জেনে নিন দ্রুত ঘর পরিষ্কারে হোটেল হাইউজকিপিং এর ছয়টি গোপন ট্রিক্স

যে কোনো কাজই প্রফেশনালরা আমাদের চাইতে ভালো করেন। ঘরদোর পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রফেশনাল হলেন বিভিন্ন হোটেলে নিয়মিত ঝাড়পোঁছ করার কাজে নিয়োজিত মেইড। তাদের দেওয়া কিছু ট্রিক্স পাওয়া যায় Huffington Post , Good Housekeeping এবং care.com থেকে। দেখে নিন এসব ট্রিক্স। আপনার দৈনন্দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।

হোটেলের রুম থেকে একজন মানুষ বের হয়ে গেলে খুব দ্রুত সেই রুমটাকে আবারও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হয়। এ কারণে সময়মত একেবারে ঝকঝকে করে ঘর পরিষ্কার করার ট্রিক্স যদি কেউ জেনে থাকেন, তিনি হলেন এসব জায়গায় কাজ করা হাউজকিপার মেইড। দেখে নিন তাদের ব্যবহার করা সব ট্রিক্স। ইচ্ছে হলে দেখে নিতে পারেন Huffington Post এর এই ভিডিওটি।

১) গুছিয়ে নিন আগেই

তারা ঘর পরিষ্কার করার আগে শুরুতেই ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় সবকিছু সরিয়ে ফেলেন। ময়লা সব সরিয়ে ফেলেন, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, তোয়ালে, বাথরুমে থাকা বিভিন্ন বোতল এবং কন্টেইনার সরিয়ে ফেলেন। এগুলো সরিয়ে ফেললে ঘর পরিষ্কারের কাজটা সহজ হয়ে যায়।

২) ঝাড়পোঁছ করার কাপড়

কোনো কিছু পরিষ্কার করতে হলে ব্যবহার করুন একশভাগ সুতি কাপড়। পুরনো বালিশের কভার বা টি-শার্ট এক্ষেত্রে কার্যকর। কখনোই ব্যবহার করবেন না টেরিক্লথ অথবা পলিয়েস্টার। এগুলো বরং আরও বেশি ময়লা সৃষ্টি করে।

৩) পর্দাগুলো ঝেড়ে ফেলুন

ঘর ঝাড়পোঁছ করার সময়ে একটা ছোট তোয়ালে দিয়ে জোরে বাড়ি দিন পর্দায়। এতে পর্দা থেকে ধুলো চলে যাবে, সহজে ময়লা হবে না। এরপরে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করতে হবে।

৪) ঘর মোছার আগে ঝাড়া

সব সময়ে আগে ঘর ভ্যাকুয়াম করে নেবেন অথবা ঝাড়ু দিয়ে নেবেন। তার পর ঘর মুছতে পারেন। এর মূল কারণ হলো চুল। মেঝেতে চুল পোড়ে থাকলে তা ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে নিতে হবে। ভেজা চুল মেঝে থেকে পরিষ্কার করা খুবই ঝামেলার ব্যাপার। ঘরের কোনা থেকে শুরু করে দরজা পর্যন্ত মুছতে হবে।

৫) সবার শেষে বাথরুম পরিষ্কার

বেডরুম পরিষ্কার করা শেষ হলে তবেই বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। কারণ বাথরুম আগে পরিষ্কার করে অন্যত্র পরিষ্কার করতে গেলে জীবাণু ছড়াবে সারা ঘরে। আরও মনে রাখুন, কাজ শুরুর সময়ে ওপরের জিনিসগুলো আগে পরিষ্কার করুন, এরপর নিচের জিনিস এবং ফ্লোর পরিষ্কার করবেন।

৬) ক্লিনারগুলো কাজ করতে সময় নেয়

আপনি যদি টয়লেট ক্লিনার, টাইলস ক্লিনার, গ্লাস ক্লিনার এগুলো স্প্রে করে সাথে সাথে মুছে ফেলেন এগুলো খুব বেশি ভালো কাজ করবে না। স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিন, এ সময়ে অন্য কোনো কাজ করুন। ১০-১৫ মিনিট পরে মুছতে গেলে দেখবেন অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। আর সাবধান, কখনোই একটা ক্লিনারের সাথে আরেকটা মেশাবেন না।

৭) ভ্যাকুয়ামের নিয়ম

ঘরে ঢোকার সময়ে ভ্যাকুয়াম করতে করতে ঢুকুন এবং বের হবার সময়েও ভ্যাকুয়াম চালিয়ে নিয়ে যান। এতে যে জায়গাগুলো বেশি ময়লা হয় সেগুলো দুবার করে পরিষ্কার হবে।

৮) সবচাইতে ভালো ক্লিনার আছে রান্নাঘরেই

না, কোনো নামীদামী ব্র্যান্ডের ক্লিনার নয়। বরং সাদা সিরকা এবং পানির একটি মিশ্রণ হলো তাদের সবচাইতে কার্যকরী পরিষ্কার করার উপাদান। অন্যান্য ক্লিনারের ফেলা দাগও এটা মুছে ফেলতে সক্ষম। একটি স্প্রে বোতলে এক ভাগ ভিনেগার এবং তিন ভাগ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

৯) হাতের কাছে রাখুন পুরনো টুথব্রাশ

মাঝে মাঝে ঘরের কোনায়, টাইলসের ফাঁকে বা এমন কোনো সূক্ষ্ম জায়গায় ময়লা জমে যায় যা সহজে পরিষ্কার করা যায় না। এসব ক্ষেত্রে পুরনো একটি টুথব্রাশ আপনার কাজে আসবে।

১০) পরিষ্কার করার সব জিনিস রাখুন একসাথে

হাউজকিপারদের সব মোছামুছির প্রোডাক্ট, ব্রাশ, ভ্যাকুয়াম একসাথে একটি ট্রলিতে থাকে যাতে তারা দরকারের জিনিসটা হাতের কাছেই পান। এ কাজটি আপনিও করতে পারেন। একটি বালতিতে সবকিছু একসাথে রাখতে পারেন। এতে কাজ হয়ে যাবে সহজ এবং সময় লাগবেও কম।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top