সেই ঔষধ দোকানদার ঘনিষ্ঠ হবার জন্য আমাকে জোর করছে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। আমার বাবা বিয়ে করে বাসায় নতুন বউ আনে, এতে আমার মা না খেয়ে খেয়ে অনেক বড় অসুখ বাঁধিয়ে ফেলে। বাবা আলাদা বাসায় সৎমা কে নিয়ে থাকে আর ভাইয়ের কাছে আমাদের ফেলে রাখে। ভাইও আমাদের দেখতে পারতোনা। লেখাপড়ায় অনেক বাধা দেয়। পড়তে বসলে অস্বাভাবিক মারতো আর ঘরের কাজ করতে বলতো। ২০১০-এ তখন আমি কলেজে পড়তাম আর তখন আমি ব্যাকুল হয়ে চাকুরী খুঁজতাম। ভাবতাম মা, বোনের জন্য কিছু করতে হবে কিন্তু ছোট বয়সে কিছু করতে পারতাম না।

সে সময় আমাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বাসার পাশের এক ঔষধ দোকানদার। তিনি বিনা টাকায় মায়ের ঔষধ দিতেন। একসময় তার আর্থিক সহায়তায় আমি আবার লেখাপড়া শুরু করি। সে বলে সে আমাকে ভালোবাসে। সে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে যাবে বলেছিলো তাই আমি রাজী হয়ে গিয়েছিলাম। উল্লেখ্য, সে বিবাহিত কিন্তু এই বিয়েতে তার মত ছিলোনা। তার মা বাবা জোর করে তাকে বিয়ে করায়। সে এখন আমাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু, আমি বলেছি মুসলিম হয়ে আমাকে বিয়ে করতে সে তা করছেনা। বলে এতে তার সমস্যা হবে। সে কেবলমাত্র দোকানের উপর নির্ভরশীল তাই এখনও বিয়ে করতে পারছেনা কিন্তু আমার সাথে থাকতে চায়। উল্লেখ্য, সে আমার থেকে ৯ বছরের বড়।

এখন, সে কি আসলেই ধর্ম ত্যাগ করে আমাকে বিয়ে করবে? আর স্ত্রী থাকার পরও আমাকে বিয়ে করলে কোন সমস্যা হবে কি হবেনা? এখন আমার কি করা উচিত? আমার সম্পুর্ন ব্যায়ভার সে বহন করে তাই তাকে উপেক্ষাও করতে পারছিনা। কিন্তু ধর্ম বিরোধী কোন কাজও করতে চাচ্ছিনা। আমি সমাজে আর দশটা মেয়ের মত সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। দয়া করে একটা সমাধান দিবেন।”

পরামর্শ:

আপু, খুব খারাপ লাগলো তোমার চিঠি পেয়ে। জীবনের চড়াই উৎরাই মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়! তোমার মায়ের জন্য ঔষধ দিয়ে বা তোমাকে লেখাপড়া করিয়ে সেই ভদ্রলোক অবশ্যই ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই কাজের পেছনে তার উদ্দেশ্যটা আসলে ভিন্ন কিছু ছিল। তিনি আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে তোমাকে এক প্রকার কিনে নিতে চাইছেন বলেই মনে হচ্ছে আমার। বিয়ে মতে হোক বা অমতে, স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আরেকটি মেয়ের সাথে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ঘনিষ্ঠ হতে চাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।

প্রথমত, আমার মনে হচ্ছে না লোকটি ধর্ম ত্যাগ করে তোমাকে বিয়ে করবে। দ্বিতীয়ত, আমি যতদূর জানি হিন্দু ধর্মে একজন স্ত্রী রেখে আরেকটি বিয়েও করা যায় না। তাই তিনি তোমাকে বিয়ে করবেন এই আশা তুমি বাদ দাও আর ভুলেও শারীরিক সম্পর্কে জড়াবে না। কোন পরিস্থিতিতেই না। তুমি বিয়ে ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক করবে না, এই সিদ্ধান্তে অটল থাকলে লোকটি এক পর্যায়ে সরে যেতে বাধ্য হবে। কারণ বিয়ে করা সম্ভব না তার পক্ষে। প্লাস তুমি বলবে তুমি লুকিয়ে বিয়ে চাও না। পরিবার ও সমাজের স্বীকৃতি পেয়ে বিয়ে করতে চাও, কারো স্ত্রী ইসাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাও।

আর সবচাইতে জরুরী কথা, লোকটির কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নেয়া যেভাবেই হোক বন্ধ করো। অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়, একদম ছোট নও তুমি। চাইলে ছোট খাট পার্ট টাইম জব পেয়েই যাবে। আর কিছু না হোক, টিউশনি করো। নিজের সম্মান বিকিয়ে দিকে আর্থিক সহায়তা নেয়ার তো কোন মানে নেই। আর লোকটিকে জানিয়ে রাখ যে তার সমস্ত আর্থিক সহায়তা তুমি একটু একটু করে শোধ করে দিবে। যতদিন লোকটার কাছে ঋণী থাকবে, ততদিন এই সম্পর্কের ফাঁদ থেকে মুক্তি পাবে না আপু।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top