল। তিনি বললেন তাঁকে একবার জানানো উচিত ছিল। তাঁর নাকি অনেক কষ্ট হয়েছে।

আপু, আমি ফোনে কথা বলা এতটাই বিরক্তিকর মনে করি যে কেউ কল দিলেও আমি সহজে রিসিভ করিনা। সেখানে উনার এমন আচরণ বুঝতেই পারছেন। আমি রেগে গেলাম। বললাম রেগুলারই তো কথা হয়। কষ্টের কি হল? তখন বলল যে তার আমার প্রতি যতটা মায়া হয়েছে ততটা মায়া আমার তার প্রতি হয়েছে কিনা। আমি বললাম, না। তারপর উনি আর দুইদিনে কল দিলেন না। আমি ভাবলাম মনে হয় আমি বেশি বাজে ভেবেছি। তাই নিজেই কল দিলাম। আর সরি বললাম। তিনি বললেন তিনি ব্যস্ত ছিলেন। আমি বললাম আমার এত কথা ভাল লাগেনা। তারপর উনি আর তেমন ফোন দেন না। দিনে একবার বা ১দিন পর এমন।

আমি এখন বঝতে পারছিনা উনি আসলে কী চান। আর বাজে উদ্দেশ্য থাকলে তাকে কীভাবে সরাবো? যাতে করে পরিবারেও কোনো সমস্যা হবেনা। আমি আর আম্মু খুব চিন্তায় আছি। আমি সিম চেন্জ করলেও টিনি পাবে। কারণ নিজেদের লোক।  আপু প্লিজ বলে দাও কীভাবে কী করবো?”

পরামর্শ:
তুমি কথাগুলো বেশ গুছিয়ে লিখেছ। ভদ্রলোকের কথা পুরোটা বলাতে আমার বুঝতে সুবিধা হচ্ছে যে আসলে তিনি কী চান। তবে বাকি কথায় যাবার আগে তোমাকে কিছু কথা বলছি।

তোমার চিঠি পড়ে বুঝতে পারছি যে তিনি তোমার এমন কোন সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন যা গোপন বা বিব্রতকর, এবং তোমরা চাও না সেটা কেউ জানুক। ফলে তাঁকে তোমরা রীতিমত ভয়ই পাচ্ছ। অন্য দিকে ভদ্রলোকের কথাবার্তা থেকে বুঝতে পারছি যে তিনি খুব একটা ইয়াং নন, মধ্যবয়সী। তিনি সরাসরি কিছু না বলে কৌশলে কথা আদায় করতে চাইছেন। তবে সবচাইতে বড় ভুল করেছ তুমি। তোমার কোনভাবেই উচিত হয়নি তাঁর সাথে কথা বলা। তুমি আশকারা দিয়েছ তাঁকে। দ্বিতীয় দিনেই যদি এড়িয়ে চলতে, আজকে আর এই সমস্যা হতো না।

ভদ্রলোকের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। কোন একটা কারণে তোমার প্রতি তাঁর মোহ জন্মেছে, তিনি তোমার সাথে একটা সম্পর্ক চাইছেন। বৈধ সম্পর্ক না আসলে, কারণ তাতে পারিবারিক সমস্যা হবে। তিনি তোমার সঙ্গ চাইছেন, কিন্তু গোপনে। তিনি যেহেতু তোমাকে একটা বিপদ থেকে বাচিয়েছেন, ধরে নিচ্ছেন যে তোমার প্রতি তাঁর অধিকার জন্মে গেছে। তুমি কমবয়সী মেয়ে, তোমার প্রতি আগ্রহ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। তোমার স্থানে অন্য কেউ হলেও তিনি এমনই করতেন। তবে তাঁর ইগো বেশ প্রবল মনে হচ্ছে। তুমি এভয়েড করার পর ফোন করা কমিয়ে দিয়েছেন, এটা খুবই ভালো লক্ষণ। তাঁর সাথে কোন গণ্ডগোল না করেই ঝামেলাটা মিটিয়ে ফেলা সম্ভব।

যাই হোক, এখন তোমরা যা করবে সেটা খুব সোজা। তোমার যখন ফোন ধরতে এত বিরক্তিই লাগে, তাহলে ফোনের প্রয়োজন কী? কিছুদিনের জন্য ফোন ব্যবহার করা বন্ধ করে দাও। ফোনটি মায়ের কাছে থাকুক। যখনই তিনি ফোন করবেন, ফোন মা ধরবেন। অবশ্যই তিনি মায়ের সাথে কথাবার্তা বলতে বাধ্য তখন। মনে হয় না মাকে টপকে তোমাকে চাইবেন। আর যদি চেয়েও বসেন, মা খুব সুন্দর করে বলবেন যে ফোনের কারণে তোমার লেখাপড়ার ক্ষতি হয়, সারাক্ষণ বান্ধবীরা ফোন করে, তাই তিনি ফোন নিয়ে নিয়েছেন। আপাতত তোমাকে ফোন ইউজ করতে দিচ্ছেন না। ভদ্রলোক চাইলে মা তোমাকে ডেকে দেবেন, মায়ের সামনেই ২/১ মিনিট কথা বলে রেখে দেবে। আরেকটি কাজ করবে, কথা প্রসঙ্গে অবশ্যই ভদ্রলোককে জানিয়ে দেবে যে তুমি তাঁকে বাবার মত দেখ। যেমন ধরো, তিনি যদি বলেন যে তোমার দায়িত্ব নেবেন, তুমি জবাবে বলবে- আপনি তো আমার বাবার মত, আমি আপনাকেও বাবার মতই ভাবি। অবশ্যই আপনি আমার দায়িত্ব নিতেই পারেন। বাবা কি মেয়েদের দায়িত্ব নেয় না?

তবে চিন্তা করো না, মা ফোন ধরা শুরু করলেই তিনি পিছিয়ে যাবেন। আস্তে আস্তে ফোন করা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন তুমি আবার ফোন ইউজ করতে পারো। আর তুমি আপাতত এমন কোন পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাবে না, যেখানে তাঁর সাথে দেখা হয়। মা একটি কথাই সবাইকে বলবেন, তোমার লেখাপড়ার ক্ষতি হয়।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top