ফেসবুকে টেলিপ্যাথি!

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীরা শিগগিরই তাঁদের চিন্তা-ভাবনা বন্ধুদের সঙ্গে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে শেয়ার করতে পারবেন বলেই মন্তব্য করেছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। তিনি জানান—যদিও বিষয়টি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ছবির মতো শোনায়; তবে তা বাস্তব হতে চলেছে।
জাকারবার্গ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি যুগের মোবাইলে বার্তা আদান-প্রদান, ইমোটিকন চিহ্ন, ভিডিও ক্লিপ ও ভারচুয়াল রিয়্যালিটি যুগের পরের ধাপ হতে যাচ্ছে মানুষের চিন্তা ও অনুভূতি বিনিময়।
গত ৩০ জুন ফেসবুকে এক প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করেন জাকারবার্গ। এখানে বেশ কয়েকজনের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। মার্সেল রিউকেলটুকেল নামের একজন তাঁকে ফেসবুকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করেন। সেসময় জাকারবার্গ বলেন, মানুষের যোগাযোগের ধরনের কিছু ধারা আছে, যা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রথমত, মানুষ ভাব প্রকাশের নানা মাধ্যম খুঁজে বের করেছে। আমরা আগে শুধু লিখে ভাব প্রকাশ করতাম, এখন ছবি পোস্ট করি। কিছুদিনের মধ্যে ভিডিও বার্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এরপর আসবে ভারচুয়াল রিয়্যালিটি। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে আমরা চাইলেই আমাদের চিন্তাভাবনা, আবেগ-অনুভূতি পর্যন্ত বন্ধুর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারব। দ্বিতীয়ত, আগে যোগাযোগের জন্য সশরীরে উপস্থিত থাকতে হতো। পরবর্তী সময়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ উদ্ভাবিত হয়৷ ভবিষ্যতে অগমেন্টেড রিয়্যালিটি এবং অন্যান্য যন্ত্রের মাধ্যমে সব সময় যুক্ত থাকার পথ বেরিয়ে আসবে।
জাকারবার্গ আরও বলেন, মানুষ কী শেয়ার করে, তা জানাই আমাদের গবেষণার মূল লক্ষ্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি তার বন্ধুর সঙ্গে কোনো ছবি তোলে, তবে তা যেন সেই বন্ধুর কাছে পৌঁছায়, কিংবা রাজনীতি নিয়ে কিছু লিখলে সেই বিষয়ে আগ্রহীরা যেন তা দেখতে পায়, তা নিয়ে কাজ করছি। জাকারবার্গ বলেন, ছবি ও ভিডিওতে যা কিছু আছে, তার সবকিছু বোঝার মতো একটা সিস্টেম আমাদের তৈরি করতে হবে। ভাষার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। খুব সাধারণ করে বলতে গেলে ব্যাপারটা এমনই।
জাকারবার্গ আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি একদিন আমাদের সব চিন্তা-ভাবনা প্রযুক্তির সাহায্যে একে অন্যের কাছে সরাসরি স্থানান্তর করতে পারব। কেউ কোনো কিছু চিন্তা করে সেটি শেয়ার করতে চাইলে তাঁর বন্ধুরা সে চিন্তাটির তৎক্ষণাৎ অভিজ্ঞতা লাভ করবে। ভবিষ্যতের যোগাযোগ পদ্ধতি এ রকমই হবে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্ক জাকারবার্গ যদি তাঁর স্বপ্ন বুঝতে পারার ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে পারেন তবে শিগগিরই হয়তো আমরা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কাজে লাগিয়ে বা টেলিপ্যাথির মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব। ভবিষ্যতে হয়তো আপনি যে চিন্তা করবেন সেটিই ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবে হালনাগাদ হয়ে যাবে। এই টেলিপ্যাথিই হতে পারে ফেসবুকের ভবিষ্যৎ। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ অন্তত তাই মনে করছেন।
জাকারবার্গ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুক কিছু জটিল ট্রেন্ডসের উন্নতি করতে যায়। এর একটি হচ্ছে উন্নত উপায়ে তা বিনিময় করা। এখন তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে ছবি বিনিময়ই মূল পদ্ধতি কিন্তু এটি আরও উন্নত হবে। পরবর্তীতে ভিডিও বিনিময় করার বিষয়টি মূল বিষয়ে পরিণত হবে। এর আগে মানুষ দেখা করে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করত, এখন কিন্তু সেই চলের পরিবর্তন ঘটেছে। মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহার করছে কারণ এতে ঘন ঘন যোগাযোগ করা যায়।
জাকারবার্গ আরও বলেন, বন্ধু, আত্মীয় কিংবা অন্যদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে যোগাযোগের মোক্ষম টুল যা মানুষকে উন্নত সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষমতায়ন করে। আজকের দুনিয়ায় এটিই মূল শক্তি।
এদিকে, মেট্রো অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ তাঁর ভারচুয়াল ক্রিস্টাল বল ব্যবহার করে যে পূর্বাভাস দিচ্ছেন তাতে ভবিষ্যতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অগমেনটেড রিয়্যালিটি (এআর) ও এইচআর হেডসেট ব্যবহৃত হবে এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করবে|

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top