সে বলেছিল পরিবার না চাইলেও আমাকে কখনো কষ্ট দেবে না…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“১১ মাস আগের কথা। ওর সাথে আমার পরিচয় আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে। ওকে আমি কখনো দেখিনি সরাসরি। বিয়ের জন্য হন্যে হয়ে ছেলে খোঁজা হচ্ছে। আমার বন্ধু আমাকে জানালো-তোরা দু’ জন কথা বলে দেখ। যদি ভাল লাগে তাহলে পরবর্তী স্টেপের জন্য ভেবে দেখিস।

প্রায় দু’মাস আমাদের ফেসবুকে, স্কাইপে, ফোনে কথা হয়। ও খুব ফ্যামিলি ওরিয়েন্টড ছিল। খুব অনেস্ট, দায়িত্ববান পরিবারের প্রতি। আমার মনে হয়েছিল এমন পরিবার কেন্দ্রিক ছেলে আর যাই হোক মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ভ্যালু বুঝবে। এই দু’মাসের কথায় একটা ব্যাপার বুঝতে পারছিলাম, কথাগুলা এখন আর অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের এর মধ্যে পড়ে না। বুঝতে পারছিলাম সে আমার প্রতি দূর্বল, আমাকে ভালবাসতে শুরু করেছে। দু’মাস পর সে আমার অভিমত জানতে চায়। আমি ওকে জানাই যে এত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আমি ওকে আরো ভাবতে বললাম। সে আমাকে বলত -ভেবেছি, ভেবে চিন্তেই তোমাকে চাই। আমি ওর কাছ থেকে তাও আরো এক মাস সময় চাই। বলি যে আরো ভাল করে ভেবে দেখুন, পরে যেন কারো কষ্ট পেতে না হয়। এক মাস পর আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ” Do you love me?” সে বলেছিল, হ্যাঁ। আমি ওকে বললাম যদি এখন এমন হয় ফ্যামিলি রাজি হচ্ছে না তখন ? তার উত্তর ছিল- যে করেই হোক আমি ডিফেন্ড করব। তোমাকে কখনো কষ্ট দিব না। তোমাকে ভাল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তোমার হাত কখনো ছাড়বো না। কখনো না।

আমি ওর কথায় এতটা ভরসা পেয়েছিলাম, এতটা নির্ভরতা পেয়েছিলাম যে সারা দুনিয়া যদি উলটে যায় তাহলেও সে আমাকে ছেড়ে যাবে না। খুনসুটি, ভালবাসায় কি যে অদ্ভুত সময় কাটছিল। মনে হত ওর মত এত ভাল আমাকে কেউ বাসতে পারবে না। সারারাত জেগে জেগে কথা বলতাম। আমি অপেক্ষা করে থাকতাম কখন ওর সাথে কথা হবে। প্ল্যান করতাম কোথায় ঘুরব, বিয়ের পর কী করব, কে কত ঝগড়া করবে, আমি রাগ হলে বিয়ের পর আমাকে কীভাবে অভিমান ভাঙ্গাবে, জীবনটা একসাথে কীভাবে কাটাবো। কত শত কথা। এখন যখন ভাবি চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ে। এর দু’মাস পরে আমরা দু’জনই আমাদের সম্পর্কের কথা বাসায় জানাই। ওর পরিবার থেকে আমাদের পরিবারে কথা হয়। সারাংশ এমন -ছেলে মেয়ের পছন্দে আমাদের আপত্তি নাই। খুব সুন্দর অদ্ভুত সময় কাটাচ্ছিলাম। প্ল্যান করছিলাম বিয়ের গহনা কেমন হবে, বিয়ের শাড়ি কেমন হবে, কোথায় সাজবো, হলুদে কী পরবো, সব প্ল্যান করতাম তখন শুধু।

একদিন ও আমাকে জানালো-তোমার সাথে আমার পরিবার এর লোকজন দেখা করতে চায়। তুমি একা এসো। সে তখন দেশের বাইরে ছিল। আমি ওর পরিবারের দু’জনের সাথে দেখা করি। দেখা করার দিনও তার সাথে আমার শেষ কথা ছিল এরকম,সে বলেছিল- ভীষণ ভালবাসি তোমাকে। ভীষণ।

ওদের দেখা করে যাওয়ার পর থেকেই সে বদলে যায়। আমার সাথে কথা বলত না। আমি ফোন দিলে বলত ব্যস্ত। আমাকে ফোন দিত না। কথা বলতো না ঠিকমত। কি যে কষ্টে কাটিয়েছি সেই দিনগুলো। মনে হত ও আমাকে ছেড়ে যাবে না তো। ওর ফ্যামিলি থেকে কি কিছু বলেছে ? টানা ১৬ দিন কি যে কষ্ট পেয়েছিলাম। সে আমাকে ফোন দিল। বলল-এটা এখন আর সম্ভব না। ওর ফ্যামিলি আমাকে পছন্দ করে নি। আমাকে বিয়ে করা সম্ভব না। আমি ওকে বললাম যে তোমার ফ্যামিলি কে তো আমি জানি না, ওরা কেমন চায় সেটা তো তোমার জানার কথা। তোমাকে শুরু থেকেই জিজ্ঞেস করেছিলাম ফ্যমালি চাই কি না, না চাইলে তুমি কি করবে। তখন এত ভালোবাসার কথা কেন বললে?

সেই দিন থেকে এত এত কষ্ট পাচ্ছি। আমি ওকে এত ভালবাসছিলাম, এত ভালবাসি সেটা বোঝা ওর পক্ষে সম্ভবই না। ওর জন্য আমি আমার ক্যরিয়ার ত্যাগ করতেও রাজি ছিলাম। ওর জন্য আমি সব কিছু সব কিছু করতে প্রস্তুত ছিলাম। ওর জন্য এত এত কষ্ট লাগে। সারাদিন  কান্না লাগে। কিছু করতে পারি না। সারাদিনই ঘুমাই। যতক্ষণ ঘুমাই, ততক্ষণই সব ভুলে থাকা যায়।ওকে কি আমি ভালবেসে দুটো কথাও বলি নাই? ওর কি আমার জন্য এতটুকুনও খারাপ লাগে না? এত ভালবাসার কথা এভাবে হারিয়ে যায় কীভাবে ? ওর কি আমার জন্য কোন কষ্ট লাগে না ? সমস্ত কষ্ট কি শুধু একা আমারই ? কেন সে পুরো পৃথিবীকে অন্যদিকে রেখে আমাকে চাইতে পারলো না? আমি তো তাকেই আমার পৃথিবী করে রেখেছিলাম? আমি এখন কী করবো বা আমার কী করা উচিৎ একটা পরামর্শ দিবেন কি?”

পরামর্শ:
খুব খারাপ লাগলো আপ আপনার চিঠি পড়ে। একটি সম্পর্কের শুরুতে যেটুকু সতর্কতা নেয়া যায়, আপনি তার পুরোটাই নিয়েছিলেন। বারবার ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি নিশ্চিত কিনা। এত শত ভালোবাসার কথা বলে ছেলেটি যে প্রতারণা করলো, সেটা আসলেই মেনে নেয়া যায় না।

আমরা মেয়েরা সবসময়েই মনে করি যে যেসব পুরুষ নিজের পরিবারের প্রতি খুব যত্নশীল, তাঁরা স্ত্রী-সন্তানের প্রতিও হবে। কিন্তু সত্য এটাই যে আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটা হয় না। জানি আমার কথাটা পড়ে অনেকেই রাগ করবেন। কিন্তু নিজের পরিবারের প্রতি বেশি নির্ভরশীল পুরুষেরা আসলে প্রেমিকা বা স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দিতেও দ্বিধা করেন না। হয়তো কষ্ট দিতে গিয়ে নিজেও কষ্ট পান। কিন্তু তারপরও কাজটা করেন।

যাই হোক, যেটা সত্য সেটাকে বদলে ফেলার কোন উপায় নেই। আর এটাই সত্য যে মানুষটি আপনার সাথে প্রতারণা করেছেন। সত্যি বলতে কি আপু, মুখে মুখে আবেগের কথা বলা খুব সহজ। মন থেকে কাকে ভালোবাসা খুব কঠিন। মানুষটি যদি সত্যই আপনাকে মন থেকে ভালোবাসতেন, এত সামান্য কারণে আপনার সাহে প্রতারণা করতেন না। তার পরিবার আপনাকে পছন্দ করেনি, এটা তো অত্যন্ত অপমানসূচক কথা, তাই না? তাহলে সেই প্রতারকের জন্য আপনি কষ্ট পেয়ে কী হবে বলুন? তাতে কি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে?

যে করেই হোক আপনাকে জীবনের পথে উঠে দাঁড়াতে হবে আপু। নিজের ক্যারিয়ার খুব ভালোভাবে গুছাতে হবে। একজন খুব ভালো মানুষকে বিয়ে করে অনেক সুখী হতে হবে জীবনে। যে ছেলে ও পরিবার আপনাকে এত বড় আঘাত ও অপমান করলো, তাঁদের সবাইকে দেখিয়ে দিতে হবে যে আপনাকে গ্রহণ না করে তাঁরা কী ভীষণ ভুলটা করেছে। আর সেটাই হবে তাঁদের অপমানের উপযুক্ত জবাব। আরেকটি কথা কি আপু, আপনি যদি ছেলেটির জন্য এভাবেই কষ্ট পেতে থাকেন, সে কখনো ফিরবে না। কিন্তু হ্যাঁ, আপনি যদি মন শক্ত করে নিজেকে উজ্জ্বল ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, আপনার ভালোবাসার মানুষের মন পরিবর্তন হলেও হতে পারে।  সবার মাঝে সেরাকে তো সকলেই চায়, তাই না?

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top