সাত দিনে FLAT TUMMY পাওয়ার ম্যাজিক ট্রিক!

হাত, পা, কোমর মেদের রাজত্ব সব জায়গায়। রাজত্ব লন্ডভন্ড করার লড়াইও চলছে দিনরাত…তবে পেট চত্বর যেন এই মেদ-এর নন্দনকানন! সেখান থেকে তাকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নির্বাসনে পাঠানো, তাও আবার মাত্র সাত দিনে? এমনটা নাকি হয়! তাও ৯০% ডায়েটের উপর নির্ভর করে! আজ্ঞে হঁ্যা, এও নাকি সম্ভব…

খাওয়া-দাওয়ার ইস্তাহার…

গায়ে গতরে খেটেখুটে থুড়ি এক্সারসাইজ় করে মেদ ঝরানোর পক্ষপাতি নও যারা তারা নিশ্চয়ই হামলে পড়েছ ম্যাজিক ট্রিকটা শিখে নিতে। তবে খাওয়ন-দাওনের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানতে হবে হই কী! পেটের ফ্যাটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে কয়েকটা বস্তু পেটে দেওয়া যাবে না, যার প্রথমটাই হল জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফিনযুক্ত খাবার যেমন চা-কফি, রিফাইনড সুগার বা প্রসেসড ফুড খাওয়ায় ব্যান লাগাতে হবে।

মাছের তেল তোমার চর্বির যম। তাই ফ্যাটের এক্সট্রা ইনিংস বাতিল করতে দরজা খুলে ফিস ফ্যাটকে!

ব্রেকফাস্ট ইজ় আ মাস্ট!

দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা হোক বা সময় কম থাকা, কোনও না কোনও অজুহাত দেখিয়ে ব্রেকফাস্টকে দিনপঞ্জিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারচুপি আমরা অনেকসময়েই করে থাকি। এটা করলে কিন্তু মহাবিপদ। ঘুম থেকে ওঠার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ব্রেকফাস্ট সেরে ফেলতে হবে। খালি পেট রাখলে ফ্যাট আরও বেড়ে যায়। ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মধ্যে পেট ভরাতে পার ফল এবং বাদাম জাতীয় খাবার দিয়ে। বিস্কুট বা জাঙ্ক ফুডের কথা কিন্তু মনে আনাও পাপ।

রাতে ভারী খাবারের নো-এন্ট্রি

সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে আমাদের পাচন ক্ষমতাও চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমোতে চলে যায়। তাই রাত আটটার পর ভারী খাবার না খাওয়াই মঙ্গল। খেলে সেটা হয়তো ভাল করে হজম হবে না। ফলে পেট ফেঁপে গিয়ে এমনিতেই পেটের স্থূল লুক আরও একটু বাড়িয়ে তুলবে। খামকা এই ঝক্কি পোহানোর দরকারই বা কী!

ডায়েটে লুজ় করো ওয়েট…

কথা হচ্ছে সাতদিনে পেটের মেদ ঝরিয়ে এক্কেবারে ঝরঝরা হয়ে ওঠার। তাই চলো জেনে নিই এই সাত দিন অন্তত কোন খাবার থাকবে প্লেটে আর কোন খাবার ছুঁয়েও দেখবে না হাতে…

প্রথম দিন

এই দিন কমপ্লিট ফ্রুট ডায়েট ডে। যে কোনও ফল খেতে পার। সঙ্গে আট থেকে দশ গ্লাস জল। অন্য কোনও খাবারের দিকে ফিরেও তাকাবে না। খিদে পেলে ফলই খাবে। সঙ্গে খেজুর জাতীয় ড্রাই ফ্রুটও কয়েকবার চলতে পারে।

দ্বিতীয় দিন

এই দিন হল ভেজিটেবিল ডে। সারাদিন ধরে যে কোনও শাক সবজি দিয়ে খাওয়া-দাওয়া সারতে পার। তবে কোনও তেল- মশলাযুক্ত তরকারি চলবে না কিন্তু। কাঁচা,সেদ্ধ বা সুপ বানিয়ে এই সবজি খাবে তুমি। বিন্স, লাউ, গাজর, লেটুস, শসা, বাঁধাকপি দিয়েই সাজানো থাকবে এইদিন তোমার খাবার থালা। সঙ্গে আট থেকে দশ গেলাস পানির কথা ভুললে চলবে না।

তৃতীয় দিন

এইদিন হল কম্বিনেশন ডায়েটের দিন। ফল-সবজি দুই-ই খেতে হবে এইদিন। সকালে ফ্রুট ডায়েট করে লাঞ্চে শাক-সবজি খেতে পার। আবার বিকেলে ফলাহার করে ডিনারে ফের সবজির এন্ট্রির পালা। তবে সবজিতে আলু আর ফলে কলা, এই দু’জনকে এড়িয়ে চলতে হবে।

চতুর্থ দিন

এই দিনটা তোলা থাকবে দুধ এবং কলার নামে। খিদে মেটাতে সারাদিন এরাই থাকবে তোমার ভরসা। সকালে দু’টো কলা আর এক গ্লাস দুধ দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারবে। লাঞ্চেও তাই। চাইলে একটা কলা আর এক গ্লাস দুধ বেশি খেতে পার। বিকেলে একটা কলা আর এক গ্লাস দুধ। রাতে আবার লাঞ্চের মেনুটাই রিপিট করবে।

পঞ্চম দিন

এই দিন সকালে কর্নফ্লেক্স আর দুধ দিয়ে দিন শুরু করে লাঞ্চে এবং ডিনারে এক কাপ ভাত খেতে পার। বিকেলে একটা বড় পেয়ারা চলতে পারে। তবে সারাদিন যখন সময় পাবে কাঁচা টম্যাটো খাবে। অন্তত আধ ডজন যেন খাওয়া হয় দিনে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর দিনভর পানি খাওয়ার পরিমাণ আট গ্লাস থেকে বাড়িয়ে বারো থেকে পনের গ্লাস পর্যন্ত করে ফেলতে হবে।

ষষ্ঠ দিন

এইদিনও লাঞ্চে এক কাপ ভাত রাখতে পার। সঙ্গে সেদ্ধ সবজি। সকালে-বিকেলে অবশ্য ফল দিয়ে আহার সারতে হবে। ডিনারে লাঞ্চের মেনুটাই রিপিট করতে পার। সঙ্গে পানি খাও অন্তত ১২ গ্লাস।

সপ্তম দিন

অদ্য শেষ রজনী থুড়ি শেষ দিন! ফ্ল্যাট পেট পেতে তুমি আর হাত দু’য়েক দূরে বলতে পার। তা কেমন হবে এইদিনের ডায়েট প্ল্যান? এইদিন লাঞ্চে এবং ডিনারে এক কাপ ভাত সঙ্গে অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করা মশলাহীন সবজি চলতে পারে। সকালে এবং বিকেলে ফল এবং ফলের রস তোমার মেনুতে এইদিন রাখতে হবে। সঙ্গে অবশ্যই আট থেকে ১২ গ্লাস পানি।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top