নিজেই করি সমস্যার সমাধান

অটো প্লে বন্ধ

পেনড্রাইভ ও মেমোরি কার্ডের মতো ডিভাইস কম্পিউটারে সংযুক্ত করলে অডিও-ভিডিও বা মিডিয়া ফাইল সাধারণত অটো চালু হয়। ডিভিডি ড্রাইভে কোনো ডিস্ক ঢোকানোর পরও এমনটি হতে পারে। এসব ফাইলের মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাসও ছড়াতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে ‘অটো প্লে’ বন্ধ করতে হবে। কম্পিউটারে এন্টিভাইরাস ইনস্টল করা থাকলে ডিভাইস আগে স্ক্যান করে চালু করা ভালো। এন্টিভাইরাস না থাকলে স্টোরেজে ডাবল ক্লিক না করে ড্রাইভের ওপরে মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে ‘এক্সপ্লোর’ করুন। এভাবে ঢুকলে ‘অটোরান’ বা এ ধরনের ভাইরাসে কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

অটো প্লে বন্ধ করতে হলে যা করতে হবে : প্রথমে ডেস্কটপের স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে Run-এ গিয়ে gpedit.msc লিখে এন্টার চাপতে হবে। এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে : user configuration>administrative templates>system>turn off auto play>enable>all drive>ok

ডুপ্লিকেট ফাইল মোছা

অনেক সময় একাধিক ফোল্ডারে একই ফাইল থাকে। বেখেয়ালি মিউজিকপ্রেমীরাও সংগ্রহ রাখতে গিয়ে একই মুভি, গান বা অ্যালবাম বিভিন্ন সময় কপি করে বিভিন্ন ফোল্ডারে রাখেন। ছবির বেলায়ও এমনটা হতে পারে। এসব কারণে চাপ বাড়ে হার্ডডিস্কে, বড় একটা জায়গা এসব ডুপ্লিকেট ফাইলের দখলে চলে যায়। চাইলে খুঁজে খুঁজে বের করে এসব ফাইল মুছতে পারেন। আবার সফটওয়্যার ব্যবহার করে দ্রুত কাজটি করা যায়। এ ধরনের বেশ কয়েকটি সফটওয়্যারই ইন্টারনেট থেকে বিনা খরচে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। এমন সফটওয়্যারের মধ্যে আছে-

* ডুপ্লিকেট ক্লিনার

(www.digitalvolcano.co.uk/dcdownloads.html)

* ইজি ডুপ্লিকেট ফাইন্ডার

(www.easyduplicatefinder.com/download.html)

তবে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের ফাইল একই নামে বিভিন্ন জায়গায় কপি করে রাখলে সফটওয়্যার তেমন কোনো উপকারে আসবে না।

চালু হতে বিপত্তি

অনেক সময় কম্পিউটার চালু হয় না। এ ক্ষেত্রে যদি উইন্ডোজ ৭ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন, তাহলে আগেই ‘সিস্টেম রিপেয়ার ডিস্ক’ তৈরি করে রাখুন। পরবর্তী সময়ে কোনো কারণে কম্পিউটার চালু বা বুট হতে সমস্যা হলে ডিস্কটি ডিভিডি ড্রাইভে প্রবেশ করাতে হবে। তখন বুট বা চালু হওয়ার দরকারি ফাইল ডিস্ক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ে নেবে কম্পিউটার।

এর জন্য স্টার্ট ক্লিক করে Maintenance>Create a System Repair Disc-এ ক্লিক করুন। দরকারি ধাপ পেরোনোর পর ‘বুটেবল ইমারজেন্সি ডিস্ক’ তৈরির অপশন পাবেন। এর জন্য একটি ব্ল্যাংক ডিস্ক লাগবে। ডিভিডি ড্রাইভটিও রাইটেবল হতে হবে।

গতি বাড়ানো

কম্পিউটারের গতি হঠাৎ কমে যেতে পারে। কিছু বিষয় মেনে চললে ঝামেলাটি এড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ডেস্কটপ কিংবা সি ড্রাইভে বড় সাইজের ফাইল না রাখাই ভালো। অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করুন। ডেস্কটপের স্টার্ট বাটনে ক্লিক করে রান অপশনে গিয়ে এ ধাপগুলো অনুসরন করুন-

* run>%temp%>ok>select all>shift+delete

* run>prefetch>ok>ctrl+A>shift+ delete

* run>temp>ok>select all>shift+delete

* run>cleanmgr>select drive>ok

* run>eventvwr>select application, system, microsoft office sessions >action>clear all events>no

* run>recent>ok>select all>shift+ delete

* search>.tmp, .old>ok>ctrl+A>shift+delete.

* F3>.bac/.bak/.bck/.bk!/.bk$>ok>ctrl+A>shift+delete.

ধাপগুলো অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো দেখাবে, সেগুলো মুছে ফেলুন।

ইন্টারনেটে সমস্যা

সময় নিয়ে বড় ফাইল ডাউনলোড করছেন, ডাউনলোড যখন শেষদিকে, তখনই বিদ্যুৎটা গেল। তাহলে তো আবার ডাটা খরচ করে নতুন করে ডাউনলোড দিতে হবে! ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার (আইডিএম) সফটওয়্যার দিয়ে ডাউনলোড দিলে এ অবস্থা হবে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার মুহূর্তে যতটুকু ডাউনলোড হয়েছিল, পরের বার ডাউনলোড দিলে শুধু এর পরেরটুকু ডাউনলোড হবে। অর্থাৎ সময় ও ডাটা-দুটোই বাঁচবে। আইডিএম ইনস্টল করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রাউজারের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কাজ করবে। চাইলে দরকারি অপশনও এদিক-সেদিক করে নিতে পারবেন। মজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, সাফারি, অপেরা-জনপ্রিয় ব্রাউজারগুলোর সঙ্গে অনায়াসেই মানিয়ে নেয় আইডিএম।

ব্রাউজারে কোনো সাইটে গিয়ে ডাউনলোড দিলে আইডিএমের ডাউনলোড টুল চালু হবে। ডাউনলোড চলার সময় যদি কম্পিউটার বন্ধ করে বাইরে যাওয়ার দরকার হয়, তখন Pause দিয়ে রাখতে পারেন। পরে সময় করে বাকিটুকু ডাউনলোড করা যাবে। অথবা একাধিক ফাইল একই সময়ে ডাউনলোড হওয়ার কারণে নেটের গতি কমে যাচ্ছে-এমনটি হলে দু-একটি চালু রেখে বাকি ডাউনলোডগুলো Pause করে রাখুন। এর ফলে ডাউনলোড বাতিল হবে না, অল্প সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। পরে Resume/Restart ক্লিক করলেই বাকিটুকু ডাউনলোড হবে।

ব্রাউজার থেকে স্বাভাবিক নিয়মে ডাউনলোড করলে যতটুকু গতি পাওয়া যাবে, আইডিএম দিয়ে করলে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতি পাওয়া যাবে। একসঙ্গে অনেক ডাউনলোড চালু থাকলে কোন ফাইলের ডাউনলোড আগে দরকার, তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে। ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার (আইডিএম) পেতে হলে যেতে হবে www.internetdownloadmanager.com/download.html

ইউটিউবের ভিডিও নামান

ইউটিউবের ভিডিও নামাতে গিয়ে অনেকে ঝামেলায় পড়েন। কম্পিউটারে যদি আইডিএম বা এ ধরনের কোনো ডাউনলোডার সফটওয়্যার না থাকে তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সফটওয়্যার ছাড়াই ওয়েবসাইট থেকে সহজে ভিডিও ডাউনলোড করা যায়।

ইউটিউবের যে ভিডিওটি ডাউনলোড করতে চান, সেটার লিংক http://en.savefrom.net ওয়েবসাইটে গিয়ে ইনসার্ট করার জায়গায় বসিয়ে ‘নেক্সট’ ক্লিক করলেই ডাউনলোডের অপশন আসবে। ভিডিও ফাইলটি ইচ্ছামতো এমপিফোর, থ্রিজিপি বা ওয়েবএম ফরমেটে ডাউনলোড করা যাবে। ফরমেট ভেদে ডাউনলোড করা ফাইলের সাইজ কম-বেশি হবে।

চাইলে ভিডিওকে এমপিথ্রি বা অডিও হিসেবেও ডাউনলোড করা যাবে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top