আত্মসুখ

মা বুড়ো হলেন। সারামুখে ছড়িয়ে আছে সন্তান বড়ো করার ক্লান্তির ছাপ। সন্তানেরা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন তিনি পরিশ্রান্ত। সন্তানেরা ভালোবাসে মাকে। এবার, পীড়াপীড়ি করতে লাগলো ওরা- “কী চাই বলো মা। দুনিয়া এনে দেবো তোমার পায়ে। কী চাই বলো।” মা হাসলেন মৃদু। বললেন- “পাহাড়ের ওই ধারে, একটি বটবৃক্ষ আছে। ওটায় একটি দোলনায় একজন কিশোরী দুলছে। দোলনাটি এনে দিস।” উঁচুতম পাহাড়টি, দীর্ঘ বছর শেষে কায়ক্লেশে ডিঙিয়ে, ওই ধারে পৌঁছলো সন্তানেরা। দেখলো, ফুটফুটে এক অমল কিশোরী বটগাছে ঝুলন্ত একটি দোলনায় দুলছে আনমনে, আর আপনমনে গান গাইছে তো গাইছেই! কী উচ্ছল! বিষাদ নেই, উদ্বেগ-অপমান নেই, অশ্রু নেই চোখে! কাছে পৌঁছলো ওরা। বিমূঢ় হয়ে গেলো দেখে! এ যে তাদের মা! দু’বছর ধরে, দুয়ার পাহারা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বৃদ্ধা। অদূরে দেখা যাচ্ছে, ফিরছে ক্লান্ত সন্তানেরা। দুয়ারে এসেই ঝরঝর কান্নায় উপুড় হলো ওরা, মায়ের পায়ে- “অমন সুখী জীবন, অমন উচ্ছ্বাস, নিরুদ্বিগ্ন কাল, কোন্ সুখে ত্যাগ করে, সংসারে দাসী হতে এলো মা কিশোরী?” মৃদু হাসলেন মা। মাথায় হাত বুলিয়ে কাছে টানলেন ওদের। দু’বছর পর ঢুকলেন ঘরে। দু’বছর পর, খেতে বসবেন

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top