৫টি উপায়ে মন ভালো করে ফেলুন নিমিষেই

সপ্তাহের শুরুতেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলে সারা সপ্তাহই মেজাজ খিঁচড়ে থাকে। মেজাজ একবার খারাপ হলে তার সূত্র ধরেই আসে স্ট্রেস এবং খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে আপনাকে যেতে হয়। মেজাজ এমন খারাপ থাকলে কিন্তু আপনার কাজেও তার ছাপ পড়ে। তবে চেষ্টা করলে এমন পরিস্থিতিও সামলে নেওয়া যায়। সকালটা খারাপ যাবে বলেই সারাটা দিন খারাপ যাবে এমন নয়। কয়েকটি কাজ করলে এমন খারাপ মেজাজ দূর করে দিনটাকে ভালো করে তুলতে পারবেন আপনি নিজেই।

The Happiness Advantage বইয়ের লেখক শন একর বলেন গবেষণা থেকে দেখা যায় কর্মক্ষেত্রে হাসিখুশি থাকাটা কাজের জন্যই দরকারি। শুধু খারাপ ঘটনার ব্যাপারে চিন্তা না করে বরং ভালো ব্যাপারগুলো নিয়ে চিন্তা করতে হবে। Primal Leadership এর লেখক অ্যানি ম্যাককি বলেন, খারাপ মেজাজ খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে মেজাজ ভালো করে ফেলা জরুরী। Harvard Business Review হাসিখুশি থাকার কিছু কৌশল জানিয়ে দেয়। খারাপ সময়ের মাঝেও মেজাজ ভালো রাখতে খুব কাজে আসবে এসব কৌশল।

১) মেজাজ খারাপ হবার আগেই ধরে ফেলুন

হঠাত করে মেজাজ খারাপ কিন্তু কমই হয়। বেশীরভাগ সময়ে দেখা যায় গত কিছুদিন ধরে একের পর এক সমস্যায় আমাদের মেজাজ ভেতরে ভেতরে খারাপ হচ্ছে আর একটা সময়ে গিয়ে একেবারেই খিঁচড়ে যাচ্ছে। আপনি যদি কয়েকদিন ধরেই দেখেন আপনার মাঝে অসন্তোষ দানা বাঁধছে, তাহলে একটু সময় নিয়ে ভেবে দেখুন কেন এমনটা হচ্ছে। সমস্যাটা বের করতে পারলে সমাধানও বের হয় যাবে। মেজাজ খারাপ হবার কোনো কারণই থাকবে না তখন।

২) কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ুন

অনেকেরই মতে, মেজাজ খারাপ হলে সেটা ভালো করার জন্য ভালো কিছু চিন্তা করতে হবে। আপনার জীবনে সম্প্রতি ঘটেছে এমন তিনটি জিনিসের ব্যাপারে চিন্তা করতে বলেন অনেকে। কিন্তু এ কাজটা সময় সাপেক্ষ এবং মেজাজ ভালো করতে খুব বেশি কার্যকরী নয়। এর বদলে আপনি এমন কোনো কাজ শুরু করতে পারেন যা অনেকদিন ধরে জমে আছে। এই কাজটা শেষ করতে পারলে আপনার মস্তিষ্ক নিজেকে জয়ী বলে ধরে নেবে এবং মেজাজটা ভালো হবে। বিজনেস ইনসাইডারের মতে, অন্য কারও মেজাজ ভালো করার চেষ্টা করলেও কিন্তু আপনি ভালো বোধ করবেন।

৩) আনুন ছোট কোনো পরিবর্তন

টমাস পিনচন তার বই “Inherent Vice” এ বলেন, ছোট কোনো পরিবর্তনে মেজাজ ফুরফুরে হয়ে যায়। চুলে একটু পরিবর্তন আনলেই জীবনটাও যেন একটু অন্যরকম হয়ে যায়। শুধু তাই না, অফিসের ডেস্ক থেকে উঠে একটু হেঁটে আসুন। অন্য একটা জায়গায় গেলে মেজাজ ঠাণ্ডা হবে।বসে বসে খারাপ চিন্তা করবেন না। এতে মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যাবে।

৪) বাস্তব চিন্তা করুন

খারাপ একটা দিন আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে আপনি যদি অবাস্তব আশা করেন। কম আশা করাটাই ভালো। আপনি ভাবুন, আজকে আপনি বাস পাবেনই না, হেঁটে অফিসে যেতে হবে। এই চিন্তা করার পর যদি বাসে দাঁড়িয়েও যেতে হয় তারপরেও আপনার মেজাজ ভালো থাকবে। আর আপনি যদি ভেবে নেন দ্রুত বাস পেয়ে যাবেন, আরামসে বসে যেতে পারবেন তাহলে বাস পেতে একটু দেরি হলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে।

৫) খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন

দিনটা খারাপ যাচ্ছে? একটু সময় নিয়ে চিন্তা করুন। দিনটা কী ভাবে শুরু হলো? আপনার কী কী কাজ করার কথা ছিলো? সকালে কোনো ভজঘট হয়ে গেছে কী? ম্যাককি বলেন, এগুলো চিন্তা করে দেখুন আপনার মেজাজ খারাপের জন্য কী কী দায়ী। সব ব্যাপার থেকে দূরে থাকলে ভালো থাকবে আপনার মেজাজ। বেশি খুব বেশি কাজে মনোযোগ দিলেও মেজাজ খারাপ হতে পারে। কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক জীবনে আনুন ভারসাম্য।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top