ব্যায়াম ছাড়া ওজন কমানোর সবচাইতে সহজ, কার্যকরী ও নতুন ৯টি নিয়ম

ওজন কমানো নিয়ে আজকাল বেশিরভাগ মানুষেরই চিন্তার অন্ত নেই। আমাদের বর্তমান লাইফ স্টাইলের কারণেই দিন দিন বাড়ছে ওজন আর সেটা কমাতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছি প্রায় সকলেই। আপনার জানা ওজন কমানোর সকল পদ্ধতি আজ থেকে ভুলে যান, কেননা কষ্টকর ডায়েট বা কঠোর ব্যায়াম দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া যায় না। তার বদলে মেনে চলুন এই সহজ ৯টি নিয়ম। এই নিয়ম গুলো মেনে চললে আপনার বাড়তি ওজন তো ঝরে যাবেই, আবার নতুন করে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকবে না!

১) প্রাকৃতিক হোক কিংবা কৃত্রিম, চিনি হচ্ছে চিনি। তাই মিষ্টি জাতয় খাবার যতটা সম্ভব পরিহার করুন। আগে মনে করা হতো চিনির চাইতে মধু ভালো বা মধু খেলে ওজন বাড়বে না। বিষয়টি কিন্তু মোটেও ঠিক নয়। মিষ্টি খাবার বেশী খেলে ওজন বাড়বেই!

২) ওজন কমানোর জন্য সব খাবারের “ফ্যাট ফ্রি” ভার্সন বেছে নিচ্ছেন? এই কাজটিও বাদ দিন। সাধারণত ফ্যাট ফ্রি খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে না, কিংবা থাকে কৃত্রিম ফ্যাট। দুটিই আপনার জন্য সমান ক্ষতিকর। বরং লো ফ্যাট খাবার বেছে নিন, কিংবা রেগুলার ফুল ফ্যাটই খান। তবে পরিমাণে কম।

৩) আগে মনে করা হতো ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন ৬ বার আহার করা উচিত, অল্প অল্প করে। এই ভাবনাটাও বাদ দিন। তখনই খাওয়ার অভ্যাস করুন যখন আপনি সত্যি সত্যি ক্ষুধার্ত।

৪) এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন যা আপনার পেট অনেকক্ষণ ভরা রাখবে ও ঘন ঘন ক্ষুধা লাগতে দেবে না। এতে আজেবাজে খাবার খাওয়া রোধ হবে। যেমন প্রোটিন বা আঁশ জাতীয় খাবার অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে। সকালের নাস্তায় ডিম খেলে দুপুরের আগে আর আপনার ক্ষুধা অনুভূত হবে না। ফলে ক্যালোরি গ্রহণ থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

৫) লবণ ছাড়া বাঙালির ভাতের পাত যেন জমেই না। তবে ওজন কমাতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতি অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস। একই সাথে অতিরিক্ত লবণ দেয়া বাদাম, চিপস বা প্রসেসড ফুড ইত্যাদি সবই বাদ দিতে হবে।

৬) সকলেই মনে করেন যে ওজন কমানোর জন্য মুরগীর মাংস খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। তবে সত্য এটাই যে আপনি চর্বি ফেলে দিয়ে যে কোন মাংসই খেতে পারেন। তবে হ্যাঁ, পরিমাণে অল্প। আর ফার্মের মুরগীর বদলে দেশী মুরগি খেতে পারলে সেটা আরেকটু বেশী স্বাস্থ্যকর।

৭) অনেকেই মনে করেন মাখন বা ঘি বাদ দিয়ে সয়াবিন তেল খেলে তাতে বুঝি ফ্যাট কম। সত্যটা এই যে, তেল বা তেল জাতীয় খাবার কোনটাই আমাদের সজরিরের ও ওজনের জন্য ভালো নয়। মাখন হোক, ঘি বা সয়াবিন তেল ইত্যাদি যত কম খাবেন ততই ভালো। অলিভ অয়েল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে আরও স্বাস্থ্যকর।

৮) ভাতের বদলে রুটি খাচ্ছেন দুই বেলা, তাও কমে না ওজন? কমবেও না। ভাতের বদলে রুটি খেয়ে ভাবছেন যে অনেক কম খাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আসল সত্যটা হচ্ছে দুটিই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার। আর এই কার্বোহাইড্রেট অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়বেই। ভাত হোক বা রুটি, সবই খেতে হবে পরিমাণে খুবই পরিমিত।

৯) ওজন কমাতে চাইলে সারাদিন শুধু ফলমূল আর সবজি খেয়ে থাকতে হবে? একদম কিন্তু নয়! বরং আপনার প্রত্যেক বেলার খাবারের অর্ধেকটা রাখুন সবজি ও ফল, বাকি অর্ধেক রাখুন নিয়মিত পছন্দের খাবার। তাতেই আপনার ওজন কমবে আর ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top