পরীক্ষায় ভালো ফল করতে…

জ্ঞানচর্চা জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। প্রাচীন গ্রিসের পণ্ডিতেরা জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি কীভাবে এই জ্ঞানকে ধরে রাখা যায় সে ব্যাপারে নিত্যনতুন গবেষণায় ব্রত হতেন। তারা মনে করতেন জ্ঞানকে ধরে রাখতে হলে একে সহজভাবে মনের ভেতর ধরে রাখা চাই। এবং সেই ধরে রাখার একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ হলো পরীক্ষা দেয়া, এবং ভালো ফল করা। যে কোনো শ্রেণীর অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর জন্যই এটা প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আর বর্তমানের যুগে ভালো ফল করাটা তো অত্যাবশ্যকীয়। কেননা তার ওপরেই নির্ভর করে আপনার কর্ম জীবনের ভবিষ্যৎ।

পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হবে মানে অমানুষিক পরিশ্রম করে দিনরাত মুখস্থ করতে হবে সেটা কিন্তু মোটেও নয়। বরং নিজের স্বাভাবিক মেধার সাথে কিছু কৌশল অবলম্বন করে, একটি সুনির্দিষ্ট ছকে লেখা পড়ার বিষয়টি গুছিয়ে নিতে পারলেই হয়। আমরা অনেকেই নিজের মেধার সঠিক ব্যবহার করতে পারিনা লেখাপড়ার ক্ষেত্রে। আজকে আমরা সেই বিষয়েই আলোচনা করবো যে কি করে সঠিক নিয়মে লেখাপড়া করে অনায়াসে ভালো ফল লাভ করা সম্ভব সকল পরীক্ষায়।

১. নোট তৈরি করুন-

পরীক্ষায় উত্তীর্ণের কৌশল কোনো ব্যাপক বিষয় নয় বরং যে বিষয়টি বা বিষয়গুলো আপনাকে পড়তে হচ্ছে প্রথমেই সে বিষয়টি বা বিষয়গুলোর প্রতি আপনার আগ্রহ গড়ে তুলুন। সেটার জন্য নোট তৈরি করা খুব ভালো অভ্যাস এবং এটি একাধারে আপনার পাঠে মনোযোগ বাড়াবে। নোট পড়ে একটি বা একাধিক বিষয়ে একবারে জানা যায় এবং মনে রাখা যায়। এগুলো মনে রাখার ক্ষেত্রে খুব ভালো ভূমিকা রাখে। এটি প্রধান চিন্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সাহায্য করে। বিষয়টিকে সহজ এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে নোটের খুব ভালো ভূমিকা থাকে।

নোট তৈরির ব্যাপারে কয়েকটি পরামর্শ-
• সহজবোধ্য এবং আপনার মনোযোগ আকর্ষণকারী শব্দ দ্বারা নোট তৈরি করুন।
• নোট যেন সুপাঠ্য হয়।
• অত্যন্ত জটিল শব্দ নোট তৈরিতে যেন ব্যবহৃত না হয়।
• কয়েকটি সহজবোধ্য পয়েন্টস দিয়ে নোট তৈরি করুন।

. পুনর্বার পড়া-

পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্বন্ধে ভালোভাবে জানা এবং স্মরণ রাখা উচিত, সেই বিষয়ে পুনর্বার পড়া উচিত। মনোবিজ্ঞানী ডেভিস এবং মুরের মতে, প্রত্যেক বিষয়কে ধীরস্থিরভাবে দুই থেকে চার বার পড়া উচিত এবং পুনর্বার পড়া উচিত। এতে করে বিষয়টি সহজে আত্মস্থ হবে এবং ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দূর হবে।

৩. পরীক্ষার কেন্দ্রে করণীয়-

মানসিক দৃঢ়তা-অনেকে পরীক্ষার কেন্দ্রে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ফলে অনেক জানা প্রশ্নের উত্তর দিতেও তারা ব্যর্থ হয়। অথচ পরীক্ষার কেন্দ্রে মানসিক একাগ্রতা তীব্রভাবে ধরে রাখা উচিত। মনে রাখা উচিত আমার প্রস্তুতি সফল এবং আমার পরীক্ষাও সফল হবে।

প্রশ্নপত্র পড়া-

পুরো প্রশ্নপত্রটি একবার ভালো করে পড়ে নিতে হবে। কেবল চোখ না বুলিয়ে বরং ভালো করে প্রশ্ন পড়ার মাঝে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে। যে প্রশ্নকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে কখনোই বর্ণনা দেয়া উচিত হবে না। এতে করে উত্তরের মান কমে যায় এবং পরীক্ষায় নম্বর কমে আসে।
প্রশ্নের উত্তর দেয়া

সহজ-সরল এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত। যে প্রশ্নকে অপেক্ষাকৃত কঠিন মনে হয় সেগুলোকে পরে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন। প্রশ্নে ঠিক যেমনভাবে উত্তর চাওয়া হয়েছে ঠিক সেভাবে উত্তর দিন। ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে উত্তরের মান ভালো হলো না এটি ভুল ধারণা।

সময়-
একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য কখনোই বেশি সময় ব্যয় করা উচিত নয়। এতে পরীক্ষায় সময়ের শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন শেষ করার জন্য মানসিক চাপ বাড়তে থাকে, ফলে উত্তর পুঙ্খানুপুঙ্খ হয় না বরং সময়কে নির্দিষ্টভাবে ভাগ করে আগাগোড়া সময়ের ব্যবহার করে পরীক্ষা দিন।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য খুব বেশি কসরত না করে বরং স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা এবং পরীক্ষার যথাযথ মোকাবিলা করতে পারলেই সাফল্য আশা করা যায়।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top