মুক্তিযোদ্ধা নাকি বীরঙ্গনা?

আজ মুক্তিযুদ্ধের একটা গল্প বলি।আসলে গল্প নয়,সত্য ঘটনা।ঘটনাটা আমার মায়ের কাছে বহুবার শুনেছি। মেয়েটা সম্পর্কে আমার মায়ের চাচাতো বোন হতো।যুদ্ধের বছর আমার মায়ের বয়স ১২/১৩।তার চাচাতো বোন তার থেকে বছর খানেকের বড়।আমার নানার গ্রামের পাশের গ্রামে ছিলো মিলিটারি ক্যাম্প।নানাদের গ্রামে আবার পাকিস্তানীদের তুলনায় রাজাকারের দাপট বেশি ছিলো।ওদের ভয়ে বিভিন্ন উপায়ে মেয়েদের লুকিয়ে রাখা হতো।যদিও তখন ঐবয়সী মেয়েদের বেশির ভাগই বিয়ে হয়ে যেত।এমন কি আমার মাও তখন বিবাহিত ছিলেন।(আমার বাবাকে এই মার্চেই যুদ্ধবন্দি হিসেবে পাকিস্তানে নেয়া হয়।সে কথা আরেক দিন লিখব)। একেত মেয়ের বিয়ের বয়স পার যাচ্ছে! তার উপর রাজাকারের ভয়।যুদ্ধের এই তান্ডবে ছেলেও পাওয়া যাচ্ছিলো না।তার বাবা বাধ্য হয়ে এক রাজাকারের ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিলেন। ভাবলেন, এতে হয়ত তার মেয়ে, এমনকি গোটা পরিবার নিরাপদে থাকবে।কিন্তু বিয়ের বেশ কিছু দিন পর মেয়েটা বাবার বাড়িতে পালিয়ে এলো।কারন তাকে নাকি নিয়মিত ঐ ক্যাম্পে পাঠানো হতো।পরে মেয়েটার শশুড়বাড়ির লোকজন এসে বলে মিলিটারীরা নাকি জোর করেই মেয়েটাকে নিয়ে গিয়েছিল। এতে তাদের কোনো দোষ নাই। একপ্রকার জোর করেই মেয়েটাকে তারা আবার নিয়ে গেলো।মেয়েটার পরিবারও সম্মান আর ভয়ে ওকে দিয়ে দিলো। এরপর মেয়েটা আর বাবারবাড়ি আসেনি।দেশ স্বাধীন হবার ২/৩ আগে ঐ পরিবারটা মেয়েটা সহ হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যায়।এখন পর্যন্ত কেউ জানেনা পরিবারটা কোথায় আছে।মেয়েটা বেচে আছে না মরে গেছে।তবে মেয়েটার মা এখনো বেচে আছে।আমি তাকে একবার মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম।উনি খুব বিশ্বাস নিয়ে বলেছিলেন, “মনে কয় ওরা মেয়েডারে নিয়ে পাকিস্তান চইলে গেছে।ছাওয়াল-পাওয়াল গুলোও মনে কয় ডাঙর হইছে।”মায়ের মন, হয়ত তাই সন্তানের কোনো খারাপ অবস্হা কল্পনাতেও আনতে পারেন না। আচ্ছা,জীবিত হোক বা মৃত হোক ঐ মেয়েটাকে কি মুক্তিযোদ্ধা বলা যায় না?

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top