মানতে পারি যে সে তখন অন্য একটি মেয়েকেও স্পর্শ করেছে…

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমি যে সমস্যাটির কথা বলব সেটা আসলে অনেক আগে ঘটে যাওয়া একটি সমস্যা। হয়তো অনেক আগে এটা বলার কথা ছিল। যখন বলার কথা তখন সামলে গিয়েছি আর আজকে এতদিন পরে সামলাতে পারছিনা।

আজ থেকে দুই বছর আগে একজনের সাথে পরিচয় হয়। শুরুর থেকেই সে আমার প্রতি আগ্রহী ছিল এবং তার আগ্রহে আস্তে আস্তে আমিও তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। ঠিক সেই সময়ে সে আমাকে সম্পর্কের বদলে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেয়। আচমকা এই কথায় আমি কষ্টও পাই,অবাকও হই কেননা আমি জানতাম না হঠাৎ কেন সে পিছিয়ে পড়ল, তবে সবচেয়ে বেশি অপমানিত বোধ করি। আমার সেলফ রেস্পেক্টের তাড়নায় আমি বন্ধুত্বে রাজি হই এবং যোগাযোগ অফ করিনা এটা প্রমাণ করতে যে আমাকে ভাঙা এত সহজ না। পরবর্তীতে আবার মনে কিছু প্রতিহিংসা কাজ করে আমার। মনে হতে থাকে যে ছেলেটা আমাকে কাছে টেনে ছেড়ে দিয়েছে। মনে মনে ঠিক করে ফেললাম যে আমিও ওকে আমার জায়গায় নিয়ে আসব। সেখান থেকেই ওকে জেলাস ফিল করালাম,কাজও হল তাতে। কিন্তু আমি নিজেই সম্পর্কে আটকা পড়লাম। কারণ ও তখন নিজের জায়গাটা ওর মত করে ক্লিয়ার করেছিল আর আমিও সেটা মেনে নিয়েছিলাম।

আমি জীবনে এত মানুষ দেখেছি, এত ছেলে দেখেছি কিন্তু ওর মত ছেলে খুব কমই দেখেছি। ও আমার জীবনটা আনন্দে ভরিয়ে রেখেছিল। ওর সবচেয়ে ভালো দিক হল ও খুব সুন্দর করে চিন্তা করতে পারে। টিপিক্যাল সম্পর্কের মত সম্পর্ক ওর কখনও পছন্দ ছিল না, তাই দুজন দুজনকে যথেষ্ট স্পেস দিতাম। প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো। সারাদিন একসাথে থাকতাম। ওর ভার্সিটি, মেস, কাজের জায়গা, আড্ডার জায়গা সব জায়গাতেই আমার অবাধ বিচরণ ছিল। খুব অল্প সময়েই অনেক কাছে এসে যাই এবং সম্পূর্ণ শারীরিক সম্পর্ক না হলেও ফিজিক্যাল ইনভল্ভমেন্ট ছিল। এভাবে বেশ কয়েক মাস কেটে যায়। এর মাঝে একদিন জানতে পারি যে ওর একটা মেয়ের সাথে প্রায় দেড় বছর ধরে সম্পর্ক চলছে। অর্থাৎ আমাদের সম্পর্কের এক বছর আগ থেকে। মেয়েটি ওর প্রথম প্রেমিকা এবং গত কয়েক মাস ও ডাবল ডেটিং করেছে। ওদের সম্পর্কে কিছু সমস্যার পর ওরা এক মাস সময় নিচ্ছিল এবং তখনই আমার সাথে পরিচয়। আমার সাথে শুধুমাত্র ফ্লার্ট মারার পরিকল্পনা ছিল কিন্তু যখন দুপক্ষই দুর্বল হয়ে পড়ি, তখন তাই ও আমাকে এভয়েড করার চেষ্টা করেছিল ।যেহেতু আমি সেটা হতে দেইনি আর ও নিজেও দুর্বল ছিল, একসময় সম্পর্কটা হয়েই যায় আর এতদিন ও কাউকেই সত্যি বলার সৎ সাহসটুকু অর্জন করে উঠতে পারেনি।

ওদের খুব কম কথা কিংবা দেখা হতো বিশেষ করে আমাদের সম্পর্কের পর। আর তাছাড়া আমি কখনও ফেসবুক কিংবা মোবাইল চেক করিনি তাই আমার চোখে সম্পর্কটা পড়েনি। আমার সাথে সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে ওদের কয়েকবার দেখা হয়েছে, আমাকে ও বেশ কিছু মিথ্যা বলছে এবং আমার সাথে যতটুকু ফিজিক্যাল ইনভল্ভমেন্ট আছে ওই মেয়েটার সাথেও ততটুকু আছে। লাইফে কোনদিনও এত কষ্ট পাইনি। কষ্টের থেকে বেশি অবাক হয়েছিলাম। কারণ ও কখনও আমাকে একটুও অসম্মান করেনি আর আমিও ওর মত এত সুন্দর মনের ছেলে দেখিনি। এই দেখা কীভাবে ভুল হয়ে গেল? ও সবসময় আমাকে বলতো পৃথিবীতে কোনও কিছু সম্পর্কেই হতেই পারেনা ভেবনা। যে কোনো কিছুই হতে পারে। একটু হলেও সম্ভাবনা থাকে। আমি লাইফে কখনও ধাক্কা খাইনি তো আমার কখনই ওর এই কথাটা মন থেকে ঠিক লাগেনি। যাইহোক আমি,ও আর সেই মেয়েটি এই তিনজন মুখোমুখি হলাম ওর ইচ্ছাতেই। কয়েকদিন অনেক কাহিনী চলল। ওর সাথে ওই মেয়েটার ব্রেকাপ হয়। আর আমিতো পুরোটা জানার পরে এমনিতেই প্রেমিকার অধিকারটুকু সরিয়ে শুধুমাত্র বন্ধু হয়ে পাশে ছিলাম। হ্যাঁ, ওই সময়টা আমি আমার সর্বোচ্চ মানসিক জোর খাটিয়েছি। ওর সামনে একবারও কাদিনি বরং ওর বন্ধু হয়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ওকে সময় দিয়েছিলাম কিছুদিন একা থাকার জন্য এবং নিজেকে বোঝার জন্য যে ও কাকে চায়। প্রথমদিন ওই মেয়েটি অনেক পাগলামি করলেও পরে নিজেই রাজি হয় বন্ধুত্বের প্রস্তাবে। পরবর্তীতে ও আমার সাথে থাকতে চায় আর ওই মেয়েটার সাথে আস্তে আস্তে সময়ের সাথে সবরকম কন্টাক্ট বিচ্ছিন্ন করে। আমাদের সম্পর্ক শুরু হয় পরিপূর্ণভাবে এবং স্বচ্ছতার সাথে। এই পর্যন্ত যা বললাম এটা আমার জীবনে ঘটে যাওয়া দুঃস্বপ্নের মত একটা অধ্যায়। আমার মূল সমস্যা শুরু হয় আরও অনেক পরে।

আমার একটা অভ্যাস হল যখন আমি কোনও চাপে থাকি তখন সব সামলে নেই আর যখন একদম স্বাভাবিক হয় সবকিছু তখন গিয়ে সেই চাপটা এফেক্ট ফেলে। এবারেও তাই হল। নতুন করে সম্পর্ক করার শুরুতেই ও আমার সাথে ভালোভাবে আলোচনা করে নেয়। প্রথমত, আমি কি ওকে আসলেই মাফ করতে পারব ?আমি ওর সাথে ভালো থাকব তো? আমি কি আবার ওকে বিশ্বাস করতে পারবো? আমার উত্তর ছিল আমি পারব। কারণ ভালবাসা যতদিন থাকে নিজের অজান্তেই আবারও একটা বিশ্বাস তৈরি হয়ে যায়। ও আরেকটা জিনিস বলেছিল যে, দেখো আগে আমার নিজের মধ্যেই খাদ ছিল, বাট এখন যেহেতু আমি সম্পূর্ণভাবেই শুধুমাত্র তোমার সাথেই সম্পর্ক করব হতে পারে, আমি আরেকটু আকড়ে ধরছি কিংবা আগের থেকে হয়তো একটু আধটু চেঞ্জ হয়ে গেছি তুমি কি এটা মেনে নিতে পারবা?সেখানেও আমার জবাব পজিটিভ ছিল। কিন্তু যত টাইম যেতে লাগলো আমি একটু একটু করে বদলাতে শুরু করলাম। আমি প্রচণ্ড উচ্ছল একটা মেয়ে ছিলাম। ওই ঘটনার পরে আমি পালটে যেতে শুরু করি। ফাঁকা ফাঁকা ভাব এসে ভর করে। ওই ঘটনার কথা মনে পড়লে কিছু জায়গায় এখনও খুব বাজে ফিল হয়। মনে হয় আমার সাথে সম্পর্ক চলাকালীন ও কীভাবে অন্য কাউকে টাচ করল? আমার চোখে চোখ রেখে এত সহজে কীভাবে মিথ্যা বলল? কিন্তু এটা আপু ছোট সমস্যা ।

সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা আমাকে এফেক্ট করেছে তা হল অনেকদিনের একটা ধারণা ভেঙ্গে যাওয়া। যে কোনও কিছু হতেই পারে এটা কখনও আমার বিশ্বাস করার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু ওই ঘটনা আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে ইয়েস হি ওয়াজ রাইট। যে কোনও কিছুই হতে পারে। আমি এটা শিখতে চাইনি আপু। আর যখন শিখেছি তখন আর ভালো থাকতে পারছিনা। ও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আমাকে ভালো রাখার। সম্পর্ক ঠিক রাখার জন্য যত বড় স্যক্রিফাইসই করার দরকার হোকনা কেন ও করে তবুও ভালবাসাটা থাকুক। কিন্তু আমি আমার জায়গা ঠিক রাখতে পারছিনা। ওইদিন হয়তো আমার ব্রেকাপ করার অধিকার ছিল আর সেটা না করাও আমার ডিশিসন ছিল। কিন্তু আজকে আমার অধিকার নাই ওকে সারাক্ষণ অপমান করার চাপে রাখার। কিন্তু আমি নিজেই সময়ের সাথে সাথে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। যতদিন হতেই পারেনা ভেবে চলতাম অনেক কনফিডেন্ট ছিলাম, যেই মুহূর্ত থেকে হতেই পারে শিখে গেছি কনফিডেন্সও কমে গেছে। এমন কিন্তু না যে আমি ওকে বিশ্বাস করতে পারিনা। যথেষ্ট বিশ্বাস করি। তারপরেও কাজকর্মে সেটা প্রকাশ পাচ্ছেনা। একটা সময় ছিল যখন আমি সম্পর্কে প্রচণ্ড স্পেস দিয়েছি। আমার জায়গাটা ঠিক রাখলেই হল। অথচ আজকে যখন ওর ফেসবুক, মোবাইল সব পার্সোনাল জিনিসেই আমার অবাধ অধিকার অবাধ বিচরণ, তবুও অনেক বেশি আঁকড়ে ধরা টাইপ বিহ্যাভ করছি। ওর বান্ধবী, ফেসবুক চ্যাটিং এরকম প্রায় সব বিষয় নিয়েই আমার সমস্যা হয়েছে, হচ্ছে একেকটা বিষয় ওকে বলি আর ও  সেটা লাইফ থেকে রিমুভ করে দেয়, কিন্তু ও যে আমার পরিবর্তনে অনেক কষ্ট পাচ্ছে সেটাও বুঝতে পারি। আপু বিশ্বাস করেন আপনার মনে হতে পারে আমি এগুলা ইচ্ছা করে করছি কিন্তু আমি ইচ্ছা করে করছিনা। আমি সত্যিই দিনকে দিন মানসিকভাবে অসুস্থ হচ্ছি। খারাপ সময়ে মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তেই পারে আপু আই আন্ডারস্ট্যান্ড বাট খারাপ সময় পুরাটা পার করার পরে কেন?

আপাতত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে আমার কোনও সমস্যা নাই,কিন্তু আমি মানসিকভাবে সত্যিই খুব ঝামেলার মাঝে আছি। আমার প্রেমিক পৃথিবীর সেরা প্রেমিক। আমি ওকে মেরে ফেললেও ও আমার পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। আমিও কিন্তু একটা সময় সেরা প্রেমিকা ছিলাম। কিন্তু এখন সেরা দূরে থাক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতও বিহ্যাভ করতে পারিনা আপু। আমি এরকম কেন হয়ে গেলাম? আগের আমি আর এখনের আমির মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত। কিন্তু যখন আমি এই কাজগুলি করি তখন এগুলো না করা পর্যন্ত ভালো লাগেনা। এত বাড়াবাড়ি রকমের জেদি ডোমিনেটিং আমি কিভাবে হয়ে গেলাম আপু? এমনকি আমি যখন ওর উপর বাড়াবাড়ি অধিকার খাটাই জেদ দেখাই যা মন চাচ্ছে তাই করতে বাধ্য করাই আমার একটা অন্যরকম প্রশান্তি কাজ করে। এদিকে আমার কাজের চাপও যথেষ্ট থাকে সারাদিনে। আমি অলওয়েজ ফ্রাস্ট্রেশনে ভুগছি। কোনও কিছুই ভালো লাগেনা। সারাক্ষণ ফ্রাস্ট্রেশনে থাকি আর দিনশেষে ওকে যা ইচ্ছা তাই বলি। যেকোনো কিছু উনিশ বিশ হলেই ওকে আটকাই আর ও ভালবাসার খাতিরে আমার ডিশিসানই মেনে নেয়। আমার ফ্রাস্ট্রেশন এখন শুধুমাত্র ওর উপর অন্যায় অধিকার দেখিয়ে কাটে। ওকে কিছু একটা ডিমান্ড করি, ও মেনে নেয় আর তখন সাময়িকভাবে আমার ভালো লাগে। কিন্তু পরে প্রচুর গিলটি ফিল হয় আর সেই কারণে আবারও খারাপ থাকি। ও বলে তোমাকে যেকোনো একদিক বেছে নিতে হবে। তুমি যদি আমার উপর জেদ দেখিয়ে ভালো ফিল কর তবে তাই কর, আমার তো কোনও সমস্যা হচ্ছেনা। বাট সেটা নিয়ে গিলটি ফিল করোনা। কিন্তু এটা কি হয় বলেন? আমি আবার আগের আমি হতে চাই। সহজভাবে ভাবতে চাই, সর্বোপরি ভালো থাকতে চাই যেকোনো উপায়ে। আমি কীভাবে মানসিকভাবে স্বাভাবিক হবো আপু?”

পরামর্শ:
দেখুন আপু, আপনার সমস্যাটি যে একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ও মানসিক, সেটা নিশ্চয়ই আপনিও বুঝতে পারেন। তাই না? আর পৃথিবীতে এমন কিছু সমস্যা থাকে যেগুলোর সমাধান আমাদের নিজেদেরকেই করতে হয়, অন্য কেউ খুব একটা উপকারে আসতে পারে না।

আপনি কি এটা বুঝতে পারছেন যে এভাবেই চলতে থাকলে আপনি প্রেমিককে হারিয়ে ফেলবেন? একটা মানুষ সহ্য করছে, কিন্তু তাঁর সহ্যের একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করে ফেললে তিনি অবশ্যই আপনাকে ছেড়ে যাবেন আর এটাই উচিত। আপনি মানতে চান বা না চান, একটা সত্য আপনাকে মেনে নিতেই হবে আপু। আর সেটা হচ্ছে, ভালোবাসা কোন চিরস্থায়ী জিনিস না। এর কোন গ্যারান্টি নেই যে আজীবন একই রকম থাকবে। হতে পারে অনেক কিছুই। ভালোবাসা একটা জুয়ার মত, এই জুয়ায় প্রচণ্ড একটা রিস্ক আছে। সেই রিস্ক মাথায় নিয়েই ভালবাসার সম্পর্ক চালিয়ে যেতে হয়। একটা ভুল পদক্ষেপে পুরোটাই ভেস্তে যেতে পারে, জেতা খেলাও হেরে বসতে পারেন।

আপনার কর্মকাণ্ড শুনে যা মনে হচ্ছে, তাতে আপনার একজন পেশাদারের হেল্প প্রয়োজন। আপনি একজন পেশাদার থেরাপিসট বা কাউন্সিলারের সাথে যোগাযোগ করুন ও নিয়মিত কাউন্সিলিং করান। এতে আপনার মনের চাপ কমবে ও মানসিক সমস্যা আসতে আসতে চলে যাবে। প্রয়োজনে দুজনে একসাথে কাউন্সিলিং করান। ছেলেটিস সাধ্যমত সব কিছুই করেছে, তাঁর চেষ্টায় আপনার ঠিক হওয়ার থাকলে এতদিনে হয়ে যেতেন। তাই পেশাদার সাহায্য আপনাকে নিতেই হবে।

আরেকটি কথা আপু, ছেলেটি দুজন প্রেমিকার মাঝে আপনাকে কেন বেছে নিয়েছিল জানেন? কারণ সেই কষ্টের সময়ে আপনি ধৈর্য হারা হন নি। আপনি সাহসের সাথে মোকাবেলা করেছেন, সুখে দুঃখে ছেলেটির পাশে থেকেছেন, তাঁকে সাপোর্ট দিয়েছেন। সেই কারণেই সে আপনাকে আরও বেশি ভালবেসেছে, সম্মান করেছে। এখন পাগলামি করে আরও সমস্যা তৈরি না করাই ভালো হবে। ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখুন এই সম্পর্ক আপনি চান কিনা। নাকি কেবলই প্রতিহিংসার বসে ছেলেটিকে জয় করেছেন? আমার কেন যেন মনে হচ্ছে জিদ আর প্রতিহিংসাই তখন আপনার মাঝে বেশি কাজ করেছিল।

যদি মনে করেন ছেলেটির কাছ থেকে কিছুদিন দূরে থাকলে আপনার ভালো লাগবে, তাহলে সেটাই করুন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top