সময় বাঁচানোর ৭ উপায়

১. সহজ কাজগুলো আগে শেষ করুন
সহজ কাজগুলো আগে শেষ করুন। বড় একটি কাজ করবেন বলে ছোট কাজগুলো করা বাদ দেবেন না। এতে সব কিছু গুলিয়ে যেতে পারে। সব কিছু আবার নতুন করে করতে হবে। কাজেই ছোটখাটো কাজও একসঙ্গে দুটো করতে যাবেন না।
২. জটিল কাজগুলো কয়েকটি অংশে ভাগ করে নিন
যাদের চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো করতে হয়, তারা যদি কাজের মধ্যে দু’মিনিট বিরতি দিয়ে ভিন্ন কিছু করে তবে তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ে। গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাঝখানে সামান্য বিরতি দিয়ে হালকা কাজ করলে কর্মচাঞ্চল্য ও স্পৃহা ফিরে আসে। একটি কঠিন কাজ থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিয়ে তা আবার শুরু করলে এর মধ্যে বাদ পড়া দিকগুলো যেমন নতুন করে চোখে পড়ে, তেমনি কাজেও হারানো উদ্যম ফিরে আসে।
৩. ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্ক হোন
বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে যে কোনো বিষয়ে ছবি, তথ্য ও ভিডিও সংগ্রহ করা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক সহজ। তবে তথ্যপ্রবাহের অবাধ যুগে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ একদিকে যেমন সময়ের অপচয় ঘটায়, অন্যদিকে অতিরিক্ত তথ্যপ্রবাহ মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া লিঙ্কডইন, ফেসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীদের সময়ের অপচয় ঘটাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো একটি বিষয়ে নিয়ে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য আজকাল মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশিসংখ্যক সাইট ভিজিট করে। সেজন্য কাঙ্ক্ষিত তথ্যের পরিমাণ সম্পর্কে আগেই ধারণা পরিষ্কার করে নিতে হবে।
৪. কাজের তালিকা নয়, ক্যালেন্ডার সঙ্গে রাখুন
সময়ের সঠিক সদ্ব্যবহারের জন্য অনেক বিশেষজ্ঞই করণীয় কাজের একটি তালিকা নিজের সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটখাটো কাজগুলো ছাড়া এই তালিকা খুব একটা কাজে আসে না। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত তালিকার বড় কাজগুলো অসমাপ্ত রেখে একটি দিন পার করে। তাই ক্যালেন্ডার হিসাব করে কাজকে ভাগ করে নিন।
৫. সুবিধা-অসুবিধা বোঝার চেষ্টা করুন
ই-মেইল, টেলিফোন কল এবং অপ্রয়োজনীয় অনুরোধ সবচেয়ে বড় সময় নষ্টকারী। যখন আমাদের তথ্য প্রয়োজন তখন কিন্তু অন্যরা আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করে না। তাই পরামর্শ হলো, তথ্য টানুন, ঠেলবেন না। তথ্যকে না ঠেলে কীভাবে টানতে হবে? সারাক্ষণ মেইল চেক করার দরকার নেই। যেমন প্রতি তিন বা চার ঘণ্টা পর একবার দেখলেন। ই-মেইল সিগনেচার তৈরি করে জানিয়ে দিন যে, আপনার পক্ষে এত মেইল চেক করার সময় নেই। একই কথা মিটিংয়ের বেলাতেও। সবার আগে দেখুন ওই মিটিংয়ে অংশ নেওয়া আপনার জন্য জরুরি কি-না।
৬. পছন্দের তালিকা সীমিত করুন
জীবিকা নির্বাহের জন্য খুব বেশি বিকল্প বাছাই সুযোগ সবার থাকে না। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিকল্পের সংখ্যা সীমিত রাখা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সময় বাঁচাতে ঠিক করে নিয়েছেন, তিনি বাসায় নীল অথবা ধূসর রং পরবেন। খুব বেশি বিকল্প নিয়ে কাজ করতে গেলে সময় বেশি নষ্ট হয়। কাজেই কোন কাজ আগে করবেন, কোনটা পরে করবেন তা আগে থেকেই স্থির করে নিন।
৭. আগের রাতে ভেবে রাখুন
ভালো সময় ব্যবস্থাপনার জন্য রাতে ভালো ঘুম হওয়া প্রয়োজন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরের দিনের কর্মসূচি নিয়ে একটু ভাবুন। ঘুমন্ত অবস্থায়ও মস্তিষ্ক জাগ্রত থাকে এবং জেগে থাকা অবস্থায় যা ভাবি আমরা তা নিয়ে কাজ করি। তাই পরের দিনের কর্মসূচি নিয়ে চিন্তা করলে মস্তিষ্কে তার ছাপ রয়ে যাবে। তবে ঘুমাতে যাওয়ার আগে জটিল কর্মসূচি নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top