পাঠকের প্রশ্ন : মন থেকে ওকে কতটা মানতে পেরেছি জানিনা

পাঠকের প্রশ্ন : আমার পরিচয় কি নতুন করে আবার দিতে হবে আপু? তবুও বলি নামটা সামনে না আসুক। কেমন আছেনএসব কথা থাক, আসি আসল কথায়।

আসলে সমস্যা যে কি তা আমি নিজেও বুঝিনা। এক সময় তো নিজেকে অসুস্থই মনে হতো। একটা কথা বলি, আমি মানসিকভাবে এতটাই অসুস্থ হয়ে পরেছিলাম যে পরিবারের মানুষ আমাকে মানসিক ডাক্তারের কাছে নেওয়ার চিন্তা করছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমত তা আর লাগেনি।

একজনকে ভালোবাসতাম। আসলে বাসতাম বললেও ভুল হবে। এখনো মনের কোণে সেই আছে, থাকবে। তা যা কিছুই ঘটুক আমার জীবনে আর যেই আসুক। তার সাথে বিয়ের কথাও এগিয়েছিল অনেকটা। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তার সাথে বিয়ের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৩ এর নভেম্বরে জানতে পারি, তিনি আগে থেকেই বিবাহিত। তার সেই স্ত্রীই আমার সাথে কথা বলেছে। তাকে জিজ্ঞেস করায় বলেছে, বিয়ে করিনি শুধু সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এরপর থেকেই সে দূরে সরতে থাকে। একসময় সে ফেসবুকে ব্লক করে দেয়, নম্বর পালটে ফেলে। আমি তার মায়ের সাথে কথা বলি, সে বলে আমার ছেলের জন্য আমি তোমার কাছে দুঃখিত। কিন্তু আমিও চাইনা এই অবস্থায় তুমি আমার পরিবারের সদস্য হও, ওই মেয়ে অনেক ঝামেলা করবে যা তুমি সহ্য করতে পারবে না। আস্তে আস্তে সব শেষ হয়ে যায়। খাওয়া, ঘুম ছিলো না বললেই চলে প্রায় সাত মাস। এরপরে একটু একটু করে নিজেকে সামলে নিয়েছি।

বছরখানেক একদম একা নিজের মতো করে কাটিয়েছি। এরপরে একজনকে ভাললাগে। সেও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তার সাথে আমার কনভারসেশন দেখলে যে কেউ বুঝবে আমাদের সম্পর্ক ছিল। আমি অন্তত তাই ভাবতাম। কিন্তু হঠাৎ একদিন জানায় তার প্রেমিকা আছে ৩ বছর হয়। তাহলে কেন আমার সাথে এই প্রতারণা? প্রশ্নের উত্তর পাইনি। শুধু বলেছে- ভালোবাসি কিনা জানিনা, তবে তোমার মধ্যে একটা মায়া আছে।

এদিকে বয়সও হয়ে যাচ্ছিলো। পরিবার থেকেও বা কত আর অপেক্ষা করতো। তারা ভালো মনে করে যাকে বলেছে তাকেই বিয়ে করেছি। জানতেও চাইনি সে কী করে, কোথায় থাকে বা দেখতে কেমন। যাই হোক, আমার স্বামী মানুষটা ভালো। বিশেষ করে আমার ব্যাপারে খুব সে খুব পজেসিভ। তাকে অপছন্দ করার কোন কারণ নেই। তাকে দেখাতে হয় তাকে আমি পছন্দ করি। কিন্তু আসলেই মন থেকে তাকে আমি কতোটা মানতে পেরেছি নিজেও বুঝিনা। এখনো একা থাকলে কাঁদি প্রথম জনের জন্য। দ্বিতীয় জনকেও মনে পড়ে।

যাদের ঘৃণা করা উচিৎ, সেটাও মন থেকে আসে না। যাকে মন থেকে মেনে নেওয়া উচিৎ তাকেও মানতে পারিনা পুরোটা। সব কিছু নরমাল দেখাতে দেখাতে ক্লান্ত লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুই ফেইক। আসল আমিটা আর কখনোই ফিরবেনা। সে আমিটায় আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। কোন টিপস আছে আপু, একটু মন শান্ত করার???

 প্রশ্নটি আমাদের ফেসবুক পেজে করেছেন : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণী

 

পরামর্শ:  আপনি খুব বুদ্ধিমতী একটি মেয়ে, আপু। নিজেই সব জানেন, সব বোঝেন। তবুও মাঝে মাঝে হয়তো আমাদের এমন কাউকে দরকার হয়, যে ওই কথাগুলোই আমাদেরকে আরেকবার সশব্দে বলতে পারে। এটা আর কিছুই নয়, নিজের মনকে আরেকজনের মাধ্যমে বুঝ দেয়ার মত। আমি কিছু কথা বলার চেষ্টা করি। দেখুন, আপনার ক্ষতস্থানে একটুখানি স্বস্তি মেলে কিনা।

সত্যি বলি, আপনার সাথে যা হচ্ছে সেটা খুবই স্বাভাবিক। যদিও আমরা সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলি যে সময়ের সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বা আস্তে আস্তে সব ভুলে যাবে… আমার মনে হয় না ব্যাপারগুলো আসলে সেরকম। কিছু একান্ত গোপন দুঃখ, কিছু একান্ত গোপন কষ্ট আসলে আজীবন মনের মাঝে থাকে। থাকে, কারণ এই কষ্টগুলোই আমাদেরকে আমি বানায়, এই কষ্টগুলোই আমাদের মনের মাঝের পৃথিবীটা তৈরি করে, ভিড়ের মাঝেও আমাদেরকে বিশেষ করে তোলে। বিশ্বাস করুন, এমন একান্ত গোপন কিছু কষ্ট সবার আছে! কেউ হয়তো সেটাকে অস্বীকার করে পাশ কাটিয়ে হাসিমুখে জীবন কাটিয়ে দেয়, কেউ হয়তো কষ্টের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতায় ভুগতে শুরু করে। কারণ, মনের ওপরে তো কোন জোর চলে না। চলে কি? তাই আপনি যে বিষণ্ণতায় ভুগছেন, সেটা অন্যায় কিছু নয়। হতেই পারে এমন, কারণ আমরা মানুষ। অন্যায় হতো তখনই, যদি সেই বিষণ্ণতার কারণে জীবনটা এখনও স্থবির হয়ে রইতো। সেটা হয়নি, যেভাবেই হোক আপনি সাহস করে জীবনের পথে পা বাড়িয়েছেন। এটা কিন্তু অনেক বড় অর্জন, অনেক বড়!

ভালবাসা খুব অদ্ভুত একটা জিনিস। এক জীবনে হয়তো অনেকেই সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কিন্তু এদের ভিড়ে এমন একজন মানুষ থাকে যাকে আমরা সবচাইতে বেশি ভালবাসি। কোন একটা অজানা কারণে সেই মানুষটার জন্যই আমাদের সমস্ত আবেগ তোলা থাকে। আমরা নিজেরাও জানি যে সেই মানুষটির মত ভালো আর কাউকে বাসতে পারবো না। আর প্রথম প্রেম তো এমনিতেও ভোলা যায় না! প্রথম যে মানুষটি আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, সেই মানুষটা হয়তো আপনার জীবনে সেই একজন মানুষ। তবে এটাও কিন্তু সত্য যে আপনার জীবনে তাঁর গুরুত্ব যতটা বা যেমনটা ছিল, তাঁর জীবনে ব্যাপারটা তেমন ছিল না। ছিল না বলেই সম্পর্কের সুতো ছিঁড়তে ছিঁড়তে একসময় ছিঁড়েই গেছে। নিজের মনের গভীরে আপনিও জানেন যে ব্যাপারটা ঠিকই হয়েছে, তাই না? কারণ ওই সম্পর্ক বিয়েতে গড়ালে আপনি কখনোই ভালো থাকতেন না।

আর দ্বিতীয় প্রেম যেটা, আমার মনে হয় না সেটা ভালবাসা ছিল। আপনার সেই ভাঙা মন নিয়ে ওই সময়টায় একটা অবলম্বন, একজন কাছের মানুষের খুব প্রয়োজন ছিল। ক্ষণিকের ভ্রমেই সেই সম্পর্কটা গড়ে ওঠা, যে আদতে কোন সম্পর্কই ছিল না। সেটাকে এতটা গুরুত্ব দেয়ার বা নিজের জীবনে খুব বিশেষ কিছু ভাবাটা বোকামি হবে। ওটা কেবলই যাপিত জীবনে ক্ষণিকের ভ্রম…

এবার আসি আপনার স্বামীর কথায়! কিছু না দেখে শুনে একটা মানুষকে হুট করে বিয়ে করাটা বোকামিই বটে, তবে আপনার সেই সময়কার মনের অবস্থাটা আমি আন্দাজ করতে পারছি। এবং বলবো, এটা আপনার সৌভাগ্য যে মানুষটি ভালো মিলেছে। এমনও তো হতে পারতো যে এমন কারো সাথে আপনার বিয়ে হয়েছে যাকে আপনি সহ্যই করতে পারছেন না। একটু নিজেই চিন্তা করে দেখুন, এমন একটি মানুষ পেয়েছেন যে আপনাকে সত্যিই পছন্দ করে। এটা কি একটা বড় পাওয়া না? আমি জানি, নিত্যদিন কারো সাথে ভালোবাসার নাটক করতে কেমন লাগে। এটার চাইতে ক্লান্তিকর আর কিছুই হতে পারে না। তবুও সত্য এটাই যে আমরা সকলেই কমবেশি অভিনয় করি সম্পর্কের ক্ষেত্রে। করি, কারণ এই অভিনয়টুকুন আমাদের সম্পর্কগুলিকে সুন্দর রাখে। কিন্তু কষ্ট একান্তই গোপন, থাক না সেগুলো মনের মাঝেই। না, অতীতকে ঘৃণা করার কোন দরকার নেই। কারণ ঘৃণা করাও এক অর্থে মনে রাখাই। বরং অতীতকে মেনে নিন আর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন মনের কোথাও। খুব প্রিয় কেউ মারা গেলে আমরা কী করি? জানি সে আর কখনো ফিরবে না। আর তাই সেই না ফেরাটুকুকে মেনে নিয়ে মানুষটার সাথে জড়িত সকল সুখ দুঃখের স্মৃতি মনের একটা ঘরে সাজিয়ে রাখি। কখনো কখনো দরজা খুলে সেই ঘরটি থেকে ঘুরে আসি। হাসি, কাঁদি… খানিকটা সময় কাটিয়ে আবারও ফিরে আসি বাস্তবতায়।

মৃত সম্পর্ক সেই মৃত প্রিয়জনের মতই! একে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলে , ঘৃণা করার চেষ্টা করলে ক্ষত আরও গভীর হয়। মৃত প্রিয়জনকে যেমন ঘৃণা করা যায় না, মৃত সম্পর্ককেও ঘৃণা করতে নেই। সেই সম্পর্ক, সেই স্মৃতিগুলো আপনার জীবনের একটা মূল্যবান অংশ। আপনার অস্তিত্বের অংশ। সেটাকে সহজ ভাবে নিজের জীবন অভিজ্ঞতায় ঠাই দিন, জানবেন আপনাকে আজকের “আমি” করে তুলতে সেই অংশটুকুর খুব প্রয়োজন ছিল। বয়সের সাথে, জীবন অভিজ্ঞতার সাথে সাথে আমরা বদলাই। আর এই বদলে যাওয়াটাই জীবন। সব সময় তো আর আমরা আগের মত থাকতে পারি না, তাই না? নিজের জন্য আমাদের করা প্ল্যান সব সময়ে সফলও হয় না। হয়তো চাই একটা, হয়ে যায় আরেকটা। কিন্তু যা হতে পারিনি, সেটার জন্য আজ যা হয়েছি সেটাকেও নষ্ট করে ফেলা কি বুদ্ধিমানের কাজ?

আপনি লিখেছেন যে স্বামীকে মন থেকে মেনে নিতে পেরেছেন কিনা জানেন না। আমি একটা কথা বলি? মেনে নেয়ার ব্যাপারটা কি জোর করে আসে? আসে না। আবার অন্যদিকে এটাও সত্য যে, সেই প্রথম মানুষটিকে আপনি যেভাবে ভালবেসেছিলেন বা মেনে নিয়েছিলেন নিজের অন্তর গহীনে, সেভাবে আর অন্য কাউকে ভালবাসতে পারবেন না। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে- সেভাবে ভালোবাসার দরকারটা কি বলুন তো? কোন দরকার নেই! পরিবারের সবাইকে কি আমরা সমান ভালবাসি? হয়তো মায়ের জন্য টান বেশি থাকে, বাবার জন্য ভালোবাসায় থাকে অনেকখানি সম্মান। বোনকে একটু বেশি আপন ভাবি, ভাইয়ের ওপরে নির্ভর করি… প্রত্যেকটা ভালবাসা, প্রত্যেকটি সম্পর্ক তার নিজের মতই। প্রেম বা দাম্পত্যও কিন্তু তাই। একেকজনের সাথে সম্পর্কটা একেক রকম হবে আর সেটাই স্বাভাবিক। ধরুন একটি মানুষ দুটি বিয়ে করেছেন, দুজনকেই প্রেম করে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তবুও, দুজন জীবন সঙ্গীর সাথে তার সম্পর্কটা কিন্তু দুই রকম হবে। যদিও দুজনকেই প্রেম করে বিয়ে করা, কিন্তু তবুও! এটাই সত্য আর এটাই বাস্তব। স্বামীর সাথে একটা মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলতে গেলেই যে অতীতের সবকিছু ভুলে মনকে ধুয়ে মুছে সাফ করতে হবে, নাহলে সেটা স্বামীর সাথে প্রতারণা বা অভিনয় হবে- বিষয়টি মোটেও সেটা নয়। বরং অতীতকে মনের একটা ঘরে সাজিয়ে রেখেও আপনি স্বামীর সাথে নতুন একটা দুনিয়া গড়তে পারেন। নতুন সম্পর্ক, নতুন স্মৃতি, নতুন একটা পৃথিবী। এতে দোষের কিছু নেই, এটা অভিনয় বা ফেক ভাবারও কোন কারণ নেই। স্বামী আপনার বর্তমান আর সেটা সত্য। মানুষটি আপনাকে ভালোবাসে, উপভোগ করুন না তার ভালবাসা। নিজেকে ছেড়ে দিন, জীবনের স্রোতে নিজেকে চলতে দিন। অতীতের প্রতারণার কথা মনে করে কষ্ট হতেই পারে, কিন্তু সেই কষ্টটাও একসময় উপভোগ করা শিখে যাবেন। কখন শিখবেন জানেন? যখন বর্তমানের সম্পর্কে আপনি সত্যিকারের সুখী হতে পারবেন।

কিন্তু ততদিন, নিজেকে সুখী হবার সুযোগ দিন। দাম্পত্য একটা অনেক বড় দায়িত্ব, মাঝে মাঝে যে কোন একজনের ভালোবাসাই দুজনের জীবন কাটিয়ে নেবার জন্য যথেষ্ট হয়। স্বামীকে আপনি প্রেমিকাদের মত তীব্র ভালোবাসায় সিক্ত করতে পারছেন না বলেই আপনার ও তার সম্পর্কটি মিথ্যে হয়ে যায় না। বরং দেখবেন, সময়ের সাথে সাথে এই স্বামীর সাথেই আপনার সবচাইতে গভীর ও নির্ভরতার সম্পর্কটি গড়ে উঠবে। প্রতিটি ভালোবাসাই যে পরস্পর থেকে পৃথক!

যা হয়েছে, যা হচ্ছে… মেনে নিন। একমাত্র এই গ্রহণ করাটাই আপনার মনকে শান্ত করবে। জীবনে কিছু দুঃখ, কষ্ট , প্রতারণা, অপমানের গল্প থাকবেই। কিন্তু সেগুলো আছে বলে কি বেঁচে থাকা ছেড়ে দেয়া যায়? যায় না। অতীত হচ্ছে স্মৃতি, আর ভবিষ্যৎ হচ্ছে স্বপ্ন। একমাত্র সত্য বর্তমান! জীবন এখানে, এই মুহূর্তে। জীবন বর্তমানে! এখন যে সাথে আছে, এখন যে পাশে আছে, এখন যে হাত ধরে আছে… তাঁকে মূল্য দেয়াটাই সবচাইতে জরুরী। না, মিথ্যে করে “ভালবাসি” বলার কোন প্রয়োজন নেই। বরং মানুষটাকে আলাদা একটা স্থান দিন নিজের মনে, সেই আলাদা স্থানটি থেকেই তাঁকে ভালবাসুন। প্রথম প্রেমের মত করে ভালবাসা নয়, বরং জীবনের পথে পরম বন্ধুটির মত করে ভালবাসা। মনের কোণে যে আজীবন থাকবে বলছেন, সে থাকুক না নিজের স্থানে। যে মানুষটি এখন জীবনে আছে, তার জন্য নতুন একটা জায়গা তৈরি করুন। কে জানে, একদিন হয়তো এই মানুষটির প্রেমেই আপনি পড়ে যাবেন, যেভাবে আর কারো প্রেমে পড়েন নি! না পড়লেও ক্ষতি কিছু নেই। তার জায়গাটিতে তিনি আজীবন থাকবেন।

সুদীর্ঘ ভবিষ্যতের প্ল্যানিং নিয়ে হয়, আপাতত কিছুদিন কেবল একটা দিনের জন্যই না হয় বেঁচে থাকুন। আজকের দিনটার জন্য, আজকের দিনে যে মানুষটাকে পাশে পেলাম তার জন্য, আজকের দিনে যে ভালোবাসাটা পেলাম সেটার জন্য… অতীতের হিসাব বাদ দিয়ে আজকের বেঁচে থাকাটা এমন হোক যেন আগামীকাল বলতে কিছু নেই। আপাতত কিছুদিন এমনটাই চলুক না। দেখবেন আস্তে আস্তে জীবনের ক্লান্তি কেটে যাচ্ছে, আপনি আবার জীবিত হয়ে উঠেছেন নিজের মাঝে। জীবন তো আসলেই কেবল বর্তমানে। আগামীকালের কোন গ্যারান্টি তো নেই, তাই না?    

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top