ও আমাকে বিয়ের ২ মাসের মাথায় ডিভোর্স দিতে চায় …

প্রশ্নটি আমাদের ফেসবুক পেজে করেছেনঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী

আমার বয়স ২৪ বছর। আমি এম বি বি এস শেষ বর্ষে পড়ছি। আমার বিয়ে হয়েছে ৭ মাস। আমি বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। অনেক আদরে বড় হয়েছি। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। আমার শ্বশুর বাড়ির আর্থিক অবস্থা অতটা ভালো নয়।

আমি কখনই বাসায় কোন কাজ করিনি আপু। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে যতটুকু পারি করতে চেষ্টা করি। আর আমার পড়াশোনার জন্য আমি এসবে সময় দিতে পারিনা। আমার শ্বশুর শাশুড়ি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমার স্বামীও খুব একটা ভালোনা আপু। ও সবসময় বাবা মার কথা শুনে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। ওর বাবা মার কথা শুনে আমাকে ডিভোর্স দিতে চায়। আমার বিয়ের পর ও আমার কোন খরচ দেয়না। আমার কলেজের বেতনও আমার বাবা দেয়। আমার পরিবার কখনই আমার স্বামীকে এসব নিয়ে ছোট করেনা। কিন্তু আমার স্বামী, শ্বশুর বাড়ির মানুষ আমি কাজ পারিনা বলে অনেক কথা শোনায়।

আমি পরীক্ষার জন্য এখন আমার মায়ের বাসায় আছি। আমার সাথে শ্বশুর বাড়ির কেউ যোগাযোগ করেনা, আমার স্বামী ছাড়া। কিন্তু ও আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। ও আমাকে বিয়ের ২ মাসের মাথায় ডিভোর্স দিতে চায় আমি কাজ পারিনা বলে। আমি কী করবো বুঝতে পারছিনা আপু। আমি তো এরকম চাইনা। একটা সুন্দর সংসার আর ভালো স্বামী চেয়েছিলাম। আমি কী করবো এখন?

 

পরামর্শ

আপনি এত কথা লিখেছেন, কিন্তু এটা লেখেন নি যে আপনাদের কীভাবে বিয়ে। আপনি এম বি বি এস পড়ছেন, ডাক্তার হতে চলেছেন। এমন একটি মেয়েকে পিতা মাতা এমন পরিবারের সাথে কেন বিয়ে দেবে যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো হয়? আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আপনি নিজের পছন্দেই বিয়ে করেছিলেন! আমার ধারণা কি ঠিক আপু?

এখানে বলে রাখি, আপনার মত এমন সমস্যায় আমাদের দেশের অসংখ্য মেয়ে ভুগছেন। তবে একজন হবু ডাক্তারের মুখে থেকে “বিয়ের পরও ও আমার কোন খরচ দেয় না”- এই ধরণের কথা শুনতে খুবই খারাপ লাগলো। আপনাদের মত মেয়েরাও যদি পরের ওপরে নির্ভরশীল হয়, তাহলে চলবে কেন? যাই হোক, উপদেশ না দিয়ে কাজের কথায় আসি।

আপনি এখন প্রথমেই খুব ভালো করে ভেবে দেখুন যে স্বামীকে আপনি ভালোবাসেন কিনা এবং সম্পর্কটি আপনি রাখতে চান কিনা। উত্তর যদি “হ্যাঁ’ হয়, তাহলে স্বামীর সাথে কথা বলুন। স্বামীকে জানান যে তাঁর পরিবারের সাথে আপনি বাস করতে আগ্রহী নন, স্বামীর সাথে আলাদা থাকতে চান। আর নিজেও প্রয়োজনীয় কাজকর্ম পরীক্ষার পর শিখে নিন যেন নিজের সংসারে অসুবিধা না হয়। পরিবার থেকে দূরে থাকলে আপনাদের দাম্পত্যের অনেক সমস্যাই মিটে যাবে। তবে হয়তো আপনার স্বামী তাতে রাজি হবে না। সেক্ষেত্রে আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করুন, আপনি কি মানিয়ে নিতে পারবেন এমন পরিবেশে? কিছুদিন বাদে আপনি পেশার জগতে প্রবেশ করবেন, তখন আর সংসার করার দিকে মনে দিতে পারবেন না। সেটাও স্বামীকে জানিয়ে দিন। তবে হ্যাঁ, সম্ভবত আপনার স্বামী ও তাঁর পরিবার মনে করেন যে মেয়েদের জায়গা কেবলই রান্নাঘরে।

আর যদি মনে করেন যে এই সংসার চাই না, তাহলে দেরি করবেন না। অবিলম্বে পিতা মাতার সাতে কথা বলুন। তাঁদের অনুমতি নিয়ে ডিভোর্সের চিন্তা করুন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংসার করা অর্থহীন। ভালোবাসা না থাকলে সংসার করা অর্থহীন।

 

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top