বিয়ে হওয়ার পর যদি বুঝতে পারে যে বিয়েটি কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক হয়নি, তখন করণীয় কী?

আসসালামু ওয়ালাইকুম। আশা করি ভালো আছেন। আমার প্রশ্নটি বিয়ে নিয়ে। যদিও ঠিক বিয়ে বলা যায় না। আশা করি, প্রশ্নের উত্তরটি ইসলামিক দিক থেকে দেবেন, অর্থাৎ কোরআন বা সুন্নাহর আলোকে। একটি মেয়ে একটি ছেলের ছলনায় পড়ে তাকে বিয়ে করে। মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য ছেলেটি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে থাকে, বিশেষ করে ওই মেয়ে যা যা পছন্দ করে, ছেলেটি তাই তাই করতে থাকে। কিন্তু মেয়েটি তখনো তাকে পছন্দ করেনি এবং বিয়েতে মেয়েটির কোনো মতও ছিল না। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে তার বান্ধবীদের দ্বারা ওই ছেলে প্রায় দুই মাস বোঝায়, যাকে ব্রেইন ওয়াশও বলা যেতে পারে। তো এক সময়ে মেয়েটি রাজি হয়ে যায় এবং ভাবতে থাকে, তার বান্ধবী খুব ভালো এবং যেহেতু এতোটাই ক্লোজ হয়তো ভালোর জন্যই বলছে। তারপর তারা যথারীতি বিয়েটা করে ফেলে। কীভাবে করছে সেটা একটু বলি। প্রথমত কোথা থেকে যেন ওই ছেলে পছন্দসই এক হুজুর ধরে নিয়ে আসে এবং ওর দুটি বান্ধবীও সেখানেই ছিলো। উল্লেখ্য যে, ওই হুজুর ও বান্ধবী দুটি ওই ছেলের গ্রামেরই বাসিন্দা ছিল। ছেলে এবং মেয়ে দুইজনের বাড়ি দুই গ্রামে। পরে সেই হুজুর ইসলামে যেভাবে বিয়ে পড়ানো হয় সেভাবেই কবুল বলান। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি বা অন্যকিছু হয়নি এবং ওই হুজুরও তেমন কিছু করেননি। বিয়ের পর মেয়েটি তার ভুল বুঝতে পারে এবং হাদিস থেকে দেখতে পায় যে বিয়েটি সহীহ হয়নি। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যা হয় তাদের মধ্যে তাও হয়নি। এখন আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, বিয়েটা কি আদৌ হয়েছে? না কি হয়নি? আরো উল্লেখ্য যে, সেখানে ওই মেয়ের বাবা-মায়ের কোনো অনুমতিও ছিল না এবং তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। জানেনও না আজ পর্যন্ত। আশা করি, আমার প্রশ্নের উত্তরটি দেবেন। ধন্যবাদ।

সমাধানঃ

প্রথমে জানতে হবে ইসলামের দৃষ্টিতে সহীহ বিবাহ কীভাবে হয়। বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল, একই মজলিসে বর-কনে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে সাক্ষীগণের সম্মুখে বিবাহের ইজাব-কবুল তথা (প্রস্তাব- কবুল) গ্রহণ করবে। আর তারা (বর-কনে) উপস্থিত হতে না পারলে, তাদের পক্ষ থেকে বিবাহকার্য সম্পাদনের জন্য কোনো প্রতিনিধি-অভিভাবক নিয়োগ করবে। তারা স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে অপরের বিবাহের প্রস্তাব দিবেন বা কবুল করবেন। দুজন সাক্ষীর উপস্থিত থাকা এবং উপস্থিত পাত্র-পাত্রী বা তাদের প্রতিনিধি থেকে সরাসরি ইজাব-কবুল শ্রবণ করা আবশ্যক। বর-কনে সরাসরি উপস্থিত থাকলে অভিভাবক না থাকলে কোনো সমস্য নেই। তবে মেয়ে যদি বালেগা বা প্রাপ্তবয়স্কা না হয় তাহলে অভিভাবক উপস্থিত থাকা জরুরি।

যদি সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে ইজাব-কবুলের ভিত্তিতে বিয়ে হয়ে থাকে তাহলে আপনার বিবাহ সহীহ হয়েছে। রেজিস্ট্রি না করাতে ইসলামের কোনো সমস্যা নেই। [মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৯৫১৮, ২৫৩২৬, ১৬১২৩০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১০৪৯০, ১০৪৯৪] ধন্যবাদ

পরামর্শ দিয়েছেন :
মাওলানা মিরাজ রহমান
ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top