ইল্যান্সের ওয়েবসাইট বন্ধ হচ্ছে

বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ইল্যান্স.কমের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে সকল বায়ার এবং ফ্রিল্যান্সারকে ই-মেইল করে এ তথ্য জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই মেইলে বিকল্প হিসেবে ইল্যান্সের প্রোফাইল আপওয়ার্কে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বা সমন্বয় করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ইল্যান্স জানিয়েছে, চলতি আগস্ট মাস থেকেই ফ্রিল্যান্সাররা এখানে নতুন করে আর নিবন্ধন করতে পারবেন না। আর আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইল্যান্স কর্তৃপক্ষ নতুন কাজের হালনাগাদ বন্ধ করে দিতে পারে। তবে আগামী ২০১৬ সালের প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত এখানে কাজ করা যাবে। এরপরেও সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে তাদের চলতি চুক্তিগুলো আপওয়ার্কে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইল্যান্স প্রোফাইলের নানান তথ্য, ম্যাসেজ, কন্ট্রাক্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে।

আপওয়ার্কে গেলেও ইল্যান্সের কাজের তথ্য এবং ফিডব্যাকগুলো থাকবে। যাঁরা আপওয়ার্ক এবং ইল্যান্স দুটি সাইটেই কাজ করছেন তাঁদের প্রোফাইল সমন্বয় করা হবে। কেউ যদি আপওয়ার্কে ১০টি এবং ইল্যান্সে ৫টি কাজ করে থাকেন, তবে তাঁর আপওয়ার্ক প্রোফাইলে ১৫টি কাজ দেখাবে। আর কাজের ফিডব্যাক স্কোর গড় (অ্যাভারেজ) করা হবে।

প্রসঙ্গত, গেল বছর আপওয়ার্ক ইল্যান্স-ওডেস্ককে কিনে নেয়। চলতি বছরের ৫ মে মঙ্গলবার ওডেস্ক-ইল্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নামে যাত্রা শুরু করে। ওডেস্কের নাম পরিবর্তন করে আপওয়ার্ক করলেও ইল্যান্স আলাদাভাবেই ছিল। অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সাররা আপওয়ার্ক এবং ইল্যান্সে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ করতে পারতেন। এখন আর এই সুযোগ থাকছে না, কেননা ইল্যান্সের ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর আগে যদিও আলাদা নামেই ওয়েব সাইট দুটো চলছিল। তবে মে মাস থেকে এই দুটি মার্কেটপ্লেস এক নামে কাজ শুরু করে এবং আগস্ট মাসে এসে ইল্যান্স তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

ইল্যান্সের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা শোনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমাদের গ্রামের পরিচালক রেজা সেলিম। তিনি বলেছেন, “কিছুদিন পর আপওয়ার্কও বন্ধ হবে আবার নতুন নামে হাজির হবে। এই যে বেনিয়াদের চরিত্র তা দিয়ে কিছু ভারতীয় আর কিছু মার্কিন পুঁজিওয়ালারা মিলে গরীব দেশগুলোকে কাজের স্বপ্ন দেখায় আর উদ্ভাবনের স্বপ্ন চুরি করে তা পাচার করে। এখন পর্যন্ত ১০ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার কর্মী ৪ মিলিয়ন ক্লায়েন্ট-এর কাজের যোগান দিয়ে ১ বিলিয়ন ডলারের কাজ বছরে করে! কোন যুক্তিতে এরা কিছুদিন পর পর নাম পাল্টায় আর নতুন মোড়কে হাজির হয়, নাচবার আগে আমাদের একটু বুঝে নিলে ভালো হবে।”

রেজা সেলিম আরও বলেন, “সিলিকন ভ্যালীর উদ্ভাবনী সৌন্দর্যের গায়ে কালিমা দিয়েছে এরা। এই Stephane Kasriel কিছুদিন আগেও Elance-এর প্রতিষ্ঠাতা Beerud Sheth-এর বিশ্বস্ত সহকর্মী oDesk সিইও Fabio Rosati-কে পারলে ঘাড়ে ধরে ক্যালিফোর্নিয়ার বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চেয়েছিল। আমাদের ছেলেমেয়েরা এতসব জানবার কথা নয় কিন্তু চক্রে পড়ে শেষমেষ সময়ের আগে মেধা খোয়ালে দায় নেবে কে?”

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী ইল্যান্সে বিশ্বের ১৭০টি দেশের মধ্যে আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ ১৩তম অবস্থানে ছিল। বাংলাদেশ থেকে ইল্যান্সে কাজ করছে প্রায় ৫৭ হাজার ফ্রিলান্সার। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের অগ্রগতি নিয়ে তৎকালীন ইল্যান্সের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খান জানিয়েছিলেন, শুধু বিশ্বব্যাপী উন্নত দেশগুলোতেই নয়, বাংলাদেশেও ফ্রিল্যান্সারদের অভাবনীয় অগ্রগতি হচ্ছে। শুধু ২০১৩ সালেই নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ২০১২ সালে যেখানে ১০,৯৬১টি কাজে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ পেয়েছিল, সেখানে ২০১৩ সালে এসে সেই সংখ্যাটি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২২,০৯৭ (আগের বছরের দিগুণেরও বেশি)। যে কারণে বাংলাদেশ অনলাইন মার্কেট প্লেসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং এ মার্কেটে ইল্যান্স বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তারই পথ ধরে বাংলাদেশ মার্কেটের জন্য ইল্যান্সের বেশ কিছু নতুন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সে সময়ের তথ্য অনুযায়ী, ইল্যান্সে সব মিলিয়ে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ লাখ। এর মধ্যে বাংলাদেশেই ছিল প্রায় ৫৭ হাজার। তবে গত বছর বাংলাদেশে ইল্যান্সের মুক্তপেশাজীবীদের তথ্য প্রকাশ করলেও ওই সময়ের পরে নতুন করে এ সংক্রান্ত কোন তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, সাবেক ইল্যান্স এবং বর্তমান আপওয়ার্কের বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করছেন সাইদুর মামুন খান।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top