স্ট্রেস পাগল করে দিচ্ছে? জেনে নিন এই কৌশলগুলো

এখনকার সময়ে কোনো একদিকে মন দেবার অবকাশ নেই কারোই। প্রতিনিয়তই হরেক রকম কাজের পেছনে ছুটছে মন। আর এতো চাপ সামলে উঠতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে আমাদের মন, বিভিন্ন দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে আসলে মানসিক শক্তি কমে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে খুব পরিচিত এক সমস্যা, স্ট্রেস। এখনকার সময়ে পৃথিবীটা এতো গতিময় যে স্ট্রেস ছাড়া বাঁচার আশা আসলে করা যায় না। স্ট্রেস নিয়েই বাঁচতে হবে আমাদেরকে। কিন্তু অনেকে স্ট্রেস ম্যানেজ করতে না পেরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যান। তাদের কী হবে? তারাই জেনে নিন সহজে স্ট্রেস সামাল দেবার কিছু কৌশল।

১) গভীর নিঃশ্বাস নিন

সারাদিন এক কাজ থেকে আরেক কাজে দৌড়াতে গিয়ে দিনের শেষে আপনার মাথার ভেতরে থাকবে শুধুই জটিল প্যাঁচ। একটা কাজ করতে গিয়ে আরেকটা কাজের কথা মাথায় আসবে। আবার সময়মত অন্য কাজগুলোও শেষ করতে হবে। একটানা কাজগুলো না করে বরং একটু থামুন। শ্বাস-প্রশ্বাস আমাদের মনে শান্তি আনার খুব শক্তিশালী এক অস্ত্র। গভীর নিঃশ্বাস নিলে মাথা ফাঁকা হয়ে যায়, স্ট্রেস কমিয়ে দেয় নিমিষেই। ভালো ফলাফল পেতে অফিস থেকে বের হয় কোন নিরিবিলি জায়গায় যেমন পার্কে বসে কাজটি করতে পারেন। দেখে নিতে পারেন WebMD এর এই ব্রিদিং এক্সারসাইজগুলো।

২) অবসর সময়

আমরা সারাদিন এতোই ব্যস্ত থাকি যে অবসর কাকে বলে তা ভুলেই গেছি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছু সময় পেলেও আমরা সে সময়ে অন্য কিছু করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এই কাজটি না করে বরং অবসর সময়টা উপভোগ করতে দিন নিজের শরীর ও মনকে। সফল মানুষেরা নিয়ম করে কাজের ফাঁকে অবসর নেন যাতে তাদের সাফল্য আরও নিশ্চিত হয়। অল্প কয়েক মিনিটের ব্রেক পেলেও সেটা আপনার মস্তিষ্কের জন্য অনেক উপকারী। বিশেষ করে এই ছোট সময়গুলোতে নিজের স্মার্টফোন ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। সুইচ অফ করে ফেলুন মোবাইল।

৩) একটা একটা করে কাজ করুন

একসাথে অনেকগুলো কাজ করাটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন ইচ্ছে করলেও একটা কাজে মন দিতে পারি না আমরা। কিন্তু আপনি কি জানেন, এভাবে অনেক কাজ একসাথে করতে গেলে আসলে সময় বেশি লাগে? মোটামুটি দেড়গুণ বেশি সময় লাগে মাল্টিটাস্কিং করতে গেলে। এর চাইতে একটি কাজ বেছে নিয়ে তার ওপরে নিজের পুরো মনোযোগ একীভূত করুন।

৪) অদরকারী কাজে সময় নষ্ট করবেন না

আপনার মানসিক শক্তি কিন্তু অসীম নয়, তেমনি আপনার মনোযোগেরও কিন্তু দাম আছে। অদরকারী কাজে এই মনোযোগ ব্যয় না করাই ভালো। চিন্তা করে বের করে নিন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনগুলো। এরপর এক এক করে সেগুলোতে মনোনিবেশ করুন।

৫) সেটা নিয়ে চিন্তা  করুন যা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন

যেসব কাজ আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, যাতে আপনার কোনো হাত নেই, এমন কাজ নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না। অন্য কেউ কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অথবা ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে এসব নিয়ে অনেকেই মাথা ঘামিয়ে স্ট্রেস বাড়িয়ে ফেলেন। এগুলো করবেন না, এতে শুধুই সময় নষ্ট হবে। আপনি নিজে যা করছেন, শুধু সেটাতেই মনোযোগ দিন।

৬) ইতিবাচক ব্যাপারে চিন্তা করুন

এমন অনেক খারাপ ব্যাপারে আমরা চিন্তা করি যেগুলো আমাদের জীবন থেকে শান্তি কেড়ে নেয়। কিন্তু এটা করা মানে অযথা আমাদের সময় এবং শান্তি নষ্ট করা। নিজের সময় এবগ্ন মানসিক শক্তি ব্যবহার করে বরং করুন সেই কাজ যাতে আপনার মনে শান্তি আসে, আপনি হাসিখুশি হয়ে ওঠেন। এতে অনেকটা স্ট্রেস কমে যাবে।

৭) সকাল শুরু করুন ভালোভাবে

ঘুম থেকে উঠেই যদি তাড়াহুড়ো শুরু করেন তাহলে তো সারাদিনই এই স্ট্রেস মাথায় নিয়ে ঘুরতে হবে, তাই না? এর চাইতে সকালটা ধীরেসুস্থে কাটান। সময়টাকে উপভোগ করুন। সকালটা ফুরফুরে মেজাজে কাটালে আপনার সারা দিনটাও কাটাতে সহজ মনে হবে।

৮) “ব্যস্ত” কথাটা জীবন থেকে দূর করুন

আমরা খুব গর্ব করেই বলি, অমুক কাজটা করতে পারবো না, কারণ আমি ব্যস্ত। নাশতা করতে পারবো না, কারণ আমি ব্যস্ত। কিন্তু এই কথাটা বলতে বলতে আমরা যে একটা সমস্যা তৈরি করে ফেলি সেটা ভুলে যাই। আপনি নিজেকে যত বেশি ব্যস্ত বলে দাবি করেন, আপনার স্ট্রেস তত বাড়ে।

আপনি যে চেষ্টা করলে নিজের স্ট্রেস কমাতে পারবেন তা নিঃসন্দেহে সত্যি। এ কারণে নিজের মাঝে স্ট্রেস পুষে না রেখে এই উপায়গুলো অনুশীলন করুন। স্ট্রেস ঝেঁটিয়ে বের করুন জীবন থেকে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top