খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করলে যে ১০টি দারুণ উপকার পাবেন আপনি

আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যারা খালি পায়ে হাঁটার কথা চিন্তাও করতে পারেন না।আবার এমন অনেকেই আছেন যারা চাইলেও পারেন না।কারন আমাদের দেশে খালি পায়ে হাঁটার ব্যবস্থা সব জায়গাতে পাওয়াও কঠিন একটা ব্যাপার। খালি পায়ে হাটার অনেক ধরনের উপকারিতা আছে যা সারাক্ষন জুতা পরে থাকার জন্য গুরুত্ব দেয়া আমাদের মূল ধারার সমাজ ব্যবস্থাকে অনেক সময় ছাপিয়ে যায়। ডঃ মারকোলার মতে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে হাঁটলে তা সরাসরি মাটি থেকে দেহে নেগেটিভ ইলেকট্রন শোষণ করে যা আভ্যন্তরীণ বায়োইলেক্ট্রিক্যাল পরিবেশের ভারসাম্যতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার চাপে পরে আমরা আসলে মাটির সংস্পর্শ হারাচ্ছি। কিন্তু আমরা যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার মাঝেই সময় বের করে নিয়ে কিছুটা সময় খালি পায়ে হাঁটি তার উপকারিতা অভাবনীয়।

খালি পায়ে হাটার কিছু উপকারিতা এখানে তুলে ধরছি-

ব্যাথা এবং জ্বালা পোড়া দূর করতে পারে

অনেক সময় ঘুমানোর বা শোয়ার ব্যাতিক্রম হলে শরীরের পেছন দিকে ব্যাথা হয় বা পায়ে জ্বালাপোড়া ভাব হতে পারে।সবুজ ঘাসে খালি পায়ে হাঁটলে এই ব্যাথা দূর হয়ে যায়।এটি বেশ কিছু গবেষণার দ্বারাও প্রমানিত হয়েছে।

ঘুম বাড়াতে সাহায্য করে

PubMed এর একটি গবেষণায় জানা যায় যে খালি পায়ে হাঁটা শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং শরীরকে শিথিল করে। এছাড়া “The journal of Alternative and Complementary Medicine” এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টের মতে, যারা খালি পায়ে হাঁটেন না তাদের তুলনায় যারা খালি পায়ে নিয়মিত হাঁটেন তারা রাতে খুব ভাল ঘুমাতে পারেন।এই ভালো ঘুমের কারন হিসেবে তারা বলেন যে খালি পায়ে হাঁটলে তা দেহের ছন্দবোধের ভারসাম্যতা আনতে সাহায্য করে।

প্রতিরোধক ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে

“The Journal of Environmental and Public Health” এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে খালি পায়ে হাঁটলে তা রক্তের শ্বেত কণিকার পরিমান কমিয়ে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে যা প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে

খালি পায়ে হাঁটলে তা হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।”The journal of Alternative and Complementary Medicine” এর মতে খালি পায়ে হাঁটা রক্তের লোহিত কণিকার মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে কোষের রক্ত জমাট বাধা প্রতিহত হয় যা রক্তের ঘনত্ব কমায়। যেহেতু রক্তের উচ্চ ঘনত্ব সরাসরি হৃদরোগের ঝুঁকির সাথে জড়িত তাই খালি পায়ে হাঁটা উল্লেখযোগ্য ভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমায়

বাইরে থেকে ঘুরে আসা স্বাভাবিকভাবেই তা মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থাৎ মন ভাল হয়ে যায়। আর যদি এই সময় শরীরকে সরাসরি মাটির সংস্পর্শে আনা যায় তাহলে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ স্বাভাবিক ভাবেই বেশি কমে আসে। মাটি সবসময় একটি নেগেটিভ চার্জ বহন করে আর চারদিকে নিয়মিত সব তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের সংস্পর্শের কারনে আমাদের শরীর সবসময় পজিটিভ চার্জ বহন করে।তাই শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে বেশি সময় মাটির সংস্পর্শে থাকা জরুরি।

জৈবিক তালের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে

মানুষসহ সব প্রাণী জগত একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার ঘড়িকে অনুসরণ করে চলে একে সার্কাডিয়ান ক্লক বলে। খালি পায়ে হাঁটলে বা মাটির সংস্পর্শে থাকলে তা ঘুমের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং জৈবিক ঘড়িকে আবার নতুন উদ্যমে চালু করতে সাহায্য করে। পরিবেশ দূষণ, আলো, বাতাস, রাসায়নিক পদার্থ ছাড়াও অন্যান্য অনেক বিষয় আমাদের ঘুমের প্রক্রিয়াতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই মাটির সংস্পর্শে আসলে এর নেগেটিভ ইলেকট্রন সার্কাডিয়ান ক্লকের তাল এবং অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়াকে সাহায্য করতে পারে।

পেশীর ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে

গবেষণায় পাওয়া যায় যে হঠাৎ করে শারীরিক ব্যায়াম করার ফলে শরীরে যে ব্যাথা হয় বা কোন কাজ করতে গিয়ে পেশীতে টান পরার ব্যাথা যদি খালি পায়ে কিছুক্ষন হাঁটা যায় তাহলে অনেকটা কমে যায়।

মাইগ্রেইনের ব্যাথা কমাতে

সাধারণত মাইগ্রেইনের মাথা ব্যাথা বিভিন্ন ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে বাড়তে পারে। তাই যদি তখন খালি পায়ে হাঁটা যায় বা শরীরকে মাটির সংস্পর্শে আনা যায় তাহলে তা দেহকে ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব থেকে অনেকটা মুক্ত করতে পারে। আর এভাবেই মাইগ্রেইনের মাথা ব্যাথা দূর হতে পারে।

মাটির সংস্পর্শ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে

এতোগুলো কারন বলার পর হয়তো মাটির সংস্পর্শের উপকারিতার সম্পর্কে আমরা অনেক জেনেছি। তাই যত বেশি মাটির সংস্পর্শে থাকা যায় তত বেশি প্রাকৃতিক তরঙ্গ আমাদের দেহ গ্রহন করে শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারবে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা আমাদের জীবনীশক্তির উপর প্রচুর প্রভাব ফেলে তাই সবসময়ই চেষ্টা করতে হবে যত বেশি প্রকৃতি ও মাটির সংস্পর্শে থাকা যায় আমাদের জন্য ততই মঙ্গল।

বিপদজনক তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্র থেকে রক্ষা করে

খালি পায়ে মাটিতে হাঁটলে বা শরীরকে মাটির সংস্পর্শ আনলে তা আমাদের দেহ থেকে তড়িৎ চুম্বকীয় চার্জ কমাতে সাহায্য করে যার ফলে এটি আমাদের দেহকে তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্রের বিপদজনক প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

তাই জীবন যাপনের ব্যস্ত সময়ের মাঝে আমরা যদি কিছুটা সময় বের করে খালি পায়ে সবুজ ঘাসে হাঁটি তাহলে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যা মুক্ত থালতে পারবো।

লেখক-
শওকত আরা সাঈদা(লোপা)
জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ
এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)
মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।

তথ্য সূত্রঃ পাওয়ার অফ পজিটিভিটি

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top