লাইসেন্স বাতিল ১শ ৮৭টি কল সেন্টারের

লাইসেন্স নিয়েও দেশের এক তৃতীয়াংশ কল সেন্টার তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। আর ছয় মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর শর্ত পুরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাতিল হয়েছে ১৮৭ টি কল সেন্টারের লাইসেন্স। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিসেন্ট ডিরেক্টর জাকির হোসেন খান প্রিয়.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘বিটিআরসি থেকে এ পর্যন্ত লাইসেন্স নেয়া কল সেন্টারের সংখ্যা ৩৬৭ টি। কার্যক্রমে আছে ৮৫টি। শর্তপুরণে ব্যর্থ হওয়ায় এর মধ্যে বাতিল হওয়া কল সেন্টার ১৮৭টি। আর কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় আছে ৯৫টি কল সেন্টার’।

লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রমে না আসার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাকো) এক্সিকিউটিভ কো-অর্ডিনেটর আবদুর রহমান শাওনের সঙ্গে। এ বিষয়ে তিনি প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘দেশে নতুন কোনো ব্যবসা শুরু হলেই ব্যবসায়ীরা তার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। এ আগ্রহ থেকেই লাইসেন্স দেয়ার ঘোষণা আসার পর অনেক ব্যবসায়ী কল সেন্টারের লাইসেন্স নিয়ে থাকেন। কিন্তু কল সেন্টার ব্যবসার প্রতি জ্ঞানের অভাবের কারণে তারা আর কার্যক্রমে আসতে পারেনি।’

ভারত এবং ফিলিপাইন কল সেন্টারের ব্যবসায় অনেক এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশে এখনো ততোটা অগ্রগতি আসেনি। এর কারণ হিসেবে শাওন বলেন, `ভারত ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে এ ব্যবসা শুরু করেছে। কিন্তু আমদের দেশে শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। সে হিসেব করলে আমরা অনেক এগিয়ে আছি।’

call center

বাংলাদেশে কল সেন্টারের ব্যবসা সম্প্রসারিত করা গেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশে দুই লাখ লোকের কর্মসংস্থান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কল সেন্টারের অন্তরালে কোনো ধরণের ভিওআইপি ব্যবসার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘বিটিআরসির লাইসেন্স নিয়ে কোনোভাবেই কোনো প্রতিষ্ঠান ভিওআইপি ব্যবসার সুযোগ পায় না। কারণ প্রতি সপ্তাহেই ওই প্রতিষ্ঠানকে বিটিআরসির কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করতে হয় যেটা দেখলেই বোঝা যায় এটা কি ধরনের কল।’

কল সেন্টার কী
কল সেন্টার হচ্ছে টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম গ্রাহকদের জানায়। কোন কোম্পানি তার গ্রাহকসেবা সম্পর্কিত তথ্য তার ভোক্তাদের জানানোর জন্য অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়। আর এই দায়িত্বপালনকারী প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে কল সেন্টার।

কল সেন্টার যেহেতু বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করে, তাই যে কোন ভোক্তা যে কোন সময় একটি ফোন কলের মাধ্যমেই ওই কোম্পানির সেবা সম্পর্কিত তথ্য পেতে পারেন।

কল সেন্টারগুলো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দু’ধরনের কোম্পানির হয়েই কাজ করে। তবে আন্তর্জাতিক কলের ওপর কল সেন্টারের কার্যক্রম বেশি নির্ভরশীল।

কল সেন্টারের মাধ্যমে কোম্পানির পণ্য বা সেবা বিক্রি ছাড়াও ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট, পরামর্শ, হিসাব সংরক্ষণ, ডকুমেন্ট স্ক্যানিং, ই-পাবলিশিং ইত্যাদি কাজও কল সেন্টারের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

কল সেন্টারের প্রকারভেদ
কল সেন্টার মূলত দুই প্রকার। ইনকামিং বা ইনবাউন্ড কল সেন্টার এবং আউটগোয়িং বা আউটবাউন্ড কল সেন্টার। কোনো ক্লায়েন্ট যখন কোম্পানির কাস্টমার সাপোর্ট বা ইনফরমেশনের জন্য ফোন করেন, তখন সেটা ইনকামিং কল সেন্টার।

আউটবাউন্ড কল সেন্টারগুলো সাধারণত মার্কেটিং রিলেটেড হিসেবে কাজ করে। হোম সার্ভিস দেয়। সম্ভাব্য ক্রেতাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে, ফোন করে প্রডাক্টের গুণাবলী তুলে ধরে, ক্রেতা রাজি হলে তার বাসায় পৌঁছে দেয়।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top