মানুষের করা অযথা ও বিরক্তিকর প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন যেভাবে!

খুব মনযোগ দিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন সবার সামনে, বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটার ওপরে যথেষ্ট দখলও রয়েছে আপনার। কিন্তু হঠাৎ এমন একটা প্রশ্ন চলে এলো যে পুরোপুরি হাঁ হয়ে গেলেন আপনি। হয়তো উত্তরটা জানেন না আপনি কিংবা মনে পড়ছে না এই মুহূর্তে। আবার ভাবুন এমন একটা পরিস্থিতির কথা যেখানে আপনি কিছু একটা নিয়ে বোঝাচ্ছেন সবাইকে। এমন সময় এমন কোন একটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হল আপনাকে লক্ষ্য করে যেটার উত্তর দিতে চাচ্ছেন না আপনি। হতে পারে সেটা কোন ব্যাক্তিগত প্রশ্ন। এমন একটা সময়ে, যখন সামনের মানুষটার এগিয়ে দেওয়া প্রশ্নটার মুখোমুখি হতে একেবারেই চাইছেন না আপনি, ঠিক কী করা যায়? কী করলে এড়িয়ে যাওয়া যায় সামনের আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকা চোখগুলোকে? জেনে নিন দক্ষ মানুষদের কৌশল!

১. সময় নিন

প্রশ্ন যতটা জটিলই হোক না কেন সেটাকে মোকাবেলা করার সবচাইতে সোজা উপায় হচ্ছে সেটা নিয়ে একটু ভাবা। আর ভাবতে গেলে তো সময় লাগে। ভাবছেন কথা বলার মাঝখানে কি করে সময় নেওয়া যায়? অবশ্যই যায়। পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিন প্রশ্নকর্তাকে। যেমন- কানের কাছে হাত নিয়ে গিয়ে বলুন “আপনার প্রশ্নটা শুনতে পাইনি। দয়া করে আরেকবার বলুন”। কিংবা, প্রশ্নকর্তাকে প্রশ্ন করুন সে প্রশ্নটির মাধ্যমে ঠিক কী জানতে চাইছে? অথবা, কিভাবে প্রশ্নটি আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত? এতে করে সময় যেমন পাওয়া যাবে তেমনি কোন ব্যক্তিগত প্রশ্ন হলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে সহজেই।

২. বিষয়বস্তুকে বাড়িয়ে নিন

খেয়াল করুন কতোজন প্রশ্ন করছে এবং সেগুলোকে একসাথে জড়ো করে তারপর উত্তর দিন। কিংবা শুরুতেই বলে নিন যে বক্তৃতার পরে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হবে। এছাড়াও অন্যভাবেও নিজের উত্তরের বিষয়বস্তু বাড়িয়ে নিতে পারেন আপনি। যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়- বৈষ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে কী ভাবছেন? তাহলে সেটাকে পরিবেশ, বিশ্বব্যবস্থা, রাজনীতি- সবদিকেই টেনে নিয়ে যেতে পারেন আপনি। তবে প্রশ্ন যদি একদম চাঁছাছোলা ব্যাপারে হয় সেক্ষেত্রে প্রথম পদ্ধতিই কাজে আসতে পারে বেশি।

৩. প্রশংসা করুন

অন্যের প্রশংসা করুন। যিনি প্রশ্ন করেছেন তাকে বলুন- “বাহ! খুব সুন্দর প্রশ্ন করেছেন”, এতে প্রশ্নকর্তা খানিকটা বিশ্বাস করে নেয় আপনাকে। আর এরপর আপনি যদি এ ব্যাপারে তার মতামত জানতে চান তাহলেও যে নিজের চিন্তাটা খুব সহজেই বিনিময় করতে পারবে আপনার সাথে। এছাড়াও প্রশ্নকর্তা ছাড়াও আপনি প্রশ্ন ছড়িয়ে দিতে পারেন অন্যদের ভেতরেও। জানতে চাইতে পারেন- “এ ব্যাপারে আপনাদের কী মনে হয়?” কেউ উত্তর দিতে এগিয়ে এলে তার প্রশংসা করুন। এতে করে আরো অনেকেই প্রশ্নের উত্তর দিতে এগিয়ে আসবে। সময় পাবেন আপনি। উত্তরও পেয়ে যাবেন।

৪. থামিয়ে দিন

যদি দেখেন একই ব্যাক্তি বারবার প্রশ্ন করছে এবং উত্তেজকভাবে আপনার সাথে তর্কে জড়াচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে সে আসলে জিততে চাচ্ছে। আলোচনা করতে নয়। সেক্ষেত্রে সবাইকে জানান যে প্রতিজন কেবল একটি প্রশ্নই করতে পারবে। সাধারণত একই স্থানে খুব বেশি এমন অতি-উত্সাহী মানুষ পাওয়া যায় না। আর তাই তাকে খুঁজে বের করার সাথে সাথে নিয়মটা বুঝিয়ে তাকে শান্ত করে দিন কিংবা সরাসরি বলুন যে আপনার মনে হচ্ছে তিনি আপনার সাথে অযাচিত তর্কে জড়াচ্ছেন। তবে এসব আপনাকে বলতে হবে অবশ্যই শান্ত গলায়!

৫. নিজের উত্তেজনার প্রকাশ করুন

খুব বেশি সমস্যার সৃষ্টি হলে, সহ্যের বাইরে গেলে ব্যাপারটি প্রকাশ করুন। সামনে মাইক থাকলে সেটাকে একটু ঠেলে দিয়ে কিংবা চেয়ারটাকে একটু পেছনে সরিয়ে বা হাতের কাগজটাকে ছিড়ে শান্তভাবে বেরিয়ে পড়ুন ঘর থেকে। অবাঞ্চিত আর লজ্জাজনক প্রশ্ন হলে প্রশ্নকর্তা অবশ্যই আপনার এই কাজের পর নিজের ভুল বুঝবেন এবং তিনি বা অন্য কেউ ভবিষ্যতে আপনাকে এমন প্রশ্ন করতে উদ্যত হবেন না।

তথ্যসূত্র-5 Methods The Professionals Use To Avoid Hard Questions

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top