ই-বাণিজ্য মেলা: দুয়ারে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তিসেবা

দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে কেনাকাটায় বেরোনোর সময় কোথায়? সময়ের অভাবেই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজন আর পছন্দের জিনিসটি কেনা হয় না। অপূর্ণ থেকে যায় সাধ আর ইচ্ছা। সেই ঘাটতি পূরণ হতে পারে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে। হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে পছন্দের পণ্য কেনাকাটা করতে পারেন আপনি। গৃহস্থালির পণ্য থেকে স্বর্ণালংকার কিংবা শখের গাড়ি- সবই ঘরে বসে পেতে পারেন প্রযুক্তির কল্যাণে।

চলতি শতাব্দীর শুরু থেকে প্রযুক্তির অগ্রগতি মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বাদ পড়েনি ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পর্যটন, বিনোদন, কেনাকাটা ইত্যাদি। একেই বলে ই-বাণিজ্য। চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ই-বাণিজ্য মেলা। জেলা প্রশাসন ও ই-ক্যাবের সহযোগিতায় মেলাটির আয়োজন করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা কম্পিউটার জগৎ। আজ শনিবার মেলার শেষ দিন। সবার জন্য উন্মুক্ত এ মেলার পর্দা নামছে আজ রাত ৮টায়।

মেলায় প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মেলায় তারুণ্যের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। মেলা প্রাঙ্গণের প্রবেশমুখেই দর্শনার্থীর জন্য আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতা। আগত সব দর্শনার্থী কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিতে পারেন আকর্ষণীয় পুরস্কার।

মেলায় মোট ৪০টি স্টল রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে নিজের পছন্দের পণ্য সহজেই পাওয়া যেতে পারে, আগত দর্শকরা তা জেনে নিচ্ছে স্টলে বসা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। আবার অনেকে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তাও করছে। সে লক্ষ্যে তারা ই-বাণিজ্যের খুঁটিনাটি জেনে নিচ্ছে স্টলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে।

চট্টগ্রাম ই-বাণিজ্য মেলার সমন্বয়কারী এহতেশাম উদ্দিন মাসুম কালের কণ্ঠকে বলেন, দৈনন্দিন জীবন ক্রমেই সদাব্যস্ত হয়ে পড়ছে। সময়ের অভাবের পাশাপাশি যানজটের ঝামেলা এড়াতে তারা অনলাইন কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছে। এভাবেই প্রতিদিন বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর মানুষের সংখ্যা। অল্প সময়েই বাংলাদেশে ই-বাণিজ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ই-বাণিজ্যে পেশাদারির ছোঁয়া লেগেছে। এসব সেবাকেন্দ্রিক শিল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণরা।

মেলার আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ই-বাণিজ্য দেশের তথ্যপ্রযুক্তি জগতে একটি সম্ভাবনাময় খাত। এর মাধ্যমে যেমন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হতে পারে, তেমনি নাগরিক জীবনে গতিশীলতা আনা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রার এই যুগে এর বাইরে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করা অনেকটাই কঠিন।

দেশে ই-বাণিজ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তমাল বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ই-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, যেগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা করছে, তাদের পণ্য ও সেবাকে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করাই এ মেলার লক্ষ্য।

দেশের সর্ববৃহৎ ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এসএসএল কমার্সের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট বিশেষজ্ঞ রিসালত শামীম বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশি জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তারা চাইলেই দেশীয় পছন্দের গান শোনা কিংবা গানের সিডি ক্রয় করতে পারে না। তাই আমরা ই-টিউনসের মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার গান গ্রাহকের ঘরে পেঁৗছে দিচ্ছি। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে তারা সহজে ই-টিউনস থেকে গান কিনে নিতে পারছে।’

গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন সরকারি চাকরিজীবী পুষ্পিতা চৌধুরী। এ সময় তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনেক কিছুই অনলাইননির্ভর। তাই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দিতেই সন্তানকে ই-বাণিজ্য মেলায় নিয়ে এসেছি।’

তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মতিউর রহমান বলেন, ‘এটা তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। মেলায় এসে কিছু ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনলাইন প্রতারণা থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়, তাও জানা যাচ্ছে এখান থেকে।’

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top