জাল টাকা চিনবেন কীভাবে

বিশ্ব বাণিজ্যের  খুবই প্রচলিত একটা কথা হলো- সব সময় দু’টি নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রথমত, কখনোই টাকা হারিয়ো না। দ্বিতীয়ত, প্রথম নিয়মটা স্মরণে রেখো। হঠাৎ করে দোকানে টাকা দেওয়ার পর দোকানি যদি সেটিকে জাল নোট বলে তাহলেই শেষ। অথবা ব্যাংকে যাওয়ার পর জাল নোট ধরা পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে টাকায় একটা ছিদ্র করে দেবে নিয়ম মতো। এরপর আর কিছুই করার থাকবে না আপনার।

টাকা জালিয়াতির কারণে মাঝে মাঝেই আমাদের হাতে জাল বা নকল টাকা চলে আসে। এর অন্যতম কারণ টাকা লেনদেনের সময় আমরা নিজেরা ঠিকমতো আসল-নকল টাকা না দেখেই নিয়ে নেই। কিন্তু কীভাবে চেনা যাবে কোন টাকা আসল আর কোনটাই বা নকল।

আসল-নকল টাকা চেনার ১৩টি তথ্য এখন ব্যাংকগুলোয় ঝোলানো থাকে। এছাড়া মাঝে মধ্যেই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারেও ছাপা হয়। তবে সময় কোথায় তা পড়ে দেখার। টাকায় থাকা নিরাপত্তা সুতা, রঙ পরিবর্তনশীল কালি, অসমতল ছাপা, জল ছাপ দেখে মুহূর্তেই আপনি নিজেই জেনে নিতে পারেন আপনি নিরাপদ লেনদেন করছেন কিনা।

আসল-নকল চেনার উপায়:

একশ টাকা, পাঁচশ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা মূল্যমানের প্রত্যেক ধরনের নোটের সামনে ও পেছন দুদিকেরই ডিজাইন, মধ্যভাগের লেখা, নোটের মূল্যমান এবং ৭টি সমান্তরাল সরল রেখা উঁচু নিচুভাবে মুদ্রিত আছে যেখানে হাত দিলে একটু খসখসে ভাব হয়। তাছাড়া নোটের ডান দিকে একশ টাকার ক্ষেত্রে তিনটি, পাঁচশ টাকার ক্ষেত্রে ৪টি এবং এক হাজার টাকার নোটে ৫টি ছোট বৃত্তাকার ছাপ আছে যা হাতের স্পর্শে উঁচু নিচু লাগে।

মনে রাখতে হবে, জাল নোটে জলছাপ অস্পষ্ট ও নিম্নমানের হয়। আসল নোটে ‘বাঘের মাথা’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মনোগ্রাম’ এর স্পষ্ট জলছাপ রয়েছে। উভয়ই আলোর বিপরীতে দেখা যাবে।

এছাড়া একশ টাকা, পাঁচশ টাকা  ও এক হাজার টাকা মূল্যমানের প্রত্যেক প্রকার নোটেই মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সম্বলিত নিরাপত্তা সুতা থাকে।

নোটের মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো নিরাপত্তা সুতার ৪টি স্থানে মুদ্রিত থাকে। এ নিরাপত্তা সুতা অনেক মজবুত যা নোটের কাগজের সঙ্গে এমনভাবে সেঁটে দেওয়া থাকে যে নখের আঁচড়ে বা মুচড়িয়ে সুতা কোনোভাবেই উঠানো সম্ভব নয়। যদি আপনার হাতের নোটটি জাল হয় তাহলে নিরাপত্তা সুতা সহজেই নখের আঁচড়ে বা মোচড়ানোতে উঠে যায়।

জাল টাকা নিয়ে ভুক্তভোগী রায়হান আয়ান বলেন, ‘আমি যে টাকাটা নিয়েছি সেটা কোনও এক দোকান থেকে আমার হাতে এসে থাকবে। কিন্তু আরেক জায়গায় সেটা জাল বলার পর আমি অবাক হয়ে যাই। যে জাল টাকার জন্য আমি দায়ী না সে পরিমাণ টাকা আমার ফেরত পাওয়ারও কোনও সুযোগ নেই। ফলে আসল টাকা চিনে রাখা নিজের জন্যই জরুরি।’

একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত রাশেদুল হাসান বলেন, ‘আমরা একটু সতর্ক থাকলেই কিন্তু ঠিক বেঠিকটা ধরতে পারি। তাহলে কেন করবেন না। আর বড় ধরনের লেনদেন সরাসরি ব্যাংক থেকে করারই পরামর্শ দিয়ে থাকি আমরা। ছোটখাটো লেনদেনে নিজে একটু দেখে নিলেই হয়। বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশয় হলে সেটা কাছাকাছি কোন ব্যাংকে পরীক্ষাও করিয়ে নিতে পারেন।’

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top