এমন এক সমস্যা যা কাউকে বলতেও পারছি না…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আপু আমি এক জটিল ধরণের সমস্যায় পড়েছি। এমন এক সমস্যা যার কথা কাউকে বলতেও পারছি না আর কোনো সমাধানও পাচ্ছিনা । তাই শেষমেশ আপনার দ্বারস্থ হলাম।

আমার সম্পর্ক ৫ বছরের। আমি বর্তমানে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় সেমিস্টারে অধ্যায়নরত আর ও দেশের একটি নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বছরেই গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে। আমাদের দুইজনের মধ্যে সম্পর্কটা বরাবরই বেশ ভালো আর সবচেয়ে বড় কথা আমাদের বোঝাপড়াটা অনেক বেশি ভালো। তাই এতোদিনের সম্পর্কে আমাদের মাধ্যে বড় কোনো ঝামেলা হয়নি। এখন মূল কথায় আসি…

ওর আর আমার মধ্যে সব কিছু ঠিক থাকলেও আমাদের দুইজনের পরিবারের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। আমার পরিবার ঢাকাতে স্থায়ী এবং ঢাকায় আমাদের অনেক সহায় সম্পত্তি ও মান মর্যাদা রয়েছে। অপরদিকে ওর পরিবার মোটামুটি মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবার কিন্তু আমাদের চেয়ে একটু কম অবস্থাসম্পন্ন। আর ওর পরিবার সবাই ঢাকার বাইরে জেলা শহরে থাকে। ঢাকায় ওদের কিছুই নেই বলা চলে। আমাদের দুইজনের পরিবারই আমাদের সম্পর্কের কথা জানে এবং ওর পরিবার আমাকে মেনে নিয়েছেও। তারা সবাই আমাকে অনেক আদর ও স্নেহ করে। কিন্তু আমার পরিবার ওকে কিছুতেই মেনে নিবে না কারণ ওদের ঢাকায় কিছু নেই এবং আমাদের চেয়ে কম অবস্থাসম্পন্ন। মাঝে আমার বড় ভাই আর মা এজন্য অনেক ঝামেলা করেছিলো যার কারণে আমাদের কিছুদিন যোগাযোগও ছিলো না। আর ও বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আশা করি আগামী বছরের মাঝামাঝির মধ্যেই ও চলে যাবে বাইরে।

আমার পরিবারে এতো ঝামেলার কারণে ও আমাকে হারাবার ভয়ে পালিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। আমি প্রথমে রাজি না হলেও পরে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি। কিন্তু আমার মনে এর জন্য অনেক অনুশোচনাবোধ কাজ করে যে নিজের জীবনের এতো বড় একটা অধ্যায় পরিবারের আশির্বাদ ছাড়াই শুরু করলাম। কারণ আমি কখনোই চাইনি এভাবে পালিয়ে বিয়ে করতে। সবাইকে মানিয়ে নিয়ে তারপরেই ওকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম আমি। এখন আমি পরিবারের সাথেই থাকি এবং আমাদের বিয়ের কথা ওর খুব কাছের ২ জন বন্ধু ছাড়া আর কেউ জানে না। বাইরে আমরা গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডের মতই চলি। কিন্তু তারপরেও ইদানিং আমার মধ্যে এই অনুশোচনাবোধটা খুব বেশি কাজ করে। মনে হয় ওর সাথে জাস্টিস করতে গিয়ে আমি আমার পরিবারের সাথে ইনজাস্টিস করে ফেলেছি। নিজেকে অপরাধী লাগে আর ভয় হয় যদি কখনো আমার পরিবার আমার বিয়ের কথা জানতে পারে তাহলে আমি কী করবো!

তারা আমাকে কী করবে জানিনা কিন্তু আমি নিজেই তাদের মুখ দেখাতে পারবো না। এসব কারণে কিছুই ভালো লাগেনা আজকাল। আর ওকেও বলতে পারিনা আমি কী ফিল করি কারণ তাহলে ও কষ্ট পাবে এই ভেবে যে আমি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওকে বিয়ে করেছি আর ও তখন আবার অপরাধবোধে ভুগবে। আর যেহেতু ব্যাপারটা কেউ জানেনা তাই অন্যদের সাথে শেয়ারও করতে পারছি না। এমন অবস্থায় কী করবো আমি? এই অনুশোচনা, অপরাধবোধ আর ভয় নিয়ে আমি আর থাকতে পারছিনা। পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিতে পারিনা। রাতে ঘুমাতে পারিনা। কী করলে আমি সব ঠিক করতে পারবো? কোনো সমাধান জানা থাকলে প্লিজ জানাবেন!”

পরামর্শ:
আপনার চিঠি পড়ে আমি বুঝতে পারলাম না আপনি নারী না পুরুষ। তবে মনে হচ্ছে আপনি নারী। কিন্তু সত্যি করে একটা কথা বলুন তো, কেবলই কি পরিবারের চিন্তা করছেন, নাকি আপনারও এটা মনে হচ্ছে যে ভালোবাসার মানুষটি আপনার যোগ্য নন? তাঁর আর্থিক অবস্থা নিয়ে কি আপনিও চিন্তিত?

দেখুন, আমার মনে হয়ে পারিবারিক কারণে এত অনুশোচনায় ভোগায় কোন কারণ নেই। প্রথমত, আপনি খুব চমৎকার একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেয়েছেন, এমন একজন মানুষকে হারিয়ে ফেলার মানে নেই। দ্বিতীয়ত আপনার পরিবার যা করছে সেটা মোটেও ঠিক না। কেবল ঢাকায় সম্পদ না থাকলেই একজন মানুষ খারাপ হয়ে যায়? তাছাড়া আপনারা তো পরিবারকে জানাচ্ছেন না কিছু, একান্ত ঠেকায় না পড়লে জানাবেনও না। তাই অহেতুক চিন্তা করে লাভ নেই। ভালবেসেছেন এই ওয়াদা করেই তো যে আজীবন পাশে থাকবেন। তাহলে এখন পাশে দাঁড়াতে ভয় কেন? পরিবার জানতে পারলে যা সত্য তাই বলবেন। একটা কাজ যখন করেই ফেলেছেন, সেটা স্বীকার করার সৎ সাহসটাও থাকা উচিত।

আপনি একটি কাজ করবেন। নিজের মনকে খুব ভালো করে জিজ্ঞেস করে দেখুন যে কেন আপনার মনে এই দ্বিধা। এবং এটাও ভেবে দেখুন যে পরিবারের অমতে তাঁর সাথে সংসার করতে পারবেন কিনা। যদি না পারেন, তাহলে মানুষটাকে অযথা ঝুলে রাখাটা অর্থহীন। আপনার আগে নিজেকে জানতে হবে যে মন কী চায়। তাহলে আপনা থেকেই সকল বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপ চলে যাবে। মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও আপনাকে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

যদি মানসিক চাপ খুব বেশী মনে হয় যে নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, তাহলে একজন কাউন্সিলরের সাহায্য নিন। তিনি আপনার মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করবেন। আমি আবারও বলছি আপু, আগে নিজে সিদ্ধান্ত নিন যে কী চান। জীবন সবকিছু একসাথে পাওয়া যায় না। কোন এক পক্ষ আমাদের বেছে নিতেই হয়। আপনি কী চান, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই আপনার এই সমস্যা দূর হবে। তার আগে নয়।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top