একই ধরনের খাবার প্রতিদিন খেলে কী ওজন কমতে সাহায্য করে?

প্রতিদিন একই খাবার খাওয়াটা বিরক্তিকর মনে হতে পারে কিন্তু এটি আসলেই ওজন কমতে সাহায্য করে। ডায়েট প্ল্যান অনুসরণের সবচেয়ে কঠিন দিকটি হচ্ছে পরিকল্পনা অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা করা। বেশীরভাগ মানুষই ডায়েটিং করাটা বাদ দেন কারণ প্রতিদিন নতুন জিনিস করা এবং সঠিক খাবার খেতে অসমর্থ হন তারা। প্রতিদিনই নতুন জিনিস তৈরি করা বা রান্না করা অনেক শ্রমসাধ্য একটি বিষয়, বিশেষ করে আপনাকে যখন স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করতে হয়। কিন্তু আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে সঠিক খাবার খাওয়াকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না কিছুতেই। তাই যদি একই খাবার খেয়ে ওজন কমানো যায় তাহলে কেমন হয়?

প্রতিদিন একই জিনিস খাওয়া বিরক্তিকর হলেও সুবিধাজনক। আপনি যখন প্রতিদিন একই জিনিস খাওয়া শুরু করবেন তখন আপনি জানেন যে প্রতিবেলায় আপনি কী খাবেন। এর ফলে নতুন কিছু খাওয়ার ইচ্ছা বা ক্ষুধা কমে যাবে আপনার। রাতের খাবার প্রস্তুতের জন্য আপনাকে চিন্তা করতে হবেনা কারণ আপনি জানেন যে কী খাবেন রাতে। যদি আপনি জাংকফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রলোভনকে দমিয়ে রাখতে পারেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আপনার ওজন কমবে।

প্রতিদিন একই ধরণের খাবার রান্না করুন। ‘ইউ অন এ ডায়েট’ বইটির লেখক ডা. মেহমেট অজ এবং ডা. মাইকেল রইজেন বলেন, সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করা। যদি আপনি সকালে ১ বাটি ওটমিল ও ১ গ্লাস স্মুদি অথবা ১ টুকরো আস্ত গমের পাউরুটির সাথে পিনাট বাটার খেতে পছন্দ করেন তাহলে এই একই খাবার যখন আপনি প্রতিদিন খাবেন তখন আর আপনাকে সকালের নাশতা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না। এভাবে আপনি দিনের অন্য খাবারেরও একটি মেনু ঠিক করে ফেলুন এবং সেটিই প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার বাজার করাটাও সহজ হয়ে যাবে।

ডা. অজ এবং ডা. রইজেন বলেন, আপনি যদি অন্তত দিনের একবেলার খাবার একই রকম খান তাহলে আপনার ওজন কমবে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার তুলনায়।     

ডায়েটেশিয়ানদের মতে স্বাস্থ্যকর খাবারে সব ধরনের খাদ্যের গ্রুপের সুষম অনুপাত বজায় থাকে। এটি ওজন বজায় রাখতে বা ওজন কমতে সাহায্য করে। খাবারের ধরন, পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতি চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে সাহায্য করে। এভাবে প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে অবশ্যই ওজন কমে, তবে ব্যায়াম করাও অপরিহার্য।

তাই আপনি কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিন। সেই সাথে কী পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করছেন এবং কতোটুকু ক্যালোরি পুড়ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। ১৫  দিন বা একমাস এভাবে মেনে চলুন, পার্থক্য নিজেই দেখতে পাবেন।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top