মুনা রহমান- কোথা যাও নাচি নাচি!!

ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি ঝোঁক মুনার। পুরো নাম মুনা রহমান। ছোটবেলায় কোন অনুষ্ঠান দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়তেন স্টেজের সামনে। উৎসুক নয়নে দেখতেন স্টেজের নৃত্য শিল্পীদের। এর মধ্যেই ঘটলো জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়া সেই ঘটনা!!

তখন তার বয়স পাঁচ কি ছয় হবে, স্কুলে তখনও ভর্তি হননি। মার সাথে গিয়েছিলেন স্কুল মাঠে একটি অনুষ্ঠান দেখতে। সেখানে একটি নাচের পারফর্মেন্স এর পরেই ছোট্ট মুনা রহমান প্রচণ্ড বায়না ধরেছিলেন স্টেজে উঠবেন বলে। কান্নাকাটি করে সে এক উদ্ভট অবস্থা। মা মেয়েকে সামলাতে, স্টেজে উঠিয়ে তারপর শান্ত করিয়েছিলেন। সেই শুরু………!!!

1

বয়স যখন ৭

মুনার বয়স যখন সাত তখন তিনি ক্লাস টুতে। নাচের প্রতি মেয়ের এই আগ্রহ মা বুঝতে পারলেন। তারা তখন টঙ্গি থাকেন। সেখানে কোন ভালো নাচ শেখার একাডেমি ছিল না। তাই মুনার মতো আরও মেয়েদের নাচ শেখাতেই তার মায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হল “খেলাঘর” টঙ্গি শাখা। তবে মুনার নৃত্যে হাতেখড়ি খেলাঘর থেকে হয়েছিলো, এটা ভাবলে ভুল করবেন । মুনার হাতেখড়ি তার মার কাছ থেকেই। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, ডুবে ছিলেন কঠোর পরিশ্রম আর সাধনার উপর।

পথ চলা শুরু

ক্লাস ফোরে পড়ার সময়, ভর্তি হয়েছিলেন “বুলবুল ললিত কলা একাডেমী–বাফাতে”। কিন্তু ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষার জন্য বন্ধ করে দিতে হয়েছিলো “বাফার” ক্লাস। এরপর আরও দুবার ভর্তি হয়েছিলেন বাফাতে। কিন্তু কখনোই শেষ পর্যন্ত চার বছর চালিয়ে যেতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২ বছর চালিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত এস.এস.সি. পরীক্ষার জন্য একেবারেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কারণ তার কাছে সর্বপ্রথম পড়ালেখা তারপর অন্য সবকিছু। তিনবারের কখনই পুরো কোর্স সম্পূর্ণ শেষ করতে পারেননি বলে বাফা থেকে সার্টিফিকেটও পাননি।

 

শুরুর দিকের একটি মজার ঘটনা……।

খেলাঘরের পক্ষ থেকে একবার একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হল। একটা বক্স ভর্তি চিরকুট থাকবে। সেই চিরকুট গুলোতে লিখা থাকবে নাচ, গান, অভিনয়…. ইত্যাদি ইত্যাদি। আর সামনে বসে থাকবেন দেশের নামকরা সব পরিচালক। একে একে মুনা রহমানের ডাক চলে এলো। প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রবেশ করলেন তিনি। তার লটারি ভাগ্যে পড়লো একক অভিনয়। নৃত্য শিল্পী করবেন অভিনয়!! তিনি পিছু হটলেন না। স্বাভাবিক ভাবে অভিনয় শেষ করে বেরিয়ে এলেন। দেখতে দেখতে ফলাফল প্রকাশের সময় হয়ে এলো। সর্বপ্রথম ঘোষিত হল মুনা রহমানের নাম!! বিচারকদের কাছ থেকে নিলেন “প্রথম পুরস্কার” খোদাই করা ক্রেস্ট।

গল্প এখানেই শেষ নয়, একজন বিচারক তার অভিনয়ে মুগ্ধ হলেন। অনুরোধ জানালেন বড় পর্দায় অভিনয় করবার জন্য। কিন্তু মা কিংবা বাবা, কেউই রাজি না হওয়ায় নায়িকা আর হয়ে উঠা হয়নি। এই জন্য তার কোন আফসোস নেই, নেই কোন আক্ষেপ।

23

এক নজরে মুনা রহমান

শুরুতেই জেনে নেয়া যাক তার কিছু গুণের কথা। অবসরে তিনি বই পড়েন, গান করেন, আড্ডা দেন আর ঘুরেন। কিন্তু সব কিছু ছাড়িয়ে তার মন জুড়ে আছে নৃত্য। সর্বপ্রথম নাচে হাতেখড়ি মার কাছে হলেও পরবর্তীতে যোগ দেন খেলাঘরে। খেলাঘর থেকেই তিনি পুরো তালিমের বেশির ভাগটাই অর্জন করে নেন। তারপর তিনি নৃত্য পরিচালক “আজিজ রেজা”র কাছ থেকে দীক্ষা নেন। পড়ালেখার পাশাপাশি চালিয়ে যান কঠোর সাধনা। এরপর টঙ্গি কলেজগেটের একটি একাডেমিতে শুরু করেন কোর্স। যদিও এখন তিনি আর সেখানে নাচ শেখেন না, শেখান!!!4

স্কুল, কলেজ আর ইউনিভার্সিটি লাইফের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন স্কুলে জীবনে। এখন ভার্সিটির ২ বছরের জীবনেও করেছেন ৫টি প্রোগ্রাম। শখ-আহ্লাদ ও চিন্তা-চেতনা যাই বলি না কেন, তার অনেকখানি জুড়েই রয়েছে নাচ। তার রক্তে মিশে আছে নৃত্য।

শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নাচ নিয়ে এতো মাতামাতি করলেও, পড়ালখা যে তার প্রথমে তা আগেই বলে দিয়েছেন। পড়ালেখাতেও তিনি কম এগিয়ে নেই। তিনি এস.এস.সি পাশ করেন “জানে আলম সরকার হাই স্কুল” থেকে। আর কলেজ ছিল “সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ”। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দুটোতেই তার রেজাল্ট ছিল প্রশংসনীয়। বর্তমানে তিনি5

International University Of Business Agriculture and Technology (IUBAT)-এ কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছেন। এখন তিনি ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্রী। গ্রাজুয়েশন শেষ করে তিনি নিজেই একটি ফার্ম দিতে চান। তিনি কোম্পানিকে সাজাতে চান নিজের মতো করে।

নাচ নিয়ে যত ভাবনা

একটি হাসি দিয়েই বলতে শুরু করলেন তার পরিকল্পনা। দুটো ব্যাপারে তার ব্যাপক আগ্রহ আছে। তবে সব কথাই নৃত্যকে জড়িয়ে। তার সব ধরনের নাচই ভালো লাগে। ক্লাসিক্যাল, ভরতনাট্যম, মনিপুরী, মডার্ন সবই ভালো লাগে তার। তিনি শিখতে চান ভরতনাট্যম আর মনিপুরী নৃত্য। তবে শেখা হয়নি এখনও। ইতিমধ্যে তিনি “তামান্না হকের” সাথে কথাও বলেছেন মনিপুরী নৃত্য শিখবেন বলে। খুব শীঘ্রই শুরু করতে যাচ্ছেন আরেক চ্যালেঞ্জ।

এভাবে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জকে জীবন চলার পাথেয় মেনে এগিয়ে যেতে চান তারুণ্যের এই প্রতিনিধি। বিডি ইয়ুথের জন্য মুনার ম্যাসেজ, “রঙিন স্বপ্ন এঁকে দাও নতুনের মনে”।

কমেন্টসমুহ
Secret Diary Secret Diary

Top