ইমোশনাল ইটিং এর অভ্যাস দূর করবেন যেভাবে

মানুষ যখন পেটের ক্ষুধার জন্য না খেয়ে মনের ক্ষুধার জন্য খায় তখন তাকে ইমোশনাল ইটিং বলে। যখন আপনার একটু খারাপ লাগে তখন চকলেট বা চিপস খান। এর ফলে কিছুটা ভালো লাগা তৈরি হলেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়না কিন্তু আপনার ওজন ঠিকই বৃদ্ধি পায়। আপনার এই রকম অনুভূতি যেমন- দুঃখ, স্ট্রেস, উদ্বিগ্নতা বা রাগ ইত্যাদি সামলে নেয়ার জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করুন যাতে আপনাকে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে না হয়। আপনি ইমোশনাল ইটার কিনা সেটা বুঝার জন্য নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন, যেমন-

  • যখন খুব বেশি চাপ অনুভব করেন তখন কি আপনি বেশি খান?
  • আপনার ক্ষুধা না লাগলে বা পেট ভরা থাকলেও কি আপনি খান?
  • আপনি যখন কষ্ট পান, উত্তেজিত হন, বিরক্ত বা উদ্বিগ্ন হন তখন খাওয়া দাওয়া করলে আপনি ভালো অনুভব করেন?
  • আপনি কি নিজেকে খাদ্য দিয়ে পুরস্কৃত করেন?
  • আপনি কি আপনার পেট পরিপূর্ণ ভাবে ভরা পর্যন্ত খেতেই থাকেন?
  • খাবার খেলে কি আপনি নিরাপদ বোধ করেন? খাদ্যকে আপনার বন্ধু মনে হয়?
  • খাবার দেখলেই কি আপনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারান?

এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর যদি হাঁ হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, আপনার ইমোশনাল ইটিং হ্যাবিট এর সমস্যাটি আছে। এবার তাহলে আসুন জেনে নেই সেই উপায় গুলো যার মাধ্যমে আবেগতাড়িত হয়ে খাওয়ার প্রবনতা কমানো যায়।

১। অসতর্কতা

আপনি কি খাচ্ছেন ও কেন খাচ্ছেন এই বিষয়ে সতর্ক না হওয়ার ফলেই আবেগতাড়িত হয়ে খাওয়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়। আপনার সামনে খাবার আছে দেখেই আপনাকে খেতে হবে এই অভ্যাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এর সমাধানের জন্য আপনি কি খাচ্ছেন ও কখন খাচ্ছেন তার প্রতি নজর দিন। প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হবে। আস্তে আস্তে শুরু করুন এবং নিজেকে বিচার না করে নতুন কোন পন্থা বের করার চেষ্টা করুন।

২। অনুভূতিকে পরিত্যাগ করবেন না  

ইমোশনাল ইটিং আপনাকে অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়, তাৎক্ষণিক আনন্দ প্রদান করে এবং আপনি সন্তুষ্ট অনুভব করেন। অতিভোজনে আপনার অবাঞ্ছিত অনুভুতিগুলোকে নরম ও অসাড় হতে সাহায্য করে। রাগ ও অপরাধবোধ থেকেও খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আপনার অনুভূতি যখন ভুল পথে যাবে তখন সেগুলোকে বর্জন করার পরিবর্তে আপনি অনুভব করুন। নিজেকে বলুন- “কষ্ট, ভয়, উত্তেজনা, ক্লান্তি এই সবই স্বাভাবিক”। নেতিবাচক আবেগকে স্বাগত জানান আপনার উদারতা ও কৌতূহল দিয়ে এবং তাঁরা আপনার কাছে কি চায় সেটা জিজ্ঞেস করুন। আপনার আবেগকে উদার ভাবে গ্রহণ করার ফলে আপনার শরীর এটা বুঝতে শুরু করবে যে, খাওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার এই অনুভূতিগুলোকে খুব বেশীক্ষণ দূরে সরিয়ে রাখতে পারবেননা। বরং আপনার অনুভূতিগুলোকে যদি আপনি বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে আপনি আসলে কি করতে চাইছেন তা আবিষ্কার করতে পারবেন এবং আপনার পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির জন্য নতুন কোন পন্থা খুঁজে পাবেন।

৩। দেহতত্ত্ব  

ইমোশনাল ইটিংকে আঘাত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, নিজেকে অনেক বেশি ক্লান্ত বা অনেক বেশি ক্ষুধার্ত হতে দিন। যখন শরীর ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত থাকে তখন এটা আপনার মস্তিষ্কে খুব শক্তিশালী বার্তা পাঁঠায় যে, এখন খেতে হবে এবং এটা কোন খেলা নয়। এর ফলে তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা উত্তেজনা প্রশমন করাটা সহজ হবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ঘুমান এবং আপনার সারাদিনের খাবার কয়েকবারে খান।

এছাড়াও আপনি যখন খারাপ অনুভব করবেন এবং কিছু খেতে হবে ভাবছেন তখন তাৎক্ষণিক ভাবে যে কাজ গুলো করতে পারেন তা হল-

  • আপনার কোন বন্ধুর সাথে কথা বলুন
  • বই বা ম্যাগাজিন পড়ুন অথবা গান শুনুন
  • কোথাও হাঁটতে চলে যান
  • গভীর ভাবে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিন
  • কোন গেম খেলুন
  • ঘরের কোন কাজ, কাপড় ধোয়া, বাগান করা ইত্যাদিতে মনোযোগ দিন
  • কাউকে ইমেইল করুন

ইমোশনাল ইটিং জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অস্থায়ী স্বস্তি প্রদান করতে পারার শক্তিশালী ও কার্যকরী উপায়। যদি এটা ততটা কার্যকরী না হত তাহলে কেউ এটা করত না। ইমোশনাল ইটিং এর এই চক্র থেকে বাহির হওয়ার জন্য আপনাকে মনের জোর ও প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধির অঙ্গীকার করতে হবে এবং উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো অনুসরণ আপনাকে এই সমস্যাটি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

 

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top