আমাদের বিয়ে ভাঙতে বাধ্য করে তার পরিবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন।—বি. স.

সমস্যা

২০০৫ সালে একটি মেয়ের সঙ্গে আমি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। মেয়েটি আমার আত্মীয়ও হয়। আমরা ২০১০ সালে গোপনে বিয়ে করি। যদিও বিয়ের পর যে যার বাসায় থাকতাম। এক বছর পর তার পরিবার জেনে যায় আমাদের বিয়ের কথা। কয়েক দিন পর চাপ দিয়ে আমাদের বিয়ে ভাঙতে বাধ্য করে। তারা বলে, আমি প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে আমার সঙ্গে তাদের মেয়ের বিয়ে দেবে। আমিও এরপর নিজের মতো করে জীবন গোছাতে থাকি। তবে পরিবারের অজান্তে আমাদের মধ্যে ঠিকই যোগাযোগ হতো। ২০১৪ সাল থেকে অভিভাবকরা উঠেপড়ে লাগে তাকে বিয়ে দিতে। আমি সে সময় আমার পরিবারকে বুঝিয়ে তাদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই। তারা শুধু না-ই করেনি, উল্টো অপমান করে। এরপর আমি খুব ভেঙে পড়ি। তখন আমি মাস্টার্স শেষ করি। খুব দিশেহারা অবস্থা। চেষ্টা করি তাকে পাওয়ার জন্য। কিন্তু গত বছর তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। আমি এখনো তাকে প্রচণ্ড অনুভব করি। এ দুই বছর চাকরি না করায়, এখন চাকরি খুঁজতে গেলেই প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি, এত দিন কী করেছি। সব মিলিয়ে খুব কষ্টে আছি।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক

কুমিল্লা।

পরামর্শ

যখন সম্পর্কে জড়িয়েছ, তখন তোমাদের দুজনেরই বয়স খুব কম ছিল। তারপরও তোমরা অনেক বছর সম্পর্কটি টিকিয়ে রেখেছ। তবে কারও পরিবারকে না জানিয়ে কী কারণে বিয়ে করেছিলে, তা বুঝতে পারছি না। তখন তোমাদের বিয়ের বয়স হয়েছিল কি না জানি না। তবে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন ছিল। মনে হয়, তোমরা নিজেদের জায়গাটি দৃঢ়ভাবে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারোনি। তাই অভিভাবকেরা জোর খাটাতে পেরেছেন। তুমি সরলভাবে মেয়েটির অভিভাবকদের বিশ্বাস করেছ। মানসিকভাবে একটি খুব বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও তুমি মাস্টার্স শেষ করেছ। এ জন্য তুমি অনেক প্রশংসা পাবে। বাস্তবতা হচ্ছে, মেয়েটি এখন অন্য একজনের স্ত্রী। কাজেই অনেক কষ্ট হলেও তোমার নিজেকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে হবে। মেয়েটিকে জোর করে ভোলার চেষ্টা না করে তোমাদের স্মৃতিগুলোকে মনের একটি জায়গায় রেখে দাও। এত বছরের সম্পর্ক থাকার পর কাউকে হারিয়ে ফেললে আমরা তীব্র নেতিবাচক অনুভূতির ভেতর দিয়ে যাব, এটাই স্বাভাবিক। তবে এখান থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলোই আমাদের নতুন করে পথ চলতে শেখায়।

শরীর খারাপ থাকলে সেটি বাইরে থেকে বোঝা যায়। কিন্তু কেউ বিষণ্নতায় ভুগলে বাইরে থেকে অনেকে খেয়াল করে না। কিন্তু এর প্রভাব আমাদের জীবনকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এলোমেলো করে রাখতে পারে। কেউ তোমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে নিজেকে সংযত রেখে নিজেকে নিজে বলবে, তোমার পক্ষে সেই সময়টিতে আবেগগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল না। আশা করছি তুমি নিজেকে কিছুটা হলেও সামলে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে পারবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top