শিশুর ফিডার কি স্বাস্থ্যসম্মত?

পরিবারে নতুন অতিথির আগমনে খুশির বন্যা বয়ে গিয়েছিল শারমিন ও জামান দম্পতির মনে। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে সন্তান প্রসব—সব কিছুই করেছেন চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে। প্রথম সন্তান বলে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি তাঁরা। প্রথম ছয় মাস নিয়ম মেনে সন্তানকে শুধু বুকের দুধ পান করিয়েছেন। ছয় মাস যেতে না যেতেই বাবুর জন্য কত কিছু যে কিনেছিলেন তার ইয়ত্তা নেই। বাদ ছিল না ফিডারও। নতুন ফিডার দিয়ে শিশুকে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ানোর কয়েক দিন পরই পেটে গোলযোগ। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানান, অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিক ফিডারই শিশুর পেটের অসুখের কারণ।

সন্তানকে ছয় মাস পর মাতৃদুগ্ধ দানের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। এ সময় শিশুকে প্যাকেটজাত পুষ্টিকর দুধ, সুজি, ফলের রস, জুস, স্যুপসহ নানা রকম তরল খাবার খাওয়াতে ফিডার ব্যবহার করেন মায়েরা।

যত রকম ফিডার

মায়েদের এমন চাহিদার কারণে বাজারে ফিডারের কমতি নেই। একেক ফিডারের একেক রং, একেক ঢং! কোনোটা লম্বা তো কোনোটা খাটো। চ্যাপ্টা থেকে শুরু করে গোলাকার, বোতলাকার কত যে আকৃতি! অনেক ফিডারে রয়েছে শিশুর হাতে ধরে খাওয়ার জন্য আলাদা হাতল। দোকানিরা জানালেন, মজা করে মায়েরা এমন পাত্রকে মাম পট বলে থাকেন। দোকানেও মাম পট নামেই পরিচিত এগুলো।

ফিডারের বিপক্ষে বিশেষজ্ঞরা

এত রং, ঢং আর চাহিদার যে ফিডার তার পক্ষেই নন শিশু বিশেষজ্ঞরা। কারণ এসব ফিডারের বেশির ভাগই প্লাস্টিকের তৈরি। মানেও থাকে কমবেশ। বাজারের সস্তা, মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের ফিডার শিশুর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ফিডারের ভালো-মন্দ

বাজারে প্রচলিত প্লাস্টিকের যত রকম ফিডারই থাকুক না কেন কোনোটাকেই পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত বলার সুযোগ নেই। কারণ প্লাস্টিক সে প্লাস্টিকই—যত প্রযুক্তিগত উন্নতিই তাতে যোগ করা হোক। প্লাস্টিকে বিসিফিনল (বিপিএ) জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এটা শিশু স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তবে উন্নত ব্র্যান্ডের ফিডারগুলোয় বিপিএর মাত্রা কম থাকে। এ জন্যই মূলত শিশু বিশেষজ্ঞরা ফিডারের পক্ষে নন। পরিবর্তে তাঁরা চামচ-বাটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শিশুকে তরল খাবার খাওয়ানোর জন্য ফিডারের পরিবর্তে কাচের বাটি ও স্টিলের চামচ ব্যবহারে মত দেন তাঁরা।

কখন দরকার ফিডার

তবে যেসব মায়ের পক্ষে চামচ-বাটি ব্যবহার সুবিধাজনক নয় তাঁরা সীমিত পরিসরে শিশুর জন্য ফিডার ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মা, যাঁদের অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হয়। এ জন্য উন্নত ব্র্যান্ডের ভালো প্লাস্টিক অথবা কাচের ফিডার ব্যবহার করা উচিত। ইদানীং ফুড গ্রেড প্লাস্টিক পাওয়া যায়। এগুলো অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। প্লাস্টিকের যেকোনো পণ্য কেনার সময় পণ্যটির গায়ে ত্রিকোনাকার ঘরের সংখ্যা দেখে কেনা উচিত। ঘরে থাকা সংখ্যা যত কম হবে সেই পণ্যটি ততটা বেশি নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া হয়। এখন কাচের ফিডার পাওয়া যায়। কাচের হলেও পড়ে সহজে ভাঙার উপায় নেই। এ জন্য নরম স্পঞ্জজাতীয় রাবার দিয়ে ফিডার মোড়ানো থাকে। খুব প্রয়োজন হলে এমন কাচের ফিডার ব্যবহার করতে পারেন।

ফিডার ব্যবহারের সময়

ফিডার অথবা মাম পট কেনার পর গরম পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।

একটা ফিডার বা মাম পটের পরিবর্তে একাধিক ফিডার ব্যবহার করুন, যাতে প্রতিবার ব্যবহারের আগে গরম পানি দিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া যায়।

ফিডারের নিপল বেশি দিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

ব্যবহার শেষে ফিডারের মুখ ভালো করে বন্ধ করে রাখুন।

ফিডারের মুখে যেন মশা-মাছি না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

কোথায় পাবেন

যেকোনো স্টেশনারি দোকান ও বেবি শপে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফিডার ও মাম পট পাওয়া যায়।

কেমন দাম

আকৃতি, ডিজাইন ও মানভেদে একেকটার একেক রকম দাম। ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৫০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে পছন্দের ফিডার।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top