সুগন্ধির ব্যবহারের আদব কায়দা

ব্যক্তিত্বের বিকাশে মনোরোম পন্থা সুগন্ধি। সুন্দর গন্ধ পছন্দ করে না, এমন কেউ নেই। নিজেকে ঘিরে আছে সুগন্ধের হালকা পরত- মুহুর্তেই বদলে যায় মুড। তবে সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আছে কিছু নিয়মনীতি। ভুল সময়, ভুল পোশাক এবং ব্যক্তিত্বের ভুল সমন্বয়ে সুগন্ধি হয়ে উঠতে পারে সাজপোশাকের চুড়ান্ত আকর্ষনে ক্ষতিকর- সকলের মাঝে সুগন্ধিই হয়ে উঠতে পারে অস্বস্তিকর। তাই সুগন্ধি নির্বাচন ও ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।

ব্যক্তিজীবনে মানুষ যেমন, সুগন্ধি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সেরকমই প্রাধান্য দেয়া উচিৎ। যেকোনো সময় ও অভিজ্ঞতায় আপনি আসলে কেমন এবং কী ভালবাসেন, এটা জানা থাকলে মনে আনন্দের সঞ্চার ঘটে । সুগন্ধি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘আপনি কি সতেজতা ও নির্মলতা ভালবাসেন?’, ‘আপনি কি মিষ্টি অথবা ফুলেল কোনকিছু ভালবাসেন?’, ‘আপনি কি তীব্র ও ঝাঁঝালো কিছুকে ভালবাসেন?’- তাহলে এমন কোন সুগন্ধির ব্র্যান্ডকে বেছে নিন, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে জাগিয়ে তুলবে এবং আপনার আশেপাশে থাকা মানুষজনও তার আঁচ পাবে। শুধুমাত্র উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে অথবা বন্ধুকে দেখে উৎসাহিত হয়েই একটি ব্র্যান্ড হুট করে কিনে ফেলবেন না। নিজে যেটা ব্যবহার করে তৃপ্তি পাবেন বলে মনে করেন, সেটিই বেছে নিন ।

সুগন্ধির সর্বশেষ উপাদান হল দৈহিক রসায়ন। অন্য কারো দেহে যে গন্ধ ভাল লাগে, আপনার দেহে তা নাও লাগতে পারে। আমাদের প্রত্যেকের দেহই আলাদা আলাদা রসায়নে তৈরি। আর ঠিক সে কারণেই বিশেষ একটি সুগন্ধি অন্যের দেহে যেভাবে কাজ করে, আপনার দেহে তা সেভাবে করবে না। কাজেই সুগন্ধি কেনার আগে নিজের ত্বকের ওপর পরীক্ষা করুন। অন্তত ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন ফলাফলের জন্যে। ২০ মিনিটের চেয়ে বেশি সময় না লাগলে এটিই আপনার জন্যে পারফেক্ট সুগন্ধি!

সুগন্ধি বিশেষজ্ঞ সারাহ হরোউইটযের মতে, ‘অনেক সুগন্ধি ব্যবহারকারীরাই চুলে সুগন্ধি মাখেন দীর্ঘসময় ধরে সুগন্ধ পাবার জন্য।’ এমন করা ঠিক নয়। কারণ, বাজারের বেশিরভাগ সুগন্ধিতেই অ্যালকোহল থাকে, আর অ্যালকোহল চুলকে শুষ্ক করে তোলে। যদিও চুল আমাদের ত্বকের তুলনায় সুগন্ধি ভাল ধরে রাখতে পারে। কারণ, দৈহিক তাপের কারণে সুগন্ধি আমাদের ত্বকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। যদি চুল থেকেও আপনার প্রিয় সুগন্ধির মতো সৌরভ পেতে চান, তাহলে চুলে ভাল করে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং করে নিন। এরপর দু’হাতে সুগন্ধি মেখে তালি দিন, যাতে অ্যালকোহলটুকু হাতের তাপে পুড়ে উধাও হয়ে যায় । এরপর চুলের ভেতর আঙ্গুল চালিয়ে দিন।

আমরা সাধারণত জামা-কাপড়ের ওপরেই সুগন্ধি লাগিয়ে নিই। আসলে কিন্তু এতে কোন লাভই নেই! কারণ, একটু পরই এ গন্ধ মিলিয়ে যায়, তা সে যত বিখ্যাত ব্র্যান্ডেরই হোক না কেন। সুগন্ধি মাখার নিয়ম হল, আপনার চারপাশে স্প্রে করে কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকুন, সুরভি আপনার গায়ে মেখে থাকবে। আর তাছাড়া হাতের কবজি, কানের লতি ও ঘাড়েও একটু স্প্রে করে নিতে পারেন। তাহলে গন্ধটা বেশিক্ষণ স্থায়ি হয় ।

দিনভর সুগন্ধ ধরে রাখার সবচেয়ে ভাল উপায় হল প্রলেপন। অর্থাৎ, গোসলে সুগন্ধি বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন, বডি লোশন অথবা বডি অয়েল দিন- বাড়তি সৌরভের সঙ্গে বাড়তি আর্দ্রতাও পাওয়া যাবে। এরপর পালস পয়েন্টগুলোতেও একটু বডি-অয়েল মাখান এবং ফিনিশিং টাচ হিসেবে সুগন্ধি লাগিয়ে নিন। ব্যস, সারাদিনের জন্য থাকুন সতেজ, সুরভিত।

অতিরক্ত সুগন্ধি মাখার অভ্যাস থেকে থাকলে তা পরিত্যাগ করা উচিৎ। কারণ, আপনার সুগন্ধির ঝাঁঝ অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালে তা আপনার ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর ।

আপনি হয়তো সবসময় একই ধরণের সুগন্ধি ব্যবহার করে অভ্যস্ত অথবা আপনার ড্রেসিং টেবিল হয়তো ভরে আছে নানা ধাঁচের সুগন্ধি দিয়ে। সুগন্ধির মাধ্যমেই প্রতিফলন ঘটছে আপনার ব্যক্তিত্বের, আপনার মুডের। সারাহ হরোউইটয পরামর্শ দিয়েছেন, হালকা গন্ধের সুগন্ধিগুলোকে দিনের বেলায় এবং কড়া ও ঝাঁঝালো সুগন্ধি রাতে ব্যবহার করতে। অথবা বদলে নিতে পারেন ঋতু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথেও। কারণ আপনার সুগন্ধি হল আত্ম-প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্মরণীয় মাধ্যম। মুড বুঝে সুগন্ধি ব্যবহার করুন এবং ফলাফলটিও উপভোগ করুন।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top