নিজেই তৈরি করে ফেলুন চমৎকার একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার

দিনের বড় একটা সময় যারা ঘরের বাইরে কাটান তারাই জানেন কতো অপরিষ্কার জিনিসের সংস্পর্শে তাদের আসতে হয়। বাসের দরজা থেকে শুরু করে পাবলিক টয়লেটের ট্যাপ, সবকিছুতেই জীবাণুর ভয়! কেউ কেউ জীবাণু থেকে দূরে থাকতে ব্যবহার করেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কিন্তু বাজারে পাওয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কী দরকার এতো রাসায়নিক ব্যবহার করে? এর চাইতে নিজেই পছন্দমতো তৈরি করে নিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে এটা শুনে অনেকেই ভ্রু কুঁচকে ফেলেছেন। কিন্তু এটা গবেষণায় পাওয়া তথ্য। বেশীরভাগ হ্যান্ড স্যানিটাইজারে থাকে ট্রিক্লোসান। এই উপাদানের কারণে আমাদের দেহে বিপিএ নামের একটা ক্ষতিকর উপাদান অনেক বেশি পরিমাণে শোষিত হয়। আর বিপিএ বেশ কিছু রোগের কারণ বলে ধারণা করা হয়, এর মাঝে রয়েছে ক্যান্সারও। এমন ঝুঁকিতে না গিয়ে নিজেই তৈরি করে নিন সহজ, কম উপাদানের একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার। আর এটাকে রাখার জন্য একটি স্প্রে বোতল ব্যবহার করতে পারেন। ইচ্ছে হলে পুরনো একটি পারফিউমের বোতলেও রাখতে পারেন একে।

যা যা লাগবে

  • –   সিকি কাপ উইচ হেজেল/রাবিং স্পিরিট
  • –   এক টেবিল চামচ ভিনেগার
  • –   এক চা চামচ অ্যালো ভেরা জেল
  • –   ১০/১৫ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল
  • –   স্প্রে বোতল
  • –   ফানেল

যা করতে হবে

১) উইচ হেজেল/স্পিরিট এবং অ্যালো ভেরা জেল স্প্রে বোতলে ঢেলে নিন। উইচ হেজেলে অ্যালকোহলের পরিমাণ কম থাকে বলে এটা ত্বকের জন্য ভালো। তবে উইচ হেজেল না পেলে আপনি সাধারণ রাবিং স্পিরিট ব্যবহার করতে পারেন। আর অ্যালো ভেরা জেল ত্বকে কোনো জ্বালাপোড়া থাকলে তাতে আরাম দেয়।

২) এরপর ভিনেগার দিন। এটা হলো প্রকৃতিবান্ধব অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এরপর এসেনশিয়াল অয়েলের ফোঁটা যোগ করুন। ব্যবহার করতে পারেন লেমনগ্রাস, ল্যাভেন্ডার অথবা টি ট্রি অয়েল। এগুলোও প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এছাড়াও টি ট্রি অয়েল, ল্যাভেন্ডার এবং ক্লোভ অয়েল মিশিয়েও দিতে পারেন। এগুলোর সুগন্ধে ভিনেগারের টক-টক গন্ধ ঢাকা পড়ে যাবে।

৩) স্প্রে বোতলের ঢাকনা লাগিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। এরপর ব্যবহার করুন ইচ্ছেমত।

টিপস:

–   উপকরণগুলো ভালো করে ব্লেন্ড করে তারপর স্প্রে বোতলে ঢালতে পারেন।

–   এসেনশিয়াল অয়েলে অনেকের অ্যালার্জি থাকতে পারে। নিশ্চিত হবার জন্য কিছুটা এসেনশিয়াল অয়েল বগলের নিচে লাগিয়ে রাখতে পারেন। ২৪ ঘন্টার মাঝে যদি কোনো খারাপ প্রতিক্রিয়া না হয় তাহলে ব্যবহার করতে পারেন নিরাপদে।

–   উইচ হেজেল বা রাবিং স্পিরিট ব্যবহার করতে না চাইলে টি ট্রি অয়েল এবং অ্যালো ভেরার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।

এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাজারে পাওয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মতো শতভাগ জীবাণুমুক্ত করবে না আপনাকে। কিন্তু কেনা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের তুলনায় এটা ব্যবহার করে আপনি বেশি স্বস্তি পাবেন নিঃসন্দেহে। রাসায়নিকের ক্ষতির কথা বাদই দিলাম, এটা আপনার ত্বকের জন্যও অনেক ভালো।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top